নর্থইস্ট-০ : মোহন বাগান-০
নর্থইস্ট-০ : মোহন বাগান-০
(টাই-ব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জয়ী মোহন বাগান)
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘কউন বাঁচায়া আপনা নাইয়া? বিশাল ভাইয়া, বিশাল ভাইয়া!’ মোহন বাগান গ্যালারির চেনা স্লোগান কাঁটা হয়ে বিঁধল নর্থইস্ট ইউনাইটেডকে। বৃহস্পতিবার ডুরান্ড কাপের সেমি-ফাইনালে টাই-ব্রেকারে পেড্রো বেনালি-ব্রিগেডকে বধ করে খেতাবি লড়াইয়ে মোহন বাগান। নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্যের পর শিলংয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে শ্যুট-আউটে ৪-৩ ব্যবধানে বাজিমাত সবুজ-মেরুনের। অর্থাৎ, সুপার সানডেয় যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মেগা কলকাতা ডার্বি!
২০২৪ সালে ডুরান্ড কাপ ফাইনালে এই নর্থইস্টই যুবভারতীতে কাঁদিয়েছিল বাগান সমর্থকদের। সেদিন টাই-ব্রেকারেই বাজিমাত করেন গুরমিতরা। বৃহস্পতিবার শিলংয়ে মধুর প্রতিশোধ পানোস-ব্রিগেডের। পেনাল্টি শ্যুট-আউটে নায়ক বিশাল কাইথ। তাঁর হাতেই বধ বেনালির দল। শ্যুট-আউটে রবিন যাদব এবং পার্থিব গোগোইয়ের চতুর্থ ও পঞ্চম শট দুরন্ত সেভ করে দলকে ফাইনালে তুললেন। মোহন বাগানের হয়ে লক্ষ্যভেদে সফল রাহুল ভেকে, শুভাশিস, লিস্টন ও ম্যাকলারেন। এদিন ম্যাচ দেখতে যাওয়ার সময় শিলংয়ে স্থানীয়দের কাছে আক্রান্ত হয়েছিলেন কয়েকজন বাগান সমর্থক। বিশালদের জয় জ্বালা মেটাল তাঁদেরও।
গত কয়েকদিন ধরেই মুষলধারায় বৃষ্টি! শিলংয়ের নেহরু স্টেডিয়াম যেন সুইমিং পুল। সেখানে ৯০ মিনিট ধরে ফুটবল তো নয়, যেন ‘ওয়াটার ফ্রিসবি’ চলল। শুধু বল ওড়ানোর খেলা! মাটিতে বল বারবার থমকে গেল। মোহন বাগানের গ্রিক কোচ পানোস দল সাজিয়েছিলেন ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে। স্ট্রাইকারে মনবীর। দুই উইংয়ে কিয়ান ও লিস্টন। আর ফিডারের ভূমিকায় সাহাল। চেনা পরিবেশে শুরুতে অবশ্য নর্থ ইস্টেরই আধিপত্য ছিল। তাদের ‘আশ্চর্য প্রদীপ’ আলেদাইনের প্রচেষ্টা ২১ মিনিটে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। গতির বিপক্ষে ২৪ মিনিটে কিয়ানও সহজ সুযোগ নষ্ট করেন। ডান দিক থেকে কাট করে ঢুকে ফাঁকায় দাঁড়িয়ে থাকা সাহালকে বল না বাড়িয়ে নিজেই শট নিলেন। যা প্রত্যাশিতভাবেই লক্ষ্যভ্রষ্ট। তার কিছুক্ষণ পর ফ্রি-কিক থেকে লিস্টনের শট কোনোক্রমে সেভ করে দলের পতন রোখেন গুরমিত। ৪৩ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে সাহালের দূরপাল্লার শটও রুখে দেন নর্থইস্ট গোলরক্ষক।
দ্বিতীয়ার্ধেও খেলার চিত্র বদলায়নি। জল জমা মাঠে গগনে গগনে ফুটবল! তারমধ্যে ৬৩ মিনিটে রিডিমের ক্রসে পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ মোরালেস। অবস্থা বেগতিক থেকে ঝুলি থেকে একের পর এক অস্ত্র বের করেন বাগান কোচ পানোস। সাহাল ও কিয়ানকে তুলে মাঠে নামান অনিরুদ্ধ থাপা ও জেমি ম্যাকলারেনকে। মিগুয়েল ও ছাংতেকেও পরিবর্ত হিসেবে নিয়ে আসেন। মোহন বাগানের জার্সিতে এই ম্যাচে দু’জনেরই অভিষেক ঘটল। কিন্তু জলজমা মাঠে মিগুয়েলের সাম্বা ম্যাজিক উধাও। ছাংতের চোরাগতিও দেখা গেল না। নির্ধারিত ৯০ মিনিটেও স্কোরলাইন গোলশূন্য। অগত্যা ম্যাচ গড়াল টাই-ব্রেকারে। এই পর্বে গোলরক্ষক বিশাল কাইথের মাস্টারক্লাসে বাজিমাত মোহন বাগানের।
মোহন বাগান: বিশাল, অভিষেক, রাহুল, আলবার্তো, শুভাশিস, আপুইয়া, জেলকোভিচ (মিগুয়েল), সাহাল (থাপা), লিস্টন, কিয়ান (ম্যাকলারেন), মনবীর (ছাংতে)।