Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাঁকুড়ায় চটুল গানের সঙ্গে সিপিএমের যুব সংগঠনের নেতাদের নাচের ভিডিও ভাইরাল

বাঁকুড়ায় চটুল গানের সঙ্গে সিপিএমের যুব সংগঠনের নেতাদের নাচের ভিডিও ভাইরাল
  • ২৫ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: ‘চটুল গানে’ সিপিএমের যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআই নেতানেত্রীদের অঙ্গভঙ্গি করে নাচের ভিডিও ভাইরাল হতেই বাঁকুড়ায় বিতর্ক শুরু হয়েছে। মাস তিনেক আগে বাঁকুড়া শহরের স্কুলডাঙায় ডিওয়াইএফের জেলা কার্যালয়ে ওই ভিডিও তোলা হয় বলে বাম নেতারা জানিয়েছেন। সেখানে শহিদ নেতাদের মালা পরানো ছবিও রয়েছে। তার সামনেই চলে উদ্দাম নাচ। আন্দোলন করতে গিয়ে শহিদ হওয়া নেতানেত্রীদের ভাঙিয়ে সিপিএম তথা বামেরা রাজনীতিতে বরাবর ‘ডিভিডেন্ড’ তুলে এসেছে। শহিদদের সম্মান জানানো যে শুধু কথার কথা, তা তাদের প্রতিকৃতির সামনে উদ্দাম নাচের মাধ্যমেই বাম যুব সংগঠনের নেতানেত্রীরা প্রমাণ করে দিয়েছেন বলে বিরোধীদের অভিমত।  যদিও ‘এডিটিং’ করার পর ওই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে ডিওয়াইএফ নেতৃত্ব দাবি করেছে। তবে ওই ‘নাচাগানায়’ অন্যায় কিছু দেখছেন না লালপার্টির নেতারা। এদিকে, প্রকাশ্যে কেউ মুখ না খুললেও বিষয়টি নিয়ে ডিওয়াইএফের অন্দরে নিন্দার ঝড় বইতে শুরু করেছে। অনেকেই ভাইরাল হওয়া ভিডিও-র ব্যাপারে যথাযথ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন। ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সংগঠন ছাড়ার হুঁশিয়ারিও কেউ কেউ দিতে শুরু করেছেন। তবে যুব সংগঠনের ‘হাঁড়ির হালের’ কথা মাথায় রেখে সিপিএমের কার্যত ‘ঢোঁড়া সাপের ছুঁচো গেলার’ অবস্থা হয়েছে।    

Advertisement

এব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানার জন্য সিপিএমের বাঁকুড়া জেলা সম্পাদক দেবলীনা হেমব্রমকে ফোন করা হলে মিটিংয়ে ব্যস্ত আছেন জানিয়ে ফোন কেটে দেন। পরে আর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। সিপিএমের রাজ্য কমিটির এক সদস্য বলেন, নাচাগানার মধ্যে আমরা খারাপ কিছু দেখছি না। তাছাড়া যুব সংগঠনের কার্যালয়ে চটুল গান বাজানো হয়নি। ফলে দলের তরফে এব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার কোনও প্রশ্ন ওঠে না। তবে এব্যাপারে সংবাদ মাধ্যমকে যা বলার তা ডিওয়াইএফ নেতারাই বলবেন।
ডিওয়াইএফের বাঁকুড়া জেলা সম্পাদক সঞ্জয়কুমার মাণ্ডি বলেন, মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে দলের জেলা কার্যালয় উদ্বোধন উপলক্ষ্যে নেত-কর্মীরা জড়ো হয়েছিলেন। সেখানে একটি অনুষ্ঠান হয়। ওইসময় আমি অবশ্য জেলা সম্পাদক ছিলাম না। তবে ভাইরাল হওয়া ভিডিও-র পুরোটা সত্য নয়। তা এডিট করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছাড়া হয়েছে। এর পিছনে বিরোধীদের চক্রান্ত রয়েছে। আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমাদের সংগঠন দিনদিন বাড়ছে। তা রুখতে এভাবে সংগঠনকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা চলছে।     
যুব তৃণমূল কংগ্রেসের বাঁকুড়া জেলা সভাপতি রাজীব দে বলেন, অশ্লীল ও চটুল গানে নাচা, আমোদ ফূর্তি করাটাই এখন সিপিএমের যুব সংগঠনের সংস্কৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিপিএম নেতারা মুখে নারী সুরক্ষা নিয়ে বড় বড় বুলি আউড়ান। অথচ যুব সংগঠনের মহিলা সদস্যদের সঙ্গে নেতারা কোমর দুলিয়ে নেচে তা ক্যামেরাবন্দি করার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেন। লজ্জায় মুখ ঢাকতে না পেরে ডিওয়াইএফ নেতারা এখন বিরোধীদের মিথ্যা দোষারোপ করছেন। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ