রাঁচি: মহেন্দ্র সিং ধোনির শহরে আবেগের কেন্দ্রে বিরাট কোহলি। নেটে ব্যাট হাতেই হোক বা ক্যাচিং প্র্যাকটিস, অথবা ফুটবল পায়ে গা-ঘামানো, ক্যামেরার ফোকাসে শুধুই তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে একদিনের সিরিজ শুরু রবিবার। টেস্ট সিরিজে ভরাডুবির যন্ত্রণা লাঘবের মঞ্চ হিসেবে দেখা হচ্ছে এই লড়াইকে। তেম্বা বাভুমাদের সুদে-আসলে হিসেব বুঝিয়ে দিতে ক্রিকেটপ্রেমীদের ভরসা কোহলির উপরেই। স্টেডিয়ামের সামনে রাস্তায় বিরাটের কাটআউট হাতে অনুরাগীদের উন্মাদনাতেই তা স্পষ্ট। স্বয়ং ভিকে নিজেও এই আস্থার মর্যাদা রাখতে মরিয়া। আগের মতোই ছিপছিপে তিনি। চোখে-মুখে পুরনো সঙ্কল্প। অস্ট্রেলিয়া সফরে শেষ একদিনের ম্যাচে বড় রান পাওয়া নিশ্চিতভাবে আত্মবিশ্বাস বাড়াবে তাঁর।
রোহিত শর্মার ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য। সিডনি ওডিআই’তে শতরান করে দলকে জেতান তিনি। সেই ছন্দে এই সিরিজেও ব্যাট হাতে ধুন্ধুমার চালাতে চাইবেন হিটম্যান। নেটেও তেমন ইঙ্গিত। একের পর এক বড় শট নিতে দেখা গেল তাঁকে। তাঁর ব্যাটিং হাঁ করে গিলল টিম ইন্ডিয়ার তরুণ ব্রিগেড। অধিনায়ক শুভমান গিল ও সহ-অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ারের অনুপস্থিতিতে তিন ম্যাচের সিরিজে নেতৃত্ব দেবেন লোকেশ রাহুল। ফিরেছেন ঋষভ পন্থও। কিন্তু ‘রো-কো’ জুটির কাঁধেই আসল গুরুদায়িত্ব। টেস্ট সিরিজ হারের ঝটকা থেকে সতীর্থদের জাগিয়ে তুলতে তাঁরাই এখন টিম ইন্ডিয়ার জিয়নকাঠি।
এই মুহূর্তে ভারতীয় ক্রিকেটের সবচেয়ে সমালোচিত ব্যক্তিত্ব অবশ্য গৌতম গম্ভীর। প্রোটিয়াদের হাতে টেস্টে ০-২ হোয়াইটওয়াশের পর ক্রিকেটপ্রেমীদের তোপের মুখে তিনি। দল চলে এলেও তিনি সঙ্গে আসেননি। এমনকী, বৃহস্পতিবার তাঁকে ছাড়াই প্র্যাকটিস করেন ক্রিকেটাররা। ম্যাচের দু’দিন আগে তিনি হাজিরা দেন শুক্রবার। টেস্ট সিরিজে হারের লজ্জা যদিও তাঁর হাবে-ভাবে নেই। বরং অনুশীলনে হাসি মুখেই দেখা গেল তাঁকে। একান্তে খানিকক্ষণ কথাও বললেন যশস্বী জয়সওয়ালের সঙ্গে। এই সিরিজে রোহিতের সঙ্গে তাঁকেই দেখা যাবে ওপেনিংয়ে। কিন্তু রোহিত-বিরাটের সঙ্গে এক ফ্রেমে পাওয়া গেল না গম্ভীরকে।
ভারতের সম্ভাব্য প্রথম এগারো নিয়ে অবশ্য চর্চা অব্যাহত। রাহুল ও পন্থকে একসঙ্গে খেলানো হবে কিনা, জল্পনা চলছে। দু’জনেই কিপার। নেটে রাহুলকে কিপিং করতে দেখাও গেল। সম্ভবত চার নম্বরেই নামবেন তিনি। গুয়াহাটি টেস্টে দায়িত্বজ্ঞানহীন শট মেরে ফেরা পন্থ আবার তুমুল সমালোচিত। অবশ্য ওই সিরিজে রাহুলও প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ।
জেএসসিএ স্টেডিয়ামের পিচে সাধারণত সুবিধা পান স্পিনাররা। কিন্তু উইকেটে ঘাসের আভা রয়েছে। তার উপর ঠান্ডাও পড়েছে। ফলে সিমাররাও কার্যকরী ভূমিকা নিতে পারেন। অর্শদীপ সিং, হর্ষিত রানা ও প্রসিদ্ধ কৃষ্ণার মধ্যে প্রথম দু’জনেরই দলের আসার সম্ভাবনা বেশি। পেসার অলরাউন্ডারের ভূমিকায় দেখা যেতে পারে নীতীশ রেড্ডিকে। বিশেষজ্ঞ স্পিনার অবশ্যই কুলদীপ যাদব। অবশ্য টেস্ট সিরিজে চায়নাম্যানকে সাদামাটা দেখিয়েছে। রবীন্দ্র জাদেজা এবং ওয়াশিংটন সুন্দর খেলতে পারেন স্পিনার অলরাউন্ডার হিসেবে। স্কোয়াডে ব্যাটসম্যান হিসেবে আছেন তিলক ভার্মা, ঋতুরাজ গায়কোয়াড়, ধ্রুব জুরেল। কিন্তু গম্ভীর জমানায় অলরাউন্ডারদের উপরই বাড়তি ভরসা রাখা হয়। কম্বিনেশন নিয়ে তাই চর্চা বাড়ছে।
আলোচনা চলছে ধোনিকে নিয়েও। নিজের শহরে আন্তর্জাতিক ম্যাচ। তিনি কি মাঠে আসবেন না? বাড়িতে বিরাটদের নৈশভোজে ডেকেছিলেন মাহি। রাতে নিজে গাড়ি চালিয়ে টিম হোটেলে পৌঁছে দেন তাঁদের। ভারতীয় দলও কি এমনই আতিথেয়তা দেখাবে প্রোটিয়াদের? টেস্ট সিরিজের বদলা নেওয়ার তাগিদে রাহুলরা জ্বলে ওঠেন কিনা, সেটাই এখন দেখার।