সংবাদদাতা, কাটোয়া: দোল উৎসবকে ঘিরে প্রত্যেক বছর দুই বাংলার পুণ্যার্থীদের মিলন মেলায় পরিণত হয় কাটোয়ার বিকিহাটের বিশ্বশুক মঠ। তবে এবারে সেই মিলন মেলায় ভাটার টান। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রচুর ভক্ত সমাগম হলেও বাংলাদেশ থেকে এবার মাত্র দু’ জন ভক্ত এসেছেন। জানা গিয়েছে, ভিসা না পাওয়ায় অনেকেই ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও এবার আসতে পারেননি। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে উৎসব। বাংলাদেশের বাগমারি থেকে আসা রবীন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী, সুধীর রায় বলেন, আমরা প্রতিবছর দোল উৎসবে কাটোয়ায় শুকদেব বাবার আশ্রমে আসি। এখানেই আমরা দোল উৎসব পালন করি। এবার বাকি ভক্তরা ভিসা না পাওয়ার কারণে আসতে পারলেন না। তাঁদের ভারতে আসার জন্য ভিসা দিচ্ছে না বাংলাদেশ সরকার।
আশ্রম সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯৪৬ সালে অবিভক্ত বাংলার কাটোয়া শহরের পাশে বিকিহাট চত্বরে বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ থেকে শুকদেব ব্রহ্মচারী নামে এক বৈষ্ণব সাধক এসে এই মঠ প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁকে অবতারও বলা হয়। মঠের নামকরণ হয় ওই সাধকের নামানুসারে বিশ্বশুক মিলন মঠ। ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের পাশাপাশি নানা সামাজিক কাজেও শুকদেব বাবা তাঁর ভক্তকুলকে উৎসাহিত করায় তিনি এলাকায় পরিচিতি লাভ করেন। ধীরে ধীরে হিন্দু ধর্মের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মের মানুষদের কাছেও বিশ্বশুক মঠ হয়ে ওঠে মিলনক্ষেত্র। শুকদেব বাবা কাটোয়ার বিকিহাটের মানুষের কাছে হয়ে ওঠেন পরিত্রাতা। সকলেই তখন বিপদে আপদে শুকদেব বাবার স্মরণাপন্ন হতেন। তিনি মানুষের বিপদে আপদে পাশে দাঁড়াতেন। বিশ্বশুক মঠের বর্তমান কর্ণধার শুকানন্দ মহারাজ জানান, শুকদেব বাবা এপার বাংলায় মূলত হিন্দুধর্ম প্রচারে এসেছিলেন। এদেশে এসে তিনি হুগলির ইছাপুরে এসে ওঠেন। তারপর কাটোয়ার বিকিহাটে তাঁর আশ্রম গড়ে তোলেন। প্রতি বছর দোল উৎসবে আমাদের আশ্রমে দুই বাংলা মিলিয়ে প্রায় লক্ষাধিক ভক্তের সমাগম হয়।
মূলত চারদিন ধরে কৃষ্ণের নাম, পালাকীর্তন, পূজার্চনা থেকে শুরু করে নানা ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান হয়। এদিকে মঠের ভক্ত হীরক বিশ্বাস বলেন, দোল পূর্ণিমায় চারদিন ধরে নানা ধর্মীয় আচার, অনুষ্ঠান হয়। এখানে দুই বাংলার মানুষের হৃদয়ের মিলন ঘটে। যাতে এই আশ্রমকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা যায়, তারজন্য আমরা প্রশাসনকেও জানিয়েছি। এবার বাবার তিরিশ বছরের বেশি সময় ধরে গড়ে তোলা মন্দিরের উদ্বোধন হবে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, শুকদেব বাবার আশ্রম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য রাজ্য পর্যটন দপ্তরের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এবারও শুকদেব বাবার আশ্রমের বাইরে তৃণমূল ও বিজেপি দুই দলেরই শিবির হয়েছে।



