অশোক কুমার: পাকিস্তানকে দাপটে হারিয়ে হকি বিশ্বকাপে পরের রাউন্ডে পৌঁছেছে ভারত। হরমনপ্রীতদের নিয়ে অনুরাগীদের উন্মাদনা তুঙ্গে। প্রাক্তন হকি খেলোয়াড় হিসাবে আমরাও গর্বিত। তবে আত্মতুষ্ট হলে চলবে না। দেশবাসীর প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যে টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলিতেও সেরাটা উজাড় করে দিক ক্রেগ ফুলটন ব্রিগেড।
এর আগে মাত্র একবারই বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত। ১৯৭৫ সালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে ২-১ গোলে হারিয়ে খেতাব জিতছিলাম আমরা। ফাইনালে শুরুতে পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়িনি। সুরজিৎ সিং সমতা পর জয়সূচক গোলটি ছিল এই অধমের। সমর্থকদের বিশ্বাস এবারও ম্যাজিক দেখাবে ভারতীয় দল। তবে জটিল সূচি পর্যালোচনা করে মনে হচ্ছে, কাজটা সহজ নয়। গ্রুপ ‘ডি’তে প্রথম, দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে যথাক্রমে ইংল্যান্ড ও ভারত। মূলপর্বে পুল ‘ই’তে রয়েছে এই দুই দল। এখানে তাদের প্রতিপক্ষ ‘এ’ গ্রুপের সেরা দু’টি দল নেদারল্যান্ডস ও আর্জেন্তিনা। গ্রুপ ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ২-৪ পরাস্ত হয়েছিল ফুলটন ব্রিগেড। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী সেই ম্যাচের পয়েন্ট ক্যারি ফরোয়ার্ড হচ্ছে। অর্থাৎ ভারতকে হারানোর সুবাদে ৩ পয়েন্ট ঝুলিতে নিয়ে মূলপর্বে অভিযান শুরু করবে ইংল্যান্ড। অন্যদিকে, ভারতের পয়েন্ট আপাতত শূন্য। অর্থাৎ সেমি-ফাইনালে পৌঁছাতে গেলে নেদারল্যান্ডস ও আর্জেন্তিনার বিরুদ্ধে জিততেই হবে অভিষেক, হার্দিকদের। ড্র করলেও কার্যত বিদায়। তবে আশা ছাড়তে রাজি নই। আত্মবিশ্বাসে টগবগ করছে কোচ ফুলটনের ছেলেরা। স্কোয়াডের ভারসাম্যও দুর্দান্ত। এই দলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সব মশলাই মজুত। বুদ্ধি করে স্কুপ শটের ব্যবহার করছে জার্মানপ্রীতরা। অল্প সময়ে প্রতিপক্ষের ডি’বক্সে পৌঁছানোর এটাই সহজ রাস্তা। রক্ষণ জমাট রাখতে পারলে সেমি-ফাইনালের টিকিট পেতেই পারে ভারতীয় দল।
লেখক বিশ্বকাপ জয়ী ভারতীয় দলের সদস্য ও ধ্যানচাঁদের পুত্র।