২৯ জুলাই মোহন বাগান দিবস। মূল অনুষ্ঠান বৃহস্পতিবার। জীবনকৃতি সম্মান পাচ্ছেন প্রাক্তন ফুটবলার প্রতাপ ঘোষ। নিজের অনুভূতি বর্তমানের পাঠকদের জন্য তুলে ধরলেন।
২৯ জুলাই মোহন বাগান দিবস। মূল অনুষ্ঠান বৃহস্পতিবার। জীবনকৃতি সম্মান পাচ্ছেন প্রাক্তন ফুটবলার প্রতাপ ঘোষ। নিজের অনুভূতি বর্তমানের পাঠকদের জন্য তুলে ধরলেন।
আটের দশক। ক্যারিবিয়ান সফরে মোহন বাগান। ত্রিনিদাদে ম্যাচের আগেই চমক। করমর্দন করতে এলেন স্বয়ং গারফিল্ড সোবার্স। মৃদু হেসে পিঠ চাপড়ে দিয়েছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি। শিহরণ খেলে গিয়েছিল শরীরে। শুধু মোহন বাগান নয়, আমরা তখন ভারতের প্রতিনিধি। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব। আসলে আমার কাছে মোহনবাগান মানেই জাতীয়তাবোধ। ১৯১১ সালে ব্রিটিশদের হারিয়ে প্রিয় ক্লাবের আইএফএ শিল্ড জয়ের ইতিহাস শুনেছি ছোটোবেলাতেই। পরবর্তীতে ময়দানে একাধিক ক্লাবে খেললেও অন্যতম সেরা স্পেল মোহন বাগানেই। সবুজ-মেরুন জার্সি মানেই আলাদা আবেগ। এবছর আমার হাতে জীবনকৃতী সম্মান তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কর্তারা। সেই মুহূর্তের কথা ভেবেই রোমাঞ্চিত বোধ করছি। সদস্য, সমর্থকদের উপচে পড়া ভালোবাসায় আমি কৃতজ্ঞ। অনুরাগীদের শুধু এটুকুই বলতে চাই, আমি তোমাদেরই লোক। খুশির দিনে বাবলু, প্রদীপ চৌধুরি, পায়াস, মিহির, সমর ভট্টাচার্য, মানসদের কথা মনে পড়ছে খুব। শুধু সতীর্থ নয়। ওরাই যে আমার আপনজন। বুধবার বিকেলে প্রাক্তনদের প্রদর্শনী ফুটবল ম্যাচের সাক্ষী থাকতে মোহন বাগান তাঁবুতে উপস্থিত হয়েছিলাম। গল্প, আড্ডায় সময় কাটল। মোহন বাগানই যে আমার সেকেন্ড হোম।
ময়দানে টালিগঞ্জ অগ্রগামী ও বিএনআরে খেলার পর সই করি মোহন বাগানে। ১৯৭৯ সাল। গঙ্গাপাড়ের ক্লাবে শ্রদ্ধেয় প্রদীপ ব্যানার্জি কোচ। অন্যদিকে মনজিৎ, হরজিন্দার, দেবরাজ, ডেভিড উইলিয়ামসদের নিয়ে ইস্ট বেঙ্গল সেবার বেশ শক্তিশালী দল। যাই হোক, লিগের বড়ো ম্যাচে আমার পারফরম্যান্স সমর্থকদের মন জিতে নিয়েছিল। এরপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি। ম্যাচের পর সমর্থকদের কাঁধে চেপে ড্রেসিং-রুমে পৌঁছাই। পরের মরশুমে ফেডারেশন কাপ সেমি-ফাইনালের স্মৃতিও নিশ্চয়ই সমর্থকরা ভোলেননি। মহমেডান স্পোর্টিংয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচ গড়ায় তিনদিন। শেষপর্যন্ত টাই-ব্রেকারের আগে আমার পরিবর্তে নামানো হয় শিবাজীকে।
ছোটো থেকেই মোহন বাগান সমর্থক। গ্যলারিতে বসে ঘরোয়া লিগের ম্যাচও দেখেছি প্রচুর। সবুজ-মেরুন জার্সি গায়ে চাপানো ছিল স্বপ্ন। সুযোগ পেয়ে শপথ নিয়েছিলাম, সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটাতেই হবে। প্রচুর মজার গল্প মনে পড়ছে। শুরুতে লোকাল ট্রেন ধরে শিয়ালদহ স্টেশনে নামতাম। এরপর ট্যাক্সি ধরে ক্লাবে। সমর্থকরা জানতেন, দুপুরের ট্রেন ধরবে প্রতাপ। ম্যাচ দেখার ডে স্লিপ নিতে কাড়াকাড়ি পড়ে যেতে ট্রেনেই। সেই উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। জাতীয় দলেও বাঙালি ফুটবলারের সংখ্যা ক্রমশই কমছে। প্রাক্তন হিসাবে যা মানসিক কষ্ট দেয়।