সংবাদদাতা, ময়নাগুড়ি: ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত তেলের পাইপ লাইন বসানোকে কেন্দ্র করে শুক্রবার উত্তেজনা ছড়ায় ময়নাগুড়ির সাপ্টিবাড়ি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের কার্জিপাড়ায়। বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি এড়াতে খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে চলে আসে ময়নাগুড়ি থানার বিরাট পুলিস বাহিনী। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন ডিএসপি (ক্রাইম) শান্তিনাথ পাঁজা, বিডিও প্রসেনজিৎ কুণ্ডু সহ প্রশাসনিক আধিকারিকরা। গ্রামবাসীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
পাইপ লাইন বসানোর কাজে নিযুক্ত সংশ্লিষ্ট কোম্পানির আধিকারিক ও কর্মীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন গ্রামবাসীরা। স্থানীয়রা কাজ আটকে দেওয়ার চেষ্টা করেন। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, জমির পঞ্চনামা না নিয়েই পাইপ লাইনের কাজ শুরু করা হয়েছে। যদিও এমন অভিযোগ অস্বীকার করেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কর্মকর্তারা।
বিডিও প্রসেনজিৎ কুণ্ডু বলেন, শুক্রবার যে এলাকায় পাইপ লাইন বসানোর কাজ হয়েছে এবং যাদের জমি খুঁড়ে পাইপ লাইন বসছে তাদের সকলেই ক্ষতিপূরণ পাবেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ন্যায্য ক্ষতিপূরণ তাঁরা পেয়ে যাবেন।
গ্রামবাসী রামচন্দ্র কার্জি, বিকাশ কার্জি বলেন, কয়েক বছর আগে অন্য একটি কোম্পানির গ্যাসের পাইপ লাইন আমাদের জমির নীচ দিয়ে গিয়েছে। যে টাকা ক্ষতিপূরণ পাওয়ার কথা ছিল, সেই টাকা আমরা পাইনি। এবার জমির পঞ্চনামা না করেই আমাদের কিছু না বলে হঠাৎ করেই প্রশাসনের লোকজন নিয়ে হাজির হয় আলাদা একটি কোম্পানি। এভাবে জমি নেওয়া যাবে না। তাই আমরা প্রতিরোধ করেছি।
নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেডের আধিকারিক দীপক মিশ্র বলেন, পারাদ্বীপ থেকে অসম যাচ্ছে এই পাইপ লাইন। অনেক গ্রামবাসী রয়েছেন যাঁরা পঞ্চনামা করেননি। বহুবার গ্রামবাসীদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে, মিটিং হয়েছে। এবার পাইপ লাইনের জন্য গ্রামবাসীরা কৃষিজমির ক্ষেত্রে ১৪ হাজার ৮৪০ টাকা প্রতি ডেসিমেল। চা বাগান রেকর্ড করা থাকলে ১৬ হাজার ২১৯ টাকা প্রতি ডেসিমেল হিসেবে পাবেন। সাপ্টিবাড়ি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতে দু’শোর উপর উপভোক্তা রয়েছেন। এখানে ২৮ একর জমিতে কাজ হবে। ঘটনাস্থলে পুলিস বাহিনী। - নিজস্ব চিত্র