অনিমেষ মণ্ডল, কাটোয়া: আত্মনির্ভর গ্রাম। উন্নয়নের জন্য রাজনৈতিক নেতাদের কাছে যাওয়ার খুব একটা প্রয়োজন পড়ে না এখানে। ১৫ বছর ধরে চাষ করেই গ্রামের বাসিন্দা গ্রামীণ উন্নয়ন তহবিল গড়েছেন৷ সেখান থেকেই লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে বাসিন্দারা নিজেরাই প্রাসাদপ্রম কমিউনিটি হল বানিয়েছেন। রাজ্যের এমন গ্রামের একতা দেখে হতবাক সবাই।
গ্রামে যেখানে রাজনৈতিক বিভেদের ছবি হরবখত দেখা যায়, অথবা এক ছটাক জমি নিয়ে নানা পরিবারে চরম বিবাদের ঘটনা ঘটে সেখানে কেতুগ্রাম-২ ব্লকের খেয়াইবান্দা গ্রাম ঘুরলে দেখা যাবে ভিন্ন ছবি। এই গ্রামে একে অপরের সঙ্গে মিলেমিশে থাকেন বাসিন্দারা। বছর ১৫ আগে গ্রামের প্রত্যেক ঘর থেকে একজন করে সদস্য নিয়ে মোট ১০৪জন মিলে জোট বেঁধে চাষাবাদ শুরু করেছিলেন। আর সেই চাষের লভ্যাংশ গ্রামেরই উন্নয়নের কাজে লাগানো হয়েছে। গড়ে উঠেছে স্থায়ী সম্পদ। বেহাল রাস্তা সংস্কার থেকে দুঃস্থ ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া শেখানো হয় গ্রামে। এখানে ১২বিঘা জমিতে ধান চাষ হয়। সেখান থেকে ফসল বেচে উন্নয়নের কাজ হয়। এমনকী, সেই টাকায় বীজধান, সার এসবও কেনা হয়। পাশাপাশি তোলা হয় চাঁদাও।
গ্রামের বাসিন্দা গৌতম ঘোষ, স্বপন ঘোষ, বুদ্ধদেব পালরা বলেন, প্রায় ১৫ বছর আগে গ্রামের কয়েকজন মিলে ঠিক হয় কিছু জমিতে যৌথভাবে ধান চাষ করা হবে। সেই চাষ থেকে যা লাভ হবে তা গ্রামেরই বারোয়ারি তহবিলে জমা রাখা হবে। সেই টাকা থেকেই একটু একটু করে উন্নয়নের করা হচ্ছে।
খেয়াইবান্দা গ্রামে প্রায় আড়াই হাজার মানুষের বাস। ৯৬টি পরিবার রয়েছেন এখানে। সবাই চাষাবাদ করেই আয় করেন। খেয়াইবান্দা গ্রামে বারোয়ারি রক্ষাকালী পুজো হয়। পুজো কমিটির নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে চাষের টাকা জমা থাকে। সেখানে থেকে খরচ করা হয়। তিল তিল করে জমিয়ে ৫৪লক্ষ টাকা খরচা করে গ্রামে একটি কমিউনিটি হল নির্মাণ হয়েছে। দোতলা ভবন তৈরি হয়েছে। সেখানে দাতব্য চিকিৎসালয় চলে। চাষের ধান মজুত রাখা হয় ওই ভবনের গোডাউনে। এমনকি, গ্রামের কোনো গরিব পরিবারের বিপদের সময়েও এই তহবিল থেকেই সাহায্য করা হয়। কমিটির পক্ষ থেকে পড়ুয়াদের জন্য একটি ফ্রি কোচিং সেন্টারও চালু হয়েছে। বাসিন্দারা বলেন, এখানে আত্মকেন্দ্রিকতার কোনো জায়গা নেই। সবুজে ঘেরা গ্রামে সবাই বাঁচি সবার তরে।