Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘স্যরের পা ছুঁতেই বললেন, আরামসে আরামসে’! আজ সকালে আরামবাগে বিরাট-ভক্ত সৌভিক মুর্মু

‘ঈশ্বর আমার প্রার্থনা শুনেছেন। বিরাট স্যরের সঙ্গে দেখা করিয়ে দিয়েছেন। মাঠে শুয়ে পড়ে পা জড়িয়ে যখন প্রণাম করলাম, তখন আমার কাছে সবকিছু যেন অন্ধকার!

‘স্যরের পা ছুঁতেই বললেন, আরামসে আরামসে’! আজ সকালে আরামবাগে বিরাট-ভক্ত সৌভিক মুর্মু
  • ৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

রামকুমার আচার্য, আরামবাগ: ‘ঈশ্বর আমার প্রার্থনা শুনেছেন। বিরাট স্যরের সঙ্গে দেখা করিয়ে দিয়েছেন। মাঠে শুয়ে পড়ে পা জড়িয়ে যখন প্রণাম করলাম, তখন আমার কাছে সবকিছু যেন অন্ধকার! সামনে শুধু আমার ভগবান। তিনি অভয় দিয়ে আমকে বলছেন—আরামসে আরামসে। জীবনে আমার আর কিছু পাওয়ার নেই।’ বিরাটের বিরাট ছক্কায় রাঁচির গ্যালারি তখন কাঁপছে। সবার হুল্লোড়ের মাঝে এক বাঙালি যুবক ঝাঁপ দিলেন সটান মাঠে। নিরাপত্তারক্ষীদের বিস্ময়ের ঘোর কাটতে না কাটতেই পৌঁছে গেলেন বিরাট কোহলির কাছে। গিয়েই সাষ্টাঙ্গে পা জড়িয়ে প্রণাম। সম্বিত ফিরতেই তাঁকে সরিয়ে নেন নিরাপত্তারক্ষীরা। ততক্ষণে স্বপ্নকে ছুঁয়ে ফেলেছেন আরামবাগের ওই বাঙালি যুবক সৌভিক মুর্মু। পুলিশ পরে তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। রাতভর থানায় কাটিয়ে মঙ্গলবার রাতে পৌঁছন রাঁচি স্টেশনে। সঙ্গে বাবা সহ পরিবারের লোকেরা। সেখান থেকেই ফোনে জানিয়েছেন, ক্রিকেট দুনিয়ার স্বপ্নকে ছুঁয়ে দেখার ওই অনুভূতি। সৌভিক বলছিলেন, ‘যখন স্যর অভয় দিচ্ছিলেন আরামসে...আরামসে বলে। আমি তখন আমার মধ্যেই ছিলাম না। চোখ বুজে শুধু বলেছিলাম, প্লিজ, গিভ মি ইওর ব্যাট। হয়তো আমার আবদার উনি শুনতে পাননি। পেলে নিশ্চয় আমার হাতে সেটাও তুলে দিতেন। তার পর আমাকে নিয়ে চলে গেল নিরাপত্তারক্ষীরা।’ পরে সৌভিককে তাঁরা তুলে দেন রাঁচি পুলিশের হাতে। না, তাঁর বিরুদ্ধে কোনও মামলা করেনি পুলিশ। তাই থানায় ছিলেন রাতভর। খাওয়া-দাওয়া, ভালোভাবে থাকার সব বন্দোবস্ত করে দেওয়া হয়। পুলিশের এমন আয়োজন দেখে মুগ্ধ সৌভিক। বলছিলেন, ‘নিশ্চয়, বিরাট স্যর পুলিশকে বলে দিয়েছেন, আমার বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা না নিতে। তাই দ্রুত বাড়ি ফিরতে পারছি।’ রাতেই রাঁচি স্টেশনে ট্রেন ধরেছেন সৌভিক। আজ সকালেই বাবা সমর মুর্মূকে নিয়ে আরামবাগে পৌঁছবেন তিনি। 

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ