Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পাহাড়ে উঠে চারধাম দর্শন-রিকশচালক পিতা থেকে দর্পণে সমর্পণ, নানা থিমে রঙিন সোদপুরের পুজো

পাহাড়ে উঠে চারধাম দর্শন। দর্পণে মাতৃ আরাধনা। মাতৃপক্ষে পিতার প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য। এমন নানা থিমে সেজে উঠছে পানিহাটির একাধিক মণ্ডপ।

পাহাড়ে উঠে চারধাম দর্শন-রিকশচালক পিতা থেকে দর্পণে সমর্পণ, নানা থিমে রঙিন সোদপুরের পুজো
  • ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

বিশ্বজিৎ মাইতি, বরানগর: পাহাড়ে উঠে চারধাম দর্শন। দর্পণে মাতৃ আরাধনা। মাতৃপক্ষে পিতার প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য। এমন নানা থিমে সেজে উঠছে পানিহাটির একাধিক মণ্ডপ। থিমের শিল্পভাবনায় যেমন চমক তেমনই প্রতিমাতেও রয়েছে অভিনবত্ব। কোথাও দুর্গা আসছেন গ্রামের বধূর সাজে রিকশয় চেপে। কোথাও পাথর খোদাই করে তৈরি হয়েছে মূর্তি। কোথাও চিরায়ত রাজেশ্বরী রূপ। এছাড়া দর্শনার্থীরা মোহিত হবেন বাহারি আলোর বর্ণচ্ছটায়।

Advertisement

শহিদ কলোনি সর্বজনীন দুর্গোৎসবের থিম, পাহাড় যাত্রায় চারধাম দর্শন। কেদারধাম, বদ্রীনাথ, গঙ্গোত্রী ও যমুনোত্রী দর্শন করতে পাহাড়ে চড়তে হবে দর্শনার্থীদের। ধাম দর্শনের পাশাপাশি পাহাড় থেকে নেমে আসা জলস্রোত বিস্ময় তৈরি করবে। এরপর পাহাড়ি চড়াই উতরাই। শেষে আসবে গুহা। সুড়ঙ্গ পথ পেরিয়ে পৌঁছতে হবে মূল মণ্ডপে। গুহার আদলে তৈরি মণ্ডপে দুর্গা রয়েছেন। তাঁর পাথর কেটে তৈরি মূর্তি। এছাড়াও গুহার মধ্যে একাধিক দেবদেবীর মূর্তি। কমিটির কর্ণধার গোবিন্দ দাস বলেন, ‘শহিদ কলোনি প্রতিবছর দর্শনার্থীদের নতুন কিছু উপহার দেয়। বহু মানুষ একসঙ্গে চারধাম দেখার সুযোগ পান না। তাই ৭৬ বছরে আমাদের উপহার, পাহাড় যাত্রা।’
৭৬ বছরে পা দেওয়া পানশিলা ঠাকুরবাড়ি দুর্গোৎসবের থিম ‘শ্রীচরণেষু বাবা’। জগৎ সংসারে পরিবার ও সংসারের প্রতি পিতার দায়বদ্ধতা ও দায়িত্ব অপরিসীম। অথচ একসময়ের পর তাঁদের অনেকে হয়ে পড়েন ব্রাত্য। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের অনেকে সংসারে হয়ে ওঠেন সমস্যার কারণ। পৃথিবীর সমস্ত বাবা’কে সম্মান জানাতে পানশিলা পুজো এই উদ্যোগ নিয়েছে। মণ্ডপজুড়ে পরিবারের প্রতি বাবার দায়বদ্ধতার নানা ছবি। যা মন কাড়বে দর্শনার্থীদের। শৈশবে ছেলে-মেয়ের হাত ধরে সামাজিক শিক্ষা প্রদান, অপত্য স্নেহের পরশ, প্রথম সাইকেল শেখা, কোলে বসিয়ে পড়ালেখা করানো, সংসার চালাতে অমানুষের মতো পরিশ্রম, মেয়ের শ্বশুরবাড়ি যাত্রায় পিতার বুকফাটা চাপা কান্না, তীব্র অবসাদে বন্ধুর মতো সন্তানের কাঁধে হাত রেখে আগলে রাখার মতো নানা ছবি ফুটে উঠবে মণ্ডপের ছত্রে ছত্রে। সাড়ে তিন কুইন্টাল লোহার তৈরি চাদর, ৭০ কেজি ওয়াসার দিয়ে তৈরি বাবার মডেল ঘুরবে। যা প্রতীকীভাবে তুলে ধরবে সংসার প্রতিপালনে যন্ত্র মানবের মতো একজন মানুষের হাড়ভাঙা পরিশ্রম। প্রতিমাতেও অভিনবত্ব। রিকশয় দুই মেয়েকে নিয়ে বসবেন মা। রিকশ টানবেন বাবা। পাশে দাঁড়িয়ে দুই ছেলে সাহায্য করবেন। রিকশর চাকা আটকে থাকবে বাম্পারে। সেখানে মহিষের মুখ। পুজো কমিটির সম্পাদক সুকান্ত মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘দুর্গা, সরস্বতী ও লক্ষ্মীকে নিয়ে রিকশয় বসবেন। কার্তিক, গণেশ সহযোগিতা করবেন বাবাকে রিকশ টেনে নিয়ে যেতে। যুগে যুগে ছেলে-মেয়েকে মানুষ করতে পিতার আত্মত্যাগ-লড়াই মণ্ডপে তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্বের সমস্ত বাবার চরণে প্রণাম জানাতেই এই উদ্যোগ।’
নবোদয় সঙ্ঘের পুজো এবার ৭৫ বছরে পড়েছে। তাদের থিম ‘দর্পণে সমর্পণ’। কাচ দিয়ে সেজে উঠছে মণ্ডপ। মণ্ডপের সাজ তাক লাগাবে দর্শনার্থীদের বলে দাবি উদ্যোক্তাদের। দুর্গা আসবেন রাজকীয় সাজে। কমিটির কর্ণধার তীর্থঙ্কর ঘোষ বলেন, ‘মণ্ডপসজ্জা ও মায়ের রূপ দর্শনার্থীদের বিমোহিত করবে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ