নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্রাম: কংসাবতী নদীর ভাঙনের কবলে বিনপুর-১ ব্লকের আঁধারিয়া পঞ্চায়েতের বসন্তপুর গ্রাম। নদী এখন গ্ৰামের গা ঘেঁষে বইছে। দিনরাত ঝুপঝাপ করে পাড় ভাঙছে। নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা জমি হারানোর পর বর্ষার আগেই ভিটেমাটিও হারানোর আশঙ্কা করছেন। পাড়বাঁধ দেওয়া নিয়ে প্রশাসনের উদাসীনতায় ক্ষোভ উগরে দিলেন তাঁরা।জেলা সেচদপ্তরের আধিকারিক নমিত সরকার বলেন, বসন্তপুর গ্ৰাম লাগোয়া নদীর পাড় বাঁধানোর প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। বিনপুরে নদী-তীরবর্তী এলাকায় ধাপে ধাপে পাড় বাঁধানোর কাজ চলছে। অনুমোদন পেলে বসন্তপুরেও কাজ শুরু হবে।সামনেই বর্ষা। তাই প্রশাসনের উপর আর গ্রামবাসীরা ভরসা রাখতে পারছেন না। স্থানীয় বিষ্ণুপদ শীট, স্বপন পাড়ালি, কৃষ্ণা দিগাররা জানালেন, নদী এখন অনেক বাড়ির উঠোনের উপর দিয়ে বইছে। বর্ষায় জলের স্রোত বাড়লে নদী লাগোয়া বেশ কয়েকটি মাটির বাড়ি তলিয়ে যেতে পারে। বর্ষায় এই নদীর জলে ঝাড়গ্রামের দক্ষিণ অংশের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়।
বিনপুর-১ ব্লকের আঁধারিয়া, বৈতার মতো এলাকায় নদীর স্রোত দক্ষিণদিকে বইছে। নদীর গ্ৰাসে বিঘার পর বিঘা জমি জলের তলায় চলে গিয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ব্লকের নদী-তীরবর্তী এলাকায় পাড় বাঁধানো চলছে। বৈতা পঞ্চায়েতে পাড় বাঁধানোর প্রথম পর্বের কাজ শেষের পথে। বাকি কাজের জন্য নতুন করে টাকা বরাদ্দ হয়েছে। কিন্তু পাড় বাঁধানোর কাজে বসন্তপুরে নদী লাগোয়া এলাকাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। যদিও স্থানীয় পঞ্চায়েতের তরফে বারবার সমস্যার কথা জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। তাতেও কাজ না হওয়ায় এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
ওই গ্রামের বাসিন্দা স্বপন পাড়ালি বলেন, নদী আগে দূরে ছিল। এখন আমার বাড়ির উঠোনের ধার দিয়ে বইছে। উঠোনের কিছু অংশ ধসে গিয়েছে। পাঁচ-সাত বিঘা জমি আগেই নদীগর্ভে চলে গিয়েছে। ভাইরা অন্য জায়গায় চলে গিয়েছে। এবারের বর্ষায় বাড়িটাও থাকবে কিনা জানি না। অপর বাসিন্দা বিষ্ণুপদ শীট বলেন, দিনরাত নদীর পাড়ে বড় বড় ধস নামছে। নদী এত কাছে চলে এসেছে যে, গ্ৰামটাই নদীগর্ভে চলে যাওয়ার পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। বৈতায় পাড় বাঁধানো চলছে। কিন্তু এদিকে প্রশাসন নজর দেয়নি।
স্থানীয় বধূ কৃষ্ণা দিগার বলেন, যাদের টাকাপয়সা আছে, তাঁরা আগে থেকেই অন্য জায়গায় জমি কিনে ঘর করছেন। আমাদের সেই সামর্থ্য নেই। দিনমজুরের কাজে সংসার চলে। ভিটেটুকু হারালে কোথায় যাব জানা নেই। আঁধারিয়া পঞ্চায়েতের উপপ্রধান বাপি মণ্ডল বলেন, জেলা প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। পাড় বাঁধানো না হলে বসন্তপুর সহ বেশ কয়েকটি গ্ৰামের মানুষ বিপদে পড়বেন।