নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: কালীপুজোর শোভাযাত্রা থেকে মত্ত অবস্থায় ফাটানো হচ্ছিল দেদার চকোলেট বোমা। মাঝে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে উল্লাসে মেতে উঠেছিল শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া ক্লাবের কর্মকর্তা ও সদস্যরা। বোমা ও বাজির আওয়াজে অতিষ্ঠ হয়ে এক যুবক বাড়ি থেকে বেরিয়ে বোমা ফাটানো বন্ধ করার অনুরোধ করেন। তাতেই তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠে ক্লাব কর্তারা। ওই যুবককে বেধড়ক মারধর করা হয়। ভাইপোকে বাঁচাতে পাশের দোকান থেকে ছুটে আসা, যুবকের কাকা ও দোকান কর্মীকেও বেধড়ক মারধর করা হয়। শুক্রবার রাতে ঘটনাটি ঘটে বরানগরের এ কে মুখার্জি রোডে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে বিশ্বজিৎ দত্ত ও সানি দে নামে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পলাতক অভিযুক্তদের খোঁজে পুলিশি তল্লাশি চলছে।
প্রতিবছরের মতো এবারও বরানগরে নোয়াপাড়া এন সি দাস রোডের একটি ক্লাবে কালীপুজোর আয়োজন করা হয়। শুক্রবার রাতে সেই প্রতিমা নিরঞ্জনের শোভাযাত্রা বের করেছিল ক্লাব কর্তৃপক্ষ। এ কে মুখার্জি রোড দিয়ে শোভাযাত্রা গঙ্গার ঘাটের দিকে যাচ্ছিল। অভিযোগ, মত্ত অবস্থায় ক্লাবের সদস্যরা আতশবাজির পাশাপাশি দেদার চকোলেট বোমাও ফাটাচ্ছিল। ওই শোভাযাত্রা ৪ নম্বর এ কে মুখার্জি রোডে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়। এরপর দেদার আতশবাজি ও চকোলেট বোমা ফাটানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ।
পাশেই অভিরূপ সাহা নামে একজনের বাড়ি। শব্দবাজির দাপটে ওই পরিবারের সদস্যদের ত্রাহি মধুসূদন অবস্থা হয়। অভিরূপ বাড়ি থেকে বেরিয়ে শব্দবাজি ফাটানো বন্ধ করার অনুরোধ করেন। তাতেই রেগে কাঁই হয়ে যায় ক্লাবের সদস্যরা। তারা আচমকাই খেপে গিয়ে অভিরূপকে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ। পাশেই ওই যুবকের কাকার ফার্স্টফুডের দোকান। ভাইপোকে বাঁচাতে তিনি ছুটে আসেন। তাঁর সঙ্গে আসেন দোকানের এক কর্মীও। তাঁরা অভিরূপকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে তাঁদের উপরেও হামলা চালানো হয়। এমনকি, ওই যুবকের বাড়িতে ঢুকেও মারধরের চেষ্টা হয় বলে অভিযোগ। পরে অভিরূপ থানায় লিখিত অভিযোগ জানান। পুলিশ তদন্তে নেমে শনিবার দুজনকে গ্রেফতার করেছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, শাসক দলের ছত্রছায়ায় থাকার কারণেই ক্লাবের একাংশের মধ্যে এমন বেপরোয়া ভাব তৈরি হয়েছে।
থানায় লিখিত অভিযোগে অভিরূপ জানিয়েছেন, ক্লাবের কিছু সদস্য মত্ত অবস্থায় তাঁর বাড়ির সামনে দেদার চকোলেট বোমা ফাটাচ্ছিল। তিনি তা বন্ধ করার অনুরোধ জানাতেই তাঁদের উপর হামলা চালানো হয়। এদিন তিনি বলেন, আমি চাই পুলিশ আইনমাফিক ব্যবস্থা নিক।
স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলার তথা বরানগর পুরসভার সিআইসি সদস্য অঞ্জন পাল বলেন, ‘এই ঘটনা অনভিপ্রেত। এমন পরিস্থিতি মোটেও কাম্য নয়।’ অন্যদিকে, অভিযুক্ত ক্লাবকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি, কারণ দিনভর তাঁদের মোবাইল ফোন ‘সুইচড অফ’ পাওয়া গিয়েছে।