Bartaman Logo
৩ জুন, ২০২৬

৫ বছর পর চীনা নাগরিকদের ভিসা, মৈত্রীর বার্তা ভারতের

শত্রুতা শেষ। এবার বন্ধুত্ব। ৫ বছর বন্ধ থাকার পর আবার চীনের নাগরিকদের জন্য ভারতের ভিসার দরজা খুলে দেওয়া হচ্ছে। কথা ছিল চীনের পণ্য বয়কট করা হবে চিরতরে।

৫ বছর পর চীনা নাগরিকদের ভিসা, মৈত্রীর বার্তা ভারতের
  • ২৪ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: শত্রুতা শেষ। এবার বন্ধুত্ব। ৫ বছর বন্ধ থাকার পর আবার চীনের নাগরিকদের জন্য ভারতের ভিসার দরজা খুলে দেওয়া হচ্ছে। কথা ছিল চীনের পণ্য বয়কট করা হবে চিরতরে। বাস্তবে চীন থেকে আমদানির হার বিগত ৫ বছরে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে। পৌঁছেছে ১২ হাজার ৬০০ কোটি ডলারে। বিগত আর্থিক বছরে চীন ও ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি প্রায়  ১০ হাজার কোটি ডলার। অর্থাৎ, চীন ভারত থেকে নামমাত্র পণ্য আমদানি করছে। ভারত সেই তুলনায় বিপুল পণ্য আমদানি করে। ২০২০ সালে ভারতের মাটিতে প্রবেশ করেছিল চীন। লাদাখে যা নিয়ে তুমুল সংঘাত হয়েছে। অপারেশন সিন্দুরের সময় চীন প্রকাশ্যে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ায়। চীনে বিগত পাঁচ বছরে কোনও উচ্চপর্যায়ের সফর হয়নি। সদ্য সেই বরফ গলেছে। সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের বিদেশমন্ত্রী স্তরের সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়েছিলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি সব দূরত্ব ভুলে মৈত্রীর আহ্বানে দুই দেশকে একজোট হওয়ার বার্তা দিয়েছেন। এবার আরও একধাপ এগিয়ে আজ ২৪ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে চীনের নাগরিকদের ভিসা প্রদান। পাঁচ বছর বন্ধ থাকার পর নাগরিকদের যাতায়াতের উপর থাকা প্রতিবন্ধকতা উঠে গেল। সাংস্কৃতিক আদানপ্রদানও শুরু হবে। 

Advertisement

প্রশ্ন উঠছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রাসী কূটনীতির জেরেই কি এই অক্ষবদলের সমীকরণ? রাশিয়া অনেক দিন থেকেই চাইছে যাতে ভারত, রাশিয়া, চীন একই অক্ষে থাকে। আমেরিকার আমদানি শুল্ক সংক্রান্ত কঠোর নীতির জেরে বিশ্ববাণিজ্য পরিবেশ একপ্রকার টালমাটাল। ভারত, রাশিয়া, চীনে সকলকেই আমেরিকার প্রায় একই সুরে হুঁশিয়ারি দিচ্ছে। যা নিয়ে বিরোধীরাও প্রশ্ন তুলছে। রাহুল গান্ধী বুধবারও সংসদ ভবনে প্রশ্ন করেছেন, প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথার কোনও জবাব দেন না কেন? এ পর্যন্ত ট্রাম্প অন্তত ২৫ বার বলেছেন, তিনি নাকি ট্রেড ডিলের শর্তে যুদ্ধ থাকিয়ে দিয়েছেন। তাছাড়া মাঝেমধ্যেই হুমকি দেন নানাবিধ বিষয়ে। মোদিজি এত দুর্বলতা দেখাচ্ছেন কেন? রহস্য কী? 
বিরোধীদের এই আক্রমণের আবহে ভারত সরকার হঠাৎ চীন সম্পর্কে যেন কিছুটা নরম মনোভাব গ্রহণ করেছে। এমনকী এরকমও আভাস পাওয়া যাচ্ছে যে, এই বছরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চীন সফরে যেতেও পারেন। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সম্প্রতি মৈত্রী সম্পর্কের স্বর্ণযুগ ফিরিয়ে আনার বার্তা দিয়ে এসেছেন। এর প্রথম ধাপ ভিসা প্রদান। 

সম্পর্কিত সংবাদ