ভোর ৫টা থেকে সকাল ৮টা, টাকি রোড সংলগ্ন মণ্ডপগুলিতে বন্ধ প্রতিমা দর্শন, সবজি ও দুধের জোগান অব্যাহত রাখতে সিদ্ধান্ত পুলিশের
  • ৯ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: কালীপুজোর মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ঢল। সেই ভিড় সামলেই কলকাতার বাজারে সবজি ও দুধের জোগান অব্যাহত রাখতে হবে। এই দুই গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের ভারসাম্য রাখতে অভিনব সিদ্ধান্ত নিল বারাসত জেলা পুলিশ। তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাতভর ঠাকুর দেখার সুযোগ থাকলেও ১১ নভেম্বর (বুধবার) পর্যন্ত প্রতিদিন ভোর ৫টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত টাকি রোডের বড়ো মণ্ডপগুলিতে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ থাকবে। ওই তিন ঘণ্টা রাস্তা ছেড়ে দেওয়া হবে সবজি ও দুধের গাড়ির জন্য। এভাবে পুজোর ভিড়ের মধ্যেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পরিবহণ সচল রাখার পরিকল্পনা করেছে পুলিশ। দেগঙ্গা ও বসিরহাট থেকে প্রতিদিন টাকি রোড ধরে কলকাতায় আসে প্রচুর সবজি ও দুধের গাড়ি। কালীপুজোর সময় দর্শনার্থীদের ভিড়ে এই রাস্তা কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। ওই অবস্থায় পণ্য পরিবহণ ব্যাহত হতে পারে। সেই সমস্যা এড়াতেই সকালের দিকে নির্দিষ্ট তিন ঘণ্টা দর্শনার্থীদের আনাগোনা কমিয়ে পণ্যবাহী গাড়ির যাতায়াত স্বাভাবিক রাখতে চাইছে পুলিশ। 

Advertisement

বারাসতের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দুর্বার বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘দেগঙ্গা ও বসিরহাট থেকে সবজি ও দুধের গাড়ি টাকি রোড ধরে কলকাতার দিকে যায়। সেই প্রক্রিয়া যাতে ব্যাহত না হয়, তার জন্যই এই সিদ্ধান্ত। বুধবার পর্যন্ত ভোর ৫টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত টাকি রোড পুরোপুরি সচল রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাই ওই সময় রাস্তার ধারের বড়ো পুজোমণ্ডপগুলিতে প্রতিমা দর্শন বন্ধ থাকবে।’ তবে শুধু টাকি রোড নয়, ভিড় সামলাতে বারাসত ও মধ্যমগ্রামের যান চলাচলেও একাধিক বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। এবছর এই দুই শহরে মোট ২ হাজার ৬১৪টি কালীপুজো হচ্ছে। তার মধ্যে ৩৯টি বিগ বাজেটের পুজো। দর্শনার্থীদের ভিড়ও বাড়বে বলে অনুমান পুলিশের। তাই আগামী ১১ নভেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন দুপুর ২টো থেকে পরের দিন ভোর ৫টা পর্যন্ত ১১২ নম্বর জাতীয় সড়ক এবং টাকি রোডে জরুরি পরিষেবা ছাড়া সমস্ত গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকবে। কলকাতা থেকে উত্তরবঙ্গগামী দূরপাল্লার বাস ও পণ্যবাহী ট্রাককে বিমানবন্দরের আড়াই নম্বর গেট থেকে বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হবে। দেগঙ্গা ও বসিরহাটমুখী গাড়ির জন্য বিকল্প রুট মধ্যমগ্রামের বাদু রোড। ডাকবাংলো মোড়ে থাকবে নো-এন্ট্রি। দর্শনার্থীদের গাড়ি রাখার জন্য ১১ নম্বর রেলগেট সংলগ্ন রেল ইয়ার্ড, আরিফবাড়ি মোড়, আরদেবক এবং পূর্ব বারাসত স্কুল সংলগ্ন এলাকায় পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাস থেকেও পুজোর মধ্যে বাস চলবে না। বিকল্প বাসস্ট্যান্ড করা হয়েছে আরিফবাড়ি, আরদেবক, গেঞ্জি মিল ও পোড়া ফ্যাক্টরি এলাকায়। দুই শহর মিলিয়ে মোতায়েন থাকছেন প্রায় ৩ হাজার পুলিশকর্মী। দায়িত্বে থাকবেন পুলিশ সুপার পদমর্যাদার দুজন এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার চার জন আধিকারিক। পুলিশ সুপার জে মার্সি জানিয়েছেন, নির্বিঘ্নে প্যান্ডেল হপিংয়ের জন্যই এই যান নিয়ন্ত্রণ। অন্যদিকে, বিমানের ওঠানামায় সমস্যা এড়াতে মধ্যমগ্রাম থানা এলাকায় ফানুস ওড়ানোয় নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে।