Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

ব্যাংক লেনদেনে বড়ো শহরকে টক্কর গ্রাম-মফস্সলের

গ্রামীণ ও মফস্সল এলাকা ব্যাংকিং ব্যবসায় পিছনে ফেলে দিচ্ছে বড়ো শহরকে। রাষ্ট্রায়ত্ত্ব, বেসরকারি এবং সমবায় ব্যাংকগুলির আর্থিক লেনদেনের তথ্য থেকেই এই প্রবণতা স্পষ্ট।

ব্যাংক লেনদেনে বড়ো শহরকে টক্কর গ্রাম-মফস্সলের
  • ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: গ্রামীণ ও মফস্সল এলাকা ব্যাংকিং ব্যবসায় পিছনে ফেলে দিচ্ছে বড়ো শহরকে। রাষ্ট্রায়ত্ত্ব, বেসরকারি এবং সমবায় ব্যাংকগুলির আর্থিক লেনদেনের তথ্য থেকেই এই প্রবণতা স্পষ্ট। সেখানে দেখা যাচ্ছে যে,  টাকা জমা, সেভিংস অ্যাকাউন্ট, ফিক্সড ডিপোজিট ইত্যাদি প্রতিটি ক্ষেত্রেই শহরে ব্যাংকগুলির পারফরম্যান্স ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। মেট্রো শহরগুলি সহ বৃহৎ শহরগুলিতে ডিপোজিটের পরিমাণ কমছে। অন্যদিকে, ঋণ নেওয়ার আবেদন বেশি জমা পড়ছে। পক্ষান্তরে মফস্সল, টায়ার টু থ্রি 

Advertisement

শহর এবং গ্রামীণ এলাকায় ঋণ গ্রহণের প্রবণতা যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে ডিপোজিট গ্রোথও। অর্থাৎ ব্যাঙ্কে টাকা জমা করার প্রবণতা বাড়ছে।
 ঋণ ও ডিপোজিটের সামঞ্জস্য থাকলে ব্যাংকিং সেক্টরের উন্নতির ভারসাম্য বজায় থাকে। যাকে বলা হয় ক্রেডিট ডিপোজিট রেশিও। স্টেট ব্যাংকের ব্যাংকিং সেক্টর রিভিউ রিপোর্ট বলছে, বড়ো শহরগুলিতে ডিপোজিট গ্রোথ রেট ৩৪ শতাংশ কমে গিয়েছে। অর্থাৎ বিগত আর্থিক বছরের তুলনায় ডিপোজিটের প্রবণতা চলতি অর্থবর্ষে কমে গিয়েছে। অর্থাৎ ডিপোজিট এখনও বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু সেই বৃদ্ধিহার নিম্নগামী। এখনও পর্যন্ত ডিপোজিট পৌঁছেছে ৩ লক্ষ ৪০ হাজার কোটি টাকায়।  পক্ষান্তরে ক্রেডিট বৃদ্ধিহার অর্থাৎ ঋণপ্রদানের বৃদ্ধিহার ১৪ শতাংশ কমেছে। যা হয়েছে ৩ লক্ষ ৬০ হাজার কোটি টাকা। যত ডিপোজিট হয়েছে, তার থেকে বেশি ঋণ দিতে হয়েছে ব্যাংককে। কিন্তু মফস্সল, টায়ার টু, থ্রি সিটি অথবা গ্রামাঞ্চলে এই সময়পর্বে ডিপোজিট গ্রোথ রেট বেড়েছে ৬৮ শতাংশ। ছিল ১ লক্ষ কোটি টাকা। হয়েছে ১ লক্ষ ৭০ হাজার কোটি টাকা। আবার ঋণ প্রদানের হারও ২০ শতাংশ বেড়েছে। ১ লক্ষ ১০ হাজার কোটি টাকার থেকে বেড়ে এক বছরে হয়েছে ১ লক্ষ ৩০ হাজার  কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু গ্রামীণ ভারতের ডিপোজিট হার সবথেকে চমকপ্রদ। ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিগত অর্থবর্ষে যা ছিল ৭০ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবর্ষে ইতিমধ্যেই তা বেড়ে হয়েছে ৯৮ হাজার কোটি টাকা। চলতি আর্থিক বছরে আরও তিন মাসের হিসাব এখনও বাকি। জানুয়ারি থেকে মার্চ। সেক্ষেত্রেও লক্ষ্য করা যাচ্ছে বেশ ইতিবাচক বৃদ্ধিহার। যদি শুধু ডিপোজিটের হার বেশি হয় তাহ঩লেই যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক নিশ্চিন্ত থাকে এমন নয়। কারণ ব্যাংকের দরকার দুটিই। তার ভান্ডারে টাকা জমা হবে, আবার একইভাবে সেই হারে যেন নানাবিধ ঋণও গ্রহণ করে সাধারণ গ্রাহক ও কর্পোরেট। এই দুই অনুপাতের মাধ্যমে সুদ বাবদ আয় বাড়বে ব্যাঙ্কের। সঞ্চিত ভান্ডারের অঙ্কও সেই ব্যাঙ্কের প্রতি শেয়ার বাজারের আগ্রহ বাড়াবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ