ব্রাজিল-১ : মরক্কো-১
ব্রাজিল-১ : মরক্কো-১
(ভিনিসিয়াস) (সাইবারি)
দেবজিৎ ঘোষ: জোগো বোনিতো অর্থাৎ সুন্দর ফুটবল। টুকরো স্কিল, অজস্র পাসের রংমশাল। হলুদ-সবুজ জার্সিতে রাশি রাশি নস্টালজিয়া। রবিবার ভোরে ব্রাজিল বনাম মরক্কো ম্যাচের ফাঁকে ক্যামেরার লেন্স খুঁজে নিল কার্লোস, রোনাল্ডোকে। তাঁদের আমলের দুর্ধর্ষ ব্রাজিলও প্রতিপক্ষের উপর সপাসপ চাবুক চালিয়েছে। ব্রাজিল মানেই তো এক আকাশ প্রত্যাশা। অথচ প্রথম ম্যাচে আনসেলোত্তি ব্রিগেড মাঝারিয়ানার গণ্ডিও পেরোতে ব্যর্থ। মাঝমাঠে ফিডারের অভাব প্রকট। নিশ্চয়ই অভিজ্ঞ কোচ আনসেলোত্তির তা চোখ এড়ায়নি। টুর্নামেন্ট সবে শুরু। আমার বিশ্বাস, ভুলত্রুটি শুধরে দ্রুত স্বমহিমায় ফিরবে সাম্বা ব্রিগেড। পাশাপাশি বলতে হবে মরক্কোর কথা। আটলাস সিংহের গর্জন তাবড় প্রতিপক্ষের ঘুম কেড়ে নিতে পারে।
৪-২-৩-১ ফর্মেশনে দল সাজিয়েছিলেন আনসেলোত্তি। ডাবল পিভট ব্রুনো গুইমারেস ও কাসেমিরো ডিফেন্সিভ ব্লকার। এর মধ্যে কাসেমিরো সেরা সময় পেরিয়ে এসেছেন। রিয়ালে খেলার সময় কোচ ছিলেন কার্লো। হয়তো মাঝমাঠে গর্ত বোজাতে চেনামুখেই ভরসা রেখেছেন তিনি। কিন্তু মরক্কোর হাই-প্রেসিং ফুটবলে দিশাহারা ব্রাজিলিয়ান মিডিও। বরং ফ্যাবিনহো নামার পর কিছুটা সংঘবদ্ধ লাগে দলকে। পাকুয়েতার উপর নির্ভর করছিল অনেক কিছুই। তিনিও ফ্লপ। একটা সময় রোনাল্ডিনহো- কাকার মতো ফিডার চনমন করতেন মিডল করিডরে। রক্ষণচেরা পাসে যেন শেফিল্ড ছুরির ধার। আনসেলোত্তির দলে তেমন ফুটবলার কোথায়? উইং হাফ রাফিনহা বার্সেলোনার জার্সিতে ঝলমলে। কিন্তু জাতীয় দলে ম্রিয়মান। একমাত্র ভিনিসিয়াস জুনিয়রের নড়াচড়ায় দেখা গেল হরিনের ক্ষিপ্রতা। সমতা ফেরানোর মুহূর্তে বিপক্ষ গোলরক্ষককে নড়তে দেননি তিনি। ১০১ কিলোমিটার বেগে শট আছড়ে পড়ে জালে। কিন্তু ভিনি যোগ্য সাপোর্ট পেলেন না।
মরক্কোর নতুন প্রতিভা বৌয়াদ্দি। ১৮ বছরের তরুণ কাচ কাটা হিরে। কাসেমিরোদের ফিকে করে দিয়ে একাই রাজত্ব করলেন বৌয়াদ্দি। আক্রমণের জন্য ব্রাজিলের ডানদিককে বেছে নিয়েছিল মরক্কো। চাপের মুখে ভুলের ফাঁদে জড়িয়ে পড়লেন রজার ইবানেজ। ব্রাজিল গোল হজম করল রক্ষণের দোষেই। মার্কুইনহোস ও গ্যাব্রিয়েলের মধ্যে সমম্বয়ের অভাব প্রকট। স্ট্রাইকারে ইগর থিয়াগো একেবারেই নিষ্প্রভ। বরং ম্যাথুজ কুনা অনেক সপ্রতিভ। হাইতির বিরুদ্ধে পরের ম্যাচে ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডে খেলা কুনাহাকেই প্রথম দলে দেখতে চাই।
ব্যক্তিগত মত, এই ব্রাজিল দলে একটা স্পার্ক দরকার। ছোট্ট স্পেলে ম্যাচের রং বদলে দিতে পারেন নেইমার। কিন্তু তিনি এখনও চোটের কবলে। সাম্বা তারকা দ্রুত ফিট হয়ে মাঠে ফিরুক। আমার বিশ্বাস, ভিনিসিয়াস-রাফিনহা-নেইমার ক্লিক করলে বদলে যাবে গোটা দল।