Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মেদিনীপুরে জেলা পরিষদের উদ্যোগে বিদ্যাসাগরের প্রয়াণ দিবস পালিত

বুধবার মেদিনীপুর শহরের জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রয়াণ দিবস পালিত হল। এদিন বিদ্যাসাগরের মূর্তিতে মাল্যদান করেন জেলা পরিষদের শিক্ষা, সংস্কৃতি বিভাগের কর্মাধ্যক্ষ শ্যামপদ পাত্র, জেলা পরিষদের দলনেতা মহম্মদ রফিক, জেলা আইএনটিটিইউসি সভাপতি গোপাল খাটুয়া, ডিপিএসসি চেয়ারম্যান অনিমেষ দে, জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের আধিকারিক বরুণ মণ্ডল সহ জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা।

মেদিনীপুরে জেলা পরিষদের উদ্যোগে বিদ্যাসাগরের প্রয়াণ দিবস পালিত
  • ৩১ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: বুধবার মেদিনীপুর শহরের জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রয়াণ দিবস পালিত হল। এদিন বিদ্যাসাগরের মূর্তিতে মাল্যদান করেন জেলা পরিষদের শিক্ষা, সংস্কৃতি বিভাগের কর্মাধ্যক্ষ শ্যামপদ পাত্র, জেলা পরিষদের দলনেতা মহম্মদ রফিক, জেলা আইএনটিটিইউসি সভাপতি গোপাল খাটুয়া, ডিপিএসসি চেয়ারম্যান অনিমেষ দে, জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের আধিকারিক বরুণ মণ্ডল সহ জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা। 

Advertisement

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলা পরিষদের শিক্ষা দপ্তরের উদ্যোগে জেলার চার হাজারের বেশি স্কুলে বিদ্যাসাগরের মূর্তি বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারমধ্যে ৬০ শতাংশের বেশি স্কুলে বিদ্যাসাগরের মূর্তি বসানো হয়ে গিয়েছে।
এদিন শ্যামপদবাবু বলেন, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রয়াণ দিবস পালন করা হল। সকলের সহযোগিতা ছাড়া এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা সম্ভব ছিল না। বিদ্যাসাগর আমাদের গর্ব। তাঁর দেখানো পথেই শিক্ষা জগৎ চলছে। জেলার প্রতিটি স্কুলে বিদ্যাসাগরের মূর্তি বসানো হবে। একইসঙ্গে পঠনপাঠনের পরিকাঠামো আরও উন্নত করতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। 
মহম্মদ রফিক, এটাই বাংলার সংস্কৃতি। কর্মাধ্যক্ষ শ্যামপদবাবুর উদ্যোগকে কুর্নিশ জানাচ্ছি। ওঁর উদ্যোগে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যার সুফল পাচ্ছে জেলার পড়ুয়ারা। সিপিএমের সময় শিক্ষা ব্যবস্থা বেহাল অবস্থা সামনে থেকে দেখেছি। এখন অনেক প্রকল্পের সুবিধা পায় পড়ুয়ারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্য সরকার চাইছে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে। সেইমতো পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাতেও একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলার শিক্ষা দপ্তর। ইতিমধ্যেই জেলার বিভিন্ন স্কুলে সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। প্রাইমারি ও হাই স্কুলে উন্নতমানের পরিকাঠামো তৈরির জন্য একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। 
প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, আগে বেশিরভাগ স্কুলে পানীয় জলের ব্যবস্থাও ছিল না। শৌচালয় না থাকায় সমস্যায় পড়তে হতো পড়ুয়াদের। কিন্তু, বর্তমানে প্রতিটি স্কুলে পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একইসঙ্গে পড়ুয়াদের সুবিধার্থে স্মার্ট ক্লাস রুম তৈরি করা হচ্ছে। এখন বেশিরভাগ স্কুলে কম্পিউটার থাকায়, প্রত্যন্ত এলাকার পড়ুয়ারাও আধুনিক পদ্ধতিতে পড়াশোনা করতে পারছে। 
জানা গিয়েছে, মেদিনীপুর জেলা পরিষদের উদ্যোগে সদ্য স্থাপিত হয়েছে ‘বর্ণপরিচয় গ্রন্থাগার ও সংগ্রহশালা।’ এর মাধ্যমে অবিভক্ত মেদিনীপুরের মাটি ও মানুষের কথা, ইতিহাসের পাতা, সাহিত্যের আলো ও সংস্কৃতির স্পন্দন সংরক্ষিত থাকবে।
 শ্যামপদবাবু বলেন, মেদিনীপুরের ইতিহাস, স্বাধীনতা আন্দোলন, সংস্কৃতি, সাহিত্য ও জেলার গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে অনেকে বই লিখেছেন, গবেষণা করেছেন। আমাদের অনুরোধ, সেই মূল্যবান বইগুলির একটি করে কপি ‹ বর্ণপরিচয় ‹ গ্রন্থাগারে দান করুন। ডিপিএসসির চেয়ারম্যান বলেন, এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে আমরা খুব খুশি। বাংলার সংস্কৃতি আমরা ভুলব না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ