নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: লেভেল ক্রসিং বন্ধের চেষ্টার প্রতিবাদে রেলের আধিকারিকদের ঘিরে কীর্তন করলেন গ্রামবাসীরা। শুক্রবার শালবনী ব্লকের মণ্ডলকুপিতে গ্রামবাসীদের এমন অভিনব বিক্ষোভের মুখে পড়ে রেল কর্তৃপক্ষ। কীর্তনের পাশাপাশি স্থানীয়রা রেলকর্মীদের সামনে লাইনের উপর বসে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। টানা বিক্ষোভের জেরে লেভেল ক্রসিংয়ের গেট বন্ধ না করে ফিরে যেতে বাধ্য হন রেলকর্মীরা। রেলের আধিকারিকরা এব্যাপারে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
এলাকার বাসিন্দারা জানান, চাষিদের সুবিধার দিকটা রেল দেখতে চাইছে না। রেলের আধিকারিকরা আগেও একাধিকবার লেভেল ক্রসিং তুলে দেওয়ার চেষ্টা করে বাধা পেয়েছেন।
মণ্ডলকুপির ওই লেভেল ক্রসিংটি ব্রিটিশ আমল থেকে রয়েছে। খড়্গপুর-আদ্রা লাইনের উপর থাকা এই লেভেল ক্রসিং বন্ধ করতে চাইছে রেল কর্তৃপক্ষ। সারাদিনে বেশ কিছু মালগাড়ি, প্যাসেঞ্জার ট্রেন এই রেলপথ দিয়ে যাতায়াত করে। কিন্তু লেভেল ক্রশিংয়ে কোনও গেটম্যান নেই। তাই রেলের তরফে লেভেল ক্রসিংটি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এলাকার চাষিরা ওই রেল গেটটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করেন। প্রায় ৮০০বিঘা জমির ফসল ওই লেভেল ক্রসিং দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে যায়। লেভেল ক্রসিং বন্ধ হলে চাষিদের সমস্যায় পড়তে হবে। তাঁদের অনেকটা ঘুরপথে বেশি টাকা খরচ করে ফসল নিয়ে যেতে হবে। এদিন সকালে রেলের কর্মী-আধিকারিকরা এলাকায় পৌঁছন। খবর পেয়ে চাষিরা পৌঁছে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। সেইসঙ্গে তাঁরা ওই এলাকায় কীর্তন করেন।
তবে এর জেরে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়নি।মণ্ডলকুপির চাষি বিনয় দাস বলেন, গ্রামের মানুষের কথা ভেবে আন্ডারপাস তৈরি করে দিতে হবে। নাহলে আমরা খুব সমস্যার মধ্যে পড়ে যাব। রেলের তরফে বহুবার রেলগেটটি তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। লোক না থাকলেও কোনও দুর্ঘটনা ঘটে না। কিন্তু লেভেল ক্রসিং তুলতে এলে আরও বড় আন্দোলন হবে। শালবনী পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সৌমেন ঘোষ বলেন, রেল চাষিদের সমস্যায় ফেলতে চাইছে। এখানে আন্ডারপাস তৈরি করে দিক। আদালতও একবার চাষিদের সমস্যার কথা ভেবেই রেলকে পরিকল্পনা করতে বলেছিল। জেলা বিজেপির মুখপাত্র অরূপ দাস বলেন, এটা চাষিদের বিক্ষোভ নয়। এটা তৃণমূলের বিক্ষোভ। রেল সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। লেভেল ক্রসিং বন্ধ না হলে ওখানে বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তৃণমূল হয়তো ওই লেভেল ক্রসিং ব্যবহার করে কোনও অপকর্ম করে। তাই বাধা দিচ্ছে।