শিবাজী চক্রবর্তী, কলকাতা: ভ্যাপসা গরম। গোলগলা কালো টি-শার্ট লেপ্টে শরীরে। তার উপর টাই-ব্রেকারের উত্তেজনা। হোসে মোলিনার উদ্বেগ বোঝা যাচ্ছিল দূর থেকেও। বিশালের গ্লাভসে খেতাব নিশ্চিত হতেই ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ল। বিশালকে কোচের আলিঙ্গনেই ডার্বির মুড লুকিয়ে। বারবার, আরও একবার টাই-ব্রেকারের বাদশা মোহন বাগান গোলরক্ষক। সবুজ-মেরুনের প্রাক্তন গোলরক্ষক শিবাজী ব্যানার্জি বেঁচে থাকলে নিশ্চয়ই এদিন তাঁকে দু’হাত ভরে আশীর্বাদ করতেন। শনিবাসরীয় যুবভারতীতে তাই কোচ হোসে মোলিনার আকাশ প্রদীপ মিস্টার কাইথই। তবে তাঁর কাজটা মোটেই সহজ ছিল না। তিরতিরে টেনশন, গ্যালারির প্রত্যাশা, মাঠের বাইরের চাপ। পরের পর প্রতিপক্ষকে রিংয়ের বাইরে ছিটকে দিলেন ‘দ্য ওয়াল’।
এই ম্যাচের ক্লিপিংস কি খালিদ জামিল দেখলেন? বিশালের জন্যই তাঁর দেখা উচিত। এবার কি তিনি বুঝবেন, গুরপ্রীতের প্রধান চ্যালেঞ্জার মোহন বাগানের গোলরক্ষকই, অমরিন্দর নন। তবে শিল্ড ফাইনালে সবাইকে অবাক করে মহেশ সিংকে সেরা বাছলেন আয়োজকরা। অনেকেরই ধারণা, সেই পুরস্কার বিশাল পেলেই তা যথাযথ হতো। ম্যাচের পর মাঠে ঢুকে তাঁকে জড়িয়ে ধরলেন সবুজ-মেরুন কর্তারা। দেওয়ালির আগে ব্যাগ বোঝাই গলদা চিংড়ি পাঠিয়ে দেওয়া উচিত গোলরক্ষকের ফ্ল্যাটে। বিশাল বললেন, ‘সমর্থনের জন্য অনুরাগীদের ধন্যবাদ। টাই-ব্রেকারের আগে আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। এর আগেও এমন পরিস্থিতি সামলেছি। তাই টেনশন ছিল না।’ ম্যাচের পাশাপাশি নজর ছিল মোহন বাগান গ্যালারির দিকেও। শিল্ড জিতে আনন্দের পাশাপাশি রয়েছে এক আকাশ স্বস্তি।
যুবভারতীতে শিল্ড ফাইনাল। হাই-ভোল্টেজ ডার্বিতে দুই স্প্যানিশ কোচের ডুয়েল। টাই-ব্রেকারে বিশালকে টেক্কা দিতে দেবজিৎকে নামিয়ে দিয়েছিলেন অস্কার ব্রুজোঁ। গিল তখন সেট। চনমনে বডি ল্যাঙ্গুয়েজ। অস্কারের বোঝা উচিত, গিমিক দিয়ে জেতা যায় না। আসলে সিলেবাসের বাইরে প্রশ্ন আসতেই স্প্যানিশ কোচ ঘেঁটে ঘ। টাই-ব্রেকার সবসময় ফিফটি-ফিফটি। কিন্তু বিন্দুমাত্র পরিকল্পনা ছিল না অস্কারের চালে। গোয়ানিজ জয় গুপ্তার প্রথম ডার্বি। তাকেই দুম করে কিক নিতে পাঠালেন। কথায় কথায় ক্লোজড ডোর ট্রেনিংয়ের ফল বিগ জিরো। ডুরান্ড কাপের পর মুখ পুড়ল শিল্ডেও। অজান্তেই নিজের উপর চাপ বাড়াচ্ছেন অস্কার ব্রুজোঁ। এটা ভারতীয় ফুটবল। এখানে কোনও কিছুই স্ট্যাটিক নয়। তাই সুপার কাপের আগে প্রেসার কুকারে ঢুকে পড়লেন ইস্ট বেঙ্গল কোচ।