Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সাট্টার ঠেকে ভিলেজ পুলিস, উড়ছে টাকা

সাট্টার ঠেকে ভিলেজ পুলিস, উড়ছে টাকা
  • ১০ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: হোগলা পাতা ঘেরা ঘরে সাট্টার বোর্ড পাতা। সেখানে একটি কৌটের মধ্যে তিনটি গুটি ঢুকিয়ে ক্রমশ নাড়িয়ে চলেছেন জয়দেব বর্মন। বোর্ডের চারপাশ থেকে গোছা গোছা ৫০০টাকার নোট উড়ে পড়ছে। কারও বাজি হরতন, কারও রুইতন বা চিড়িতন। কয়েকবার নাড়ানোর পর জয়দেব গুটি ফেলছেন। ডবল টাকা পেয়ে কারও মুখে চওড়া হাসি। কেউবা কপাল চাপড়ে ভাগ্যকে দুষছেন। দেখেই বোঝা যাচ্ছে এই সাট্টা গেমের মূল হোতা জয়দেব। তিনি আর কেউ নন চণ্ডীপুর থানার বৃন্দাবনপুর-২গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার একজন ভিলেজ পুলিস। প্রতি চালে যথেষ্ঠ কামাই হচ্ছে। টাকার বান্ডিল যত উঁচু হচ্ছে, ওই ভিলেজ পুলিসের চোখেমুখে তত খুশির ঝিলিক। আনন্দে খপ করে মুখে একটা সিগারেট গুঁজে নিলেন। চণ্ডীপুর থানার মগরাজপুর রেলকলোনি এলাকায় এরকম একটি সাট্টার আসরের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। 

Advertisement

সাট্টার ঠেকে ওই ব্যক্তি যে জয়দেব, সেকথা স্বীকার করেছেন থানার ওসি থেকে জেলার পুলিস সুপার। জয়দেব যে ভিলেজ পুলিস, সেকথাও অস্বীকার করেননি পুলিস কর্তারা। অভিযুক্ত জয়দেব মাইতিকে বারবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এসএমএসেরও জবাব দেননি। এনিয়ে পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিস সুপার সৌম্যদীপ ভট্টাচার্য বলেন, ওই ভিডিওটি পুরনো। সেটি সামনে আসার পর অভিযুক্ত ভিলেজ পুলিসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেওয়া হয়। 
পূর্ব মেদিনীপুর জেলার চণ্ডীপুর, ময়না এবং তমলুক থানা এলাকায় সাট্টা খেলার নেশায় অনেকেই সর্বস্বান্ত। কখনও কখনও পুলিসের মদতে এই জুয়া খেলা হয় বলে অভিযোগ। তবে,সাট্টার আসরে মূল পাণ্ডা একজন ভিলেজ পুলিস হওয়ায় গোটা ঘটনা পুলিস মহলে হইচই ফেলে দিয়েছে। তাছাড়া, এই ঘটনা জেলা পুলিসের ভাবমূর্তিতেও দাগ লাগিয়েছে। স্থানীয়রা বলেন, রাত ৯টার পর সাট্টার আসর বসে। অবৈধ এই জুয়ার ঠেকে ব্যবসায়ী থেকে চাকরিজীবী এমনকী জনপ্রতিনিধিদের একাংশ তাতে অংশ নেন। রাত যত বাড়ে আসর তত জমে। সেই আসরে মদ, মাদকও মজুত থাকে। সাট্টার আসরে টাকা খুইয়ে হতাশ কাস্টমারদের দিকে মাদক মেশানো ট্যাবলেট বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এভাবেই সাময়িকভাবে টাকা খোয়ানোর যন্ত্রণা ভোলানো হয়। পূর্ব মেদিনীপুরে অনলাইন লোটো এবং সাট্টায় নেশায় বহু পরিবার সর্বস্বান্ত হয়েছে। কাঁথি থানার ঝাউবনী গ্রামের এক মৎস্য ব্যবসায়ী স্রেফ সাট্টায় নেশায় ৪০লক্ষ টাকা উড়িয়ে দিয়েছেন। একটি বেসরকারি ব্যাঙ্ক থেকে ৪০ লক্ষ টাকা তুলে তিনি সবটাই খুইয়েছেন। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ ৪জানুয়ারি দেশপ্রাণ ব্লকের বিডিও শুভাশিস মজুমদারের উপস্থিতিতে তাঁর মর্টগেজ সম্পত্তি সিল করলেও ২৫জানুয়ারি সেসব ভেঙে অভিযুক্ত ফের সম্পত্তির দখল নেয়। এনিয়ে কাঁথি থানায় তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর হয়েছে। ওই ব্যবসায়ীর মতো আরও অনেকে লোটো এবং সাট্টায় নিজেদের সর্বস্বান্ত করে দিয়েছেন। 
কয়েকদিন আগে তমলুক থানার নিমতৌড়ি এলাকায় সাট্টার আসর থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিস। তমলুকের সিজেএম তাদের সংশোধনের জন্য রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমে এক মাস সামাজিক কাজকর্ম করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ময়না থানার বিভিন্ন জায়গায় সাট্টা রমরমিয়ে চলে। প্রতিনিয়ত আসরের স্থান বদল হয়। নন্দকুমার ও চণ্ডীপুর থানার বেশকিছু এলাকাতেও সাট্টায় সর্বস্বান্ত হচ্ছেন বহু যুবক। অনেক ক্ষেত্রে এধরনের বেআইনি গেম বন্ধ করতে পুলিসের তৎপরতা থাকছে না বলে অভিযোগ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ