নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: শুশুনিয়ার দুই ভাইয়ের তৈরি পাথরের দুর্গা প্রতিমা যাচ্ছে কলকাতায়। মহানগরীর বালিগঞ্জ কসবা এলাকার এক বনেদি বাড়ির মন্দিরে ওই বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা হবে। ওই প্রস্তরমূর্তি চিন্ময়ীরূপে পূজিতা হতে চলেছে। শুশুনিয়ার বাসিন্দা পাথর শিল্পী মিলন ও ঝুলন কর্মকার ওই বিগ্রহ তৈরি করেছেন। ঝুলনবাবু বলেন, দুর্গা প্রতিমা তৈরি করতে তিন মাস সময় লেগেছে। তিন লক্ষাধিক টাকা পারিশ্রমিকের বিনিময়ে আমরা তা নির্মাণ করেছি। ইতিমধ্যেই কলকাতায় এক টন ওজনের ওই বিগ্রহ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে আরও বেশকিছু মূর্তি তৈরি করব। ইতিমধ্যেই বরাত পেয়েছি। শুশুনিয়ার পাথর শিল্পকে পশ্চিমবঙ্গ ও রাজ্যের বাইরে জনপ্রিয় করতে আমরা উদ্যোগী হয়েছি। লক্ষ্যপূরণ হলে স্থানীয় শিল্পীদের ভাগ্য পরিবর্তন হবে।
মাস চারেক আগে কলকাতার এক ব্যক্তি ফোন করে ঝুলনবাবুকে পাথরের দুর্গা প্রতিমা বানিয়ে দেওয়ার বরাত দেন। একটি ছবি তিনি শিল্পীদের দেখান। সেই ছবির অনুরূপ প্রতিমা তৈরি করার জন্য বলা হয়। সেইমতো রাজস্থান থেকে আনা পাঁচ টন মার্বেল পাথরের উপর শুরু হয় খোদাইয়ের কাজ। দেবী দুর্গা, অসুর ও সিংহ অর্থাৎ মহিষাসুরমর্দিনী বা সিংহবাহিনী বিগ্রহ একটি কাঠামোর মধ্যে রাখা হয়। বাহন সহ দেবীর চার ছেলেমেয়ে পৃথক পৃথকভাবে থাকে। এভাবেই শিল্পীরা তিলে তিলে আস্ত বিগ্রহ তৈরি করতে থাকেন। কিছুদিন অন্তর ছবি তুলে কলকাতার ওই বনেদি বাড়ির কর্তাদের পাঠাতে হয়। তাঁরা সবুজ সংকেত দেওয়ার পর পরবর্তী পর্যায়ে বিগ্রহ নির্মাণের কাজ এগোতে থাকে। শিল্পী মিলন কর্মকার বলেন, মার্বেল পাথরের তৈরি দেবী দুর্গার উচ্চতা সাড়ে পাঁচ ফুট। এর আগে আমরা ৪ফুট উচ্চতার দুর্গা প্রতিমা রায়গঞ্জে পাঠিয়েছি। দুর্গার পাশাপাশি আমরা অন্যান্য দেবদেবীর মূর্তি, মডেল তৈরি করে থাকি। বড়ো পাথর কেটে মূর্তি গড়তে অনেক পরিশ্রম করতে হয়।



