কাজল মণ্ডল, ইসলামপুর: ডালখোলা বাজার সর্বজনীন দুর্গা পুজোকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর চুড়ির মেলা বসে। নবমীর দিন এই মেলা থেকে স্থানীয় মহিলারা লাল চুড়ি কেনেন। তাতে দেবী দুর্গার সিঁদুর মাখিয়ে হাতে পরেন। প্রায় শতাব্দীকাল থেকে এই প্রথা চলে আসছে। পুজোকে কেন্দ্র করে ভোগ বৈচিত্র বিদ্যমান। অগ্নিমূল্যের বাজারে অষ্টমী পুজোর দিন পুরি, হালুয়া, নবমীতে খিচুড়ি ও দশমীতে ক্ষীর, পুরির ব্যবস্থা থাকে। প্রতি বছরের মতো এবারও মানুষ প্রসাদ গ্রহণ করতে পারবেন। ডালখোলা বাজার সর্বজনীন দুর্গা পুজা কমিটির এবারের পুজোর এবার ৯৬ তম বর্ষ।
পুজো কমিটির সভাপতি অরুণ খেতান বলেন, আমাদের পুজোর বাজেট করা হয় না। এবারও করা হয় নি। চাঁদা সংগ্রহের জন্য রেজিস্টার মেন্টেইন করা হয় না। স্থানীয়রা নিজেদের সাধ্য মতো দান করেন। তা দিয়ে নিয়মনিষ্ঠা সহ পুজো সম্পন্ন হয়। একেক দিনের পুজোর খরচের ভার একেকজন বহন করেন।
এক সময় ডালখোলা বিহার রাজ্যের অংশ ছিল। সেসময় এলাকায় দুর্গাপুজো হতো হতো না। তাই মারওয়ারি, বাঙ্গালি, বিহারী সহ সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষ মিলে দুর্গা পুজো করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পূর্ণিয়ার রাজা পি. সি লাল জমি দান করেছিলেন। সেই জমিতে মন্দির তৈরি হয়েছে। সেখানে নিয়মনিষ্ঠা সহ পুজো হয়ে আসছে। এটি ডালখোলার প্রথম দুর্গা পুজো বলে দাবি করেছেন অরুণবাবু।
নবমীর দিন এখানে চুড়ির মেলা বসে। দূর-দূরান্ত থেকে দোকানিরা নানান ধরনের কাচের চুড়ির পসরা নিয়ে হাজির হন। সধবা মহিলারা সেদিন কাচের চুরি কেনেন। তার মধ্যে ৯০ শতাংশই লাল চুড়ি। সেই চুড়িতে দেবীর সিঁদুর লাগিয়ে নিজেদের হাতে পরেন। এতে স্বামীর দীর্ঘায়ু ও সংসারে সুখ সমৃদ্ধি বজায় থাকে এমনটাই তাঁদের বিশ্বাস।
বাসিন্দারা বলছেন, ডালখোলা বাজারের এই মন্দিরের পুজোর সঙ্গে মানুষের আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। শহরের বিগ বাজেটের পুজোগুলিতে থিম ও চোখ ধাঁধানো আলোকসজ্জা রয়েছে। তবুও দর্শনার্থীরা একবার হলেও বাজারের মন্দিরে দেবীর দর্শনে আসেন। কারণ, এর সঙ্গে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস জড়িয়ে আছে। অনেকে মানত করেন। স্থানীয়দের বিশ্বাস, দেবী এখানে জাগ্রত। ভক্তিভরে মানত করলে দেবী দশভুজা কখনও নিরাশ করেন না। ফাইল চিত্র



