রায়পুর: নারীর কুমারিত্ব পরীক্ষা সম্পূর্ণভাবে অসাংবিধানিক। কারণ এই ধরনের কার্যকলাপ সংবিধানের ২১ নম্বর ধারাকে লঙ্ঘন করে। নাগরিকদের জীবন, ব্যক্তি স্বাধীনতা ও সম্মানের সঙ্গে বাঁচার অধিকার প্রদান করে এই ধারা। একটি মামলার শুনানিতে এমনটাই জানিয়েছে ছত্তিশগড় হাইকোর্ট।
আদালত সূত্রে খবর, হিন্দুমতে ২০২৩ সালের ৩০ এপ্রিল বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন ছত্তিশগড়ের এক দম্পতি। কিন্তু, কোরবা জেলার উরগা তহশিলের বাসিন্দা ওই মহিলা অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামী সন্তান উৎপাদনে অক্ষম। তাই তিনি একসঙ্গে থাকতে চান না। রায়গড়ের পারিবারিক আদালতে মাসিক ২০ হাজার টাকা খোরপোশের দাবিতে মামলা দায়ের করেন তিনি। পাল্টা স্বামী জানান, বিয়ের পর থেকে তাঁদের মধ্যে কোনও শারীরিক সম্পর্ক হয়নি। তাছাড়া, এক আত্মীয়ের সঙ্গে স্ত্রীর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কও রয়েছে। তাই মহিলার দাবিকে মিথ্যা প্রমাণে ভার্জিনিটি টেস্ট বা কুমারিত্বের পরীক্ষা করা হোক। যদিও পারিবারিক আদালত তাঁর আর্জি নস্যাৎ করে দেয়। তারপরই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ওই ব্যক্তি। এদিন বিচারপতি অরবিন্দ কুমার ভার্মার এজলাসে এই মামলার শুনানি ছিল। সেখানে পারিবারিক আদালতের রায়ই বহাল রাখা হয়। পর্যবেক্ষণে বিচারপতি জানিয়েছেন, স্বামী তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে কুমারিত্ব পরীক্ষার দাবি জানিয়েছিলেন। এই দাবি সংবিধানের ২১ নম্বর ধারার পরিপন্থী। কারণ ওই ধারায় সম্মানরক্ষার অধিকারের কথা বলা হয়েছে। কোনও মহিলাকে কুমারিত্ব পরীক্ষার বসতে বাধ্য করা যায় না। এব্যাপারে ঝাড়খণ্ড সরকার বনাম শৈলেন্দ্র কুমার রাই মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায়েরও উল্লেখ করেন তিনি।