Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভরতপুরে ১২ বছরেও চালু হয়নি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত গ্রাম্য হাট

ভরতপুরে ১২ বছরেও চালু হয়নি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত গ্রাম্য হাট
  • ৩১ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কান্দি: দুইপাশে লম্বা সারি দিয়ে রয়েছে ৬৮টি দোকান ঘর। অধিকাংশ ঘরগুলি নোংরা আবর্জনায় ভর্তি। ভরতপুর ১ ব্লকের তালগ্রামের এই গ্রামীণ হাট চালু হয়নি ১২ বছর পরেও। অথচ কোটি কোটি টাকা খরচ করে এই সরকারি প্রকল্প তৈরি করা হয়েছিল বলে বাসিন্দাদের দাবি। ভ্রুক্ষেপ নেই পঞ্চায়েতের।

Advertisement

স্থানীয় পঞ্চায়েত তালগ্রামের উত্তরপাড়ায় রয়েছে এই গ্রামীণ হাট। ২০১২-১৩ আর্থিকবর্ষে নাবার্ডের আর্থিক সহযোগিতায় তৈরি হয়েছিল এই হাট। সম্প্রতি সেখানে গিয়ে দেখা গিয়েছে, গ্রামীণ হাটের চারপাশে উঁচু দেওয়াল দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। বড় আকারে প্রবেশদ্বারও রয়েছে। ভিতরে দুইপাশে লম্বা সারি দিয়ে রয়েছে ৬৮টি দোকান ঘর। অল্প সংখ্যাক ঘরে লোহার সাটার বসানো রয়েছে। তবে বেশিরভাগ দোকানঘর খালি অবস্থায় পড়ে রয়েছে। প্রতিটি ঘর আবর্জনায় ভর্তি। প্রতিটি ঘরে পায়রা বাসা বেঁধেছে। র্দুগন্ধের কারণে সেখানে টেকাই দায় হয়ে পড়ে। প্রবেশদ্বারের মুখে দুটি মার্বেল বোর্ড লাগান রয়েছে। তাতে উদ্বোধনের দিন কারা ছিলেন, কাদের অবদান রয়েছে এসব লেখা। যদিও আর্থিক বিষয় সংক্রান্ত বোর্ডটি উধাও হয়ে গিয়েছে বলে বাসিন্দারা জানিয়েছেন।
ওই গ্রামীণ হাটের সামনের একটি দোকানে কিছু সব্জি বিক্রি করেন একজন। ভিতরে একজন কাঠের কাজ করেন। আর একটি ঘরে কেউ পোল্ট্রি মুরগি জমা করে রেখেছেন। যদিও তাঁরা কেউ এনিয়ে কিছু বলতে চাননি।
স্থানীয় বাসিন্দা তুহিন শেখ বলেন, ১২ বছর ধরে এভাবেই এই গ্রামীণ হাট পড়ে রয়েছে। এটি কোনওদিন চালুই হল না। অথচ এটি চালু হলে প্রচুর বেকারের উপকার হতো। অনেকে রাস্তায় গুমটি করে দোকান করছেন। তাঁরা এখানে ঘর পেলে তাঁরা উপকৃত হতেন। অপর বাসিন্দা সুদর্শন সাহা বলেন, পঞ্চায়েত থেকেই এই হাট পরিচালনা করার কথা ছিল। কিন্তু পঞ্চায়েত বা ব্লক প্রশাসনের লোকজনকে কোনওদিন এখানে আসতে দেখা যায়নি। চোখের সামনে এভাবে একটি সরকারি প্রকল্পের কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি পড়ে পড়ে নষ্ট হচ্ছে। স্থানীয় তালগ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান মমতাজ বেগম বলেন, ওটা পঞ্চায়েতের সম্পত্তি বলে জানি। এর বাইরে গ্রামীণ হাটের ব্যাপারে কিছুই জানা নেই। ওখান থেকে কোনরকম করও পায় না পঞ্চায়েত। এবিষয়ে ভরতপুর ১ ব্লকের এক আধিকারিক বলেন, এরকম একটি সরকারি প্রকল্প আছে বলে জানাই নেই। তবে বিষয়টির খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ