চেন্নাই: আইপিএল মানেই অতি সাধারণের অনন্য সাধারণ হয়ে ওঠার গল্প। গলি থেকে রাজপথে উত্তরণের কাহিনি। যাবতীয় প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে আকাশ ছোঁয়ার রূপকথা। হোয়্যার ট্যালেন্ট মিটস অপরচুনিটি— ক্রিকেটীয় প্রতিভা মেলে ধরার মঞ্চই যে কোটিপতি লিগ! আর সেই তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের ভিগনেশ পুথুর। কেরলের মাল্লাপুরম থেকে উঠে আসা ২৪ বছর বয়সি বাঁ-হাতি স্পিনার রবিবার তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। চেন্নাই সুপার কিংসের অধিনায়ক ঋতুরাজ গায়কোয়াড়, শিবম দুবে ও দীপক হুদাকে ফেরান তিনি। মুম্বই হারলেও মাত্র ১৭ রানে তিন উইকেট নিয়ে সাড়া ফেলেছেন অটোচালকের পুত্র ভিগনেশ। এক রাতেই বদলে গিয়েছে তাঁর জীবন।
অটো চালিয়েই ছেলেকে ক্রিকেটার বানিয়েছেন সুনীল কুমার। টানাটানির সংসার। তার মধ্যেই ডালপালা মেলে ভিগনেশের ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন। আরও আশ্চর্যজনক হল, এখনও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটই খেলেননি তিনি। এমনকী, কেরলের সিনিয়র দলের হয়েও মাঠে নামা হয়নি। কেরল ক্রিকেট লিগ ও তামিলনাড়ু প্রিমিয়ার লিগেই যা হাত ঘোরানো। অ্যালেপ্পি রিপলস নামে একটা দলের হয়ে খেলার সময়ই মুম্বই ইন্ডিয়ান্সদের স্কাউটদের নজরে আসেন তিনি। তাতেই ঘুরে যায় জীবনের গতিপথ। নভেম্বরে মুম্বইয়ের নেটে নির্বাচনী ট্রায়ালে বোলিং করেন। নিলামে ৩০ লক্ষ টাকায় তাঁকে নেওয়া হয়। তারপর এমআই কেপ টাউন দলের সঙ্গে মাসখানেক ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকায়। সেখানে অধিনায়ক রশিদ খান ও বোলিং কোচ লাসিথ মালিঙ্গার পরামর্শ সমৃদ্ধ করে তাঁকে। দেশে ফেরার পর মুম্বইয়ের নেটে রোহিত শর্মা, সূর্যকুমার যাদব, তিলক ভার্মাদের মুশকিলে ফেলেন তিনি। সেজন্যই নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল প্রথম ম্যাচে। আস্থার মর্যাদা রেখেছেন ভিগনেশ।
ক্রিকেটের পাশাপাশি চালিয়ে যাচ্ছেন পড়াশোনা। কালিকট বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরাজি সাহিত্য নিয়ে এমএ পড়ছেন। তবে বল হাতে পড়লেই তিনি বাকি সবার চেয়ে আলাদা। বাবা সুনীলের কথায়, ‘মুম্বইয়ের হয়ে প্রথম ম্যাচেই খেলবে ভাবিনি। এমনকী আইপিএলে সুযোগ পাওয়াটাও কল্পনার অতীত। আশা করব, ও সবার প্রত্যাশা পূরণ করবে।’ গৃহবধূ মা বিন্দুর আবেগঘন প্রতিক্রিয়া, ‘ম্যাচের পর ও ফোন করেছিল। ভিগনেশকে এত খুশি কখনও দেখিনি। আমরাও এমন তৃপ্তি কখনও অনুভব করিনি। আনন্দে সারারাত ঘুমোইনি।’ অতীতে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স থেকে উঠে এসেছেন যশপ্রীত বুমরাহ, হার্দিক পান্ডিয়ার মতো তারকা। ধারার আবর্তে হয়তো আরও এক নতুন তারার জন্ম হল রবিবারের চিপকে।