সংবাদদাতা, কাটোয়া : মাজারে চাদর চড়িয়েই মা কালীর পুজোয় বসা হয়। বছর বছর এটাই রীতি মঙ্গলকোট থানার গ্রাম রক্ষীবাহিনীর কালীপুজোয়। একদিকে পীরের মাজার রয়েছে। অন্যদিকে মা কালীর মন্দির৷ মঙ্গলকোট থানার কালীপুজোয় সম্প্রীতির মেলবন্ধন এমনই।
কুনুর নদীর তীরে মঙ্গলকোট গ্রামের ভিতরে সানা পাড়ায় পুরানো থানার কালী মন্দিরের বাঁদিকেই রয়েছে পীর পানজাতনের মাজার৷ ফি-বছরই কালীপুজোর রাতে আগে পীরের মাজারে চাদর চড়ানো হয়৷ তারপর সেখানে আতর ছিটিয়ে মোমবাতি জ্বালিয়ে আসার পরই মন্দিরে মা কালীর পুজো হয়৷ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা বহন করে এই পুজো। শুধু তাই নয়, কালীপুজোর পরেরদিনই মিলাদের আয়োজন করে মঙ্গলকোট থানা৷ বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন রুপে মা কালীর আরাধনায় মেতে ওঠেন মঙ্গলকোটের বাসিন্দারা।ঘট বিসর্জন এখনও হয় না এখানকার খেপাকালীর পুজোয়। মঙ্গলকোটের পালিগ্রামের খেপাকালীর পুজো এখনও সতীশ তান্ত্রিকের পুজো নামেই পরিচিত। স্থানীয়রা জানান, বহু বছর আগে একসময় গ্রামে এক নির্জন জায়গায় সতীশ চক্রবর্তী নামে এক তান্ত্রিক কালী সাধনা করতেন। পরে তিনি মা কালীর স্বপ্নাদেশ পান। তারপর ওই তান্ত্রিক মা কালীর মূর্তি প্রতিষ্ঠা করে পুজো শুরু করেন। সেদিনের সেই তান্ত্রিকের পুজো খেপা কালী রূপে আজও পুজিত হয়ে আসছে।
বর্তমান সেবাইতরা জানান, মঙ্গলকোটের পালিগ্রামের এক ফাঁকা জঙ্গলে থাকতেন সতীশ তান্ত্রিক। শোনা যায় তিনি নাকি নরমুণ্ড নিয়ে পঞ্চমুণ্ডির আসনে বসে কালীর সাধনা করতেন। তারপর দেবীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে তিনি খেপাকালীর প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর সতীশ তান্ত্রিক নিজেই মায়ের মূর্তি গড়ে পুজো শুরু করেন। সেই থেকেই মঙ্গলকোটের পালিগ্রামে খেপাকালীর মূর্তি এখনও ব্রাহ্মণ দ্বারাই গড়া হয়। পাশের উনিয়া গ্রামের চট্টোপাধ্যায় পরিবারের সদস্য বিশ্বম্ভর চট্টোপাধ্যায় খেপাকালীর মূর্তি গড়েন। ঘট বিসর্জন, আরতি, অধিবাস এসব কিছুই হয় না। তবে এখনও পুরানো রীতি মেনেই প্রতিমার বিসর্জন হয় ব্রাহ্মণ দ্বারা।
অন্যদিকে চানক অঞ্চলের পালপাড়া গ্রামের বাইরে রাখাল বালকেরা প্রায় ২৫০ বছর আগে খেলার ছলে কালী পুজো শুরু করেছিল। তারপর গ্রামের বাসিন্দারা সেই থেকেই গ্রামের ভিতরে মায়ের পুজো শুরু করেন। সেই থেকেই এই দেবী ছেলে কালী হিসাবে পুজিত হচ্ছেন। এর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ভ্রাতৃ দ্বিতীয়ার পর প্রতিমার বিসর্জন হয়। মাটির মধ্যেই গর্ত করে দেবীর ভোগ রাখা হয়। এদিকে প্রায় ২৫০ বছর আগে মঙ্গলকোটের গণপুর গ্রামের ভট্টাচার্য বাড়ির সদস্যরা একবার গ্রামেরই কালীসায়র নামে এক পুকুরে স্নান করতে নেমে দেখেন তাঁদের পিছু নিয়ে ঘাট পর্যন্ত এসেছে একটি কালো মেয়ে। তারপর হঠাৎই মেয়েটি অদৃশ্য হয়ে যায়। সেই থেকেই মায়ের মূর্তি হচ্ছে কালো আর এলো চুল। কালিসায়র থেকেই পাটকাঠি জ্বালিয়ে মধ্যরাত্রে ঘট আনা হয়। ফাইল চিত্র



