নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ: নিত্যদিন ব্রাউন সুগার বিক্রি নিয়ে মাদক কারবারির সঙ্গে গ্রামবাসীদের তুমুল বাকবিতন্ডা। শেষমেশ স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যের সহযোগিতায় মাদকের ক্রেতা সমেত মাদক কারবারিকে হাতেনাতে পাকড়াও করে পুলিসের হাতে তুলে দেয় গ্রামবাসী। ঘটনাটি রায়গঞ্জ শহর ঘেঁষা বাহিন গ্রাম পঞ্চায়েত সোহরাই মণিপাড়ার। এই ঘটনায় রায়গঞ্জ থানার পুলিস মাদক কারবারী সহ মাদক ক্রেতাকে গ্রেপ্তার করেছে। রায়গঞ্জ থানার আইসি বিশ্বাশ্রয় সরকার বলেন, চন্দন সাহা ও বিক্রম তিওয়ারি নামে দু’জনকে পুলিস গ্রেপ্তার করেছে।
কয়েক বছর ধরেই বাহিন পঞ্চায়েতের কুলিক ইকো পার্কের কাছে সোহরাই মণিপাড়ায় মাদকের কারবার নিয়ে অতিষ্ট গ্রামবাসী। বারংবার এই কারবার বন্ধের জন্য বলা হলেও অভিযুক্ত চন্দন তার মাদক ব্যবসা বন্ধ করেনি। উল্টে প্রতিবাদ করা এলাকার মানুষকে গালিগালাজ, হুমকি দিত। তারপরই রবিবার দুপুরে ঘটনার সূত্রপাত। এলাকার বাসিন্দা দুর্গা মণ্ডল, জলি তেওয়ারি বলেন, আমাদের গ্রামে ছয়শোর বেশি পরিবারের বাস। আমাদের পাড়ায় বিগত কিছুদিন ধরেই ঘরে বসে মাদক কারবার চালাচ্ছিল চন্দন। তার কাছ থেকে দূরদূরান্ত থেকে অল্পবয়সী ছেলেমেয়েরা ব্রাউন সুগার, গাঁজা সহ নানা ধরনের মাদক কিনতে আসে। ওইসব নেশাগ্রস্ত ক্রেতাদের জন্য গ্রামের মহিলাদের এলাকায় চলাচলে সমস্যা হয়। অশ্লীল আচরণ করে। বেপরোয়া গতিতে বাইক চালায়। ছিঁচকে চুরি বেড়ে গিয়েছে। বাড়ি থেকে থালাবাটি, বালতি, মগ থেকে শুরু করে টোটোর ব্যাটারি সবই চুরি যায়। সেইসঙ্গে এলাকার অল্পবয়সী ছেলেমেয়েরা নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে। আমরা গ্রামবাসীরা মিলেই নজর রাখছিলাম চন্দনের বাড়ির উপর। এদিন সকালে এক বহিরাগত যুবক চন্দনের বাড়িতে মাদক কিনতে এলে ক্রেতা ও বিক্রেতাকে ধরে পুলিসের হাতে তুলে দিই। এলাকার পঞ্চায়েত সদস্য মনু মণ্ডল বলেন, গ্রামের কয়েকজন সহ রায়গঞ্জ শহরের অল্পবয়সী ছেলেমেয়েরা দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় মাদক কিনতে আসে। বিষয়টি টের পাওয়ার পর থেকে স্থানীয়রাই এসবের প্রতিবাদ জানাতে থাকে। অনেকবার চাপে পড়ে স্থানীয় মানুষের কাছে কারবার বন্ধ রেখে ক্ষমা প্রার্থনা করে মাদক কারবারি চন্দন। আমি পঞ্চায়েত সদস্য হিসেবে অভিযুক্তকে বহুবার কারবার বন্ধের জন্য বুঝিয়েছি। শোনেনি। এবার গ্রামবাসীরাই অতিষ্ট হয়ে গিয়ে চন্দনকে মাদক বিক্রির সময় হাতেনাতে পাকড়াও করে।