শ্রীকান্ত পড়্যা, খেজুরি: ভোট পরবর্তী হিংসার শিকার খেজুরির উত্তর মালদা গ্রামের সেই প্রৌঢ়ার সঙ্গে যোগাযোগই রাখছে না বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব। এবার ভোটপ্রচারে যাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও স্থানীয় নেতৃত্ব যোগাযোগ না করায় অভিমানী ওই মহিলা গৃহবন্দি। বুধবার দুপুরে ওই মহিলা উত্তর মালদা গ্রামের মাটির বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে বলেন, বিরোধী দলনেতার উদ্যোগে প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা অনুদান পাই। তাতে সংসার চালাতে খুব কষ্ট হয়। আবাস যোজনায় ৬০হাজার টাকা পাওয়ার পর ইট, বালি কিনলেও বাড়ি বানাতে পারিনি। এখনও স্থানীয় দুষ্কৃতীরা নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। যদিও স্থানীয় নেতৃত্ব সেভাবে খোঁজখবর রাখেনি। ভোটপ্রচারে যাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও কেউ যোগাযোগ না রাখায় সেটা করতে পারিনি। পাঁচ বছর আগের নির্যাতনের স্মৃতি এখনও ভুলতে পারিনি। ফের ভোট চলে এল। সেইসঙ্গে হুমকি-ধমকিও শুরু হয়েছে।
২০২১সালে ২মে ফল প্রকাশের পরদিন খেজুরি ও নন্দীগ্রাম বিধানসভার বিভিন্ন জায়গায় হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। খেজুরি থানার উত্তর মালদা গ্রামের বিজেপির সক্রিয় কর্মী ওই মহিলার বাড়ি লক্ষ্য করে বোমাবাজি হয়। ৪মে ওই প্রৌঢ়ার বাড়িতে ঢুকে ধর্ষণ করে মুখে বিষ ঢেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। সেই ঘটনায় ওই প্রৌঢ়াকে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ২২দিন রেখে চিকিৎসা করানো হয়েছিল। সেসময় দেখভালের যাবতীয় দায়িত্ব পালন করেছিল বিজেপি। ওই ঘটনায় সিবিআই তদন্তভার নেয়। পুলিশ চারজনের বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু করে তদন্ত করলেও সিবিআই সেই মামলায় একজনের নাম রেখে বাকি তিনজনের নাম চার্জশিট থেকে বাদ দিয়েছিল। এনিয়ে নির্যাতিতা ওই প্রৌঢ়া ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন। এখনও সিবিআই তদন্ত চলছে। নিগৃহীতার আর্জির ভিত্তিতে আদালত চার অভিযুক্তের নাম মামলায় যুক্ত করেছে। এই মুহূর্তে সেই পরিবারের সঙ্গে বিজেপির দূরত্ব বেড়েছে। স্থানীয় নেতারা খোঁজখবরও রাখেন না। অথচ, ২০২১সালে ভোট পরবর্তী খেজুরির ঘটনা নিয়ে রাজ্য রাজনীতি তোলপাড় হয়েছিল। সিবিআই তদন্তও হয়। দল পাশে না থাকায় বুধবার এনিয়ে আফশোস করছিলেন ওই নির্যাতিতা। তাঁর এক প্রতিবেশী বলেন, খেজুরি বিধানসভার বিধায়ক শান্তনু প্রামাণিক ওই প্রৌঢ়ার সঙ্গে কোনও যোগাযোগ রাখেননি। একমাত্র শুভ্রাংশু দাস ছাড়া অন্য কোনও নেতা এই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেনি।
ওই নির্যাতিতা বলেন, আমার দুই মেয়ে এবং এক ছেলে। ছোট মেয়ের বর মারা যাওয়ায় তাদের সন্তান আমার কাছে থাকে। মেয়েব দ্বিতীয় বিয়ে হয়েছে। সেই নাতির ভরণপোষণ আমাকেই করতে হয়। তিন হাজার টাকা অনুদান পাই। কিন্তু, তাতে অনেক কষ্ট করে সংসার চালাতে হয়। আমার মামলা পূর্ব মেদিনীপুর জেলা ও দায়রা কোর্টে চলছে। সেখানে সাক্ষীদের নিয়ে যেতে হয়। মূল অভিযুক্ত জামিনে ছাড়া পেয়ে ফের হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব কোনওরকম খোঁজখবর নেয় না।
খেজুরি-২ ব্লকের তৃণমূল নেতা সমুদ্ভব দাস বলেন, ওই পরিবারকে হুমকি-ধমকি দেওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। আবাস যোজনায় নির্মাণসামগ্রী কিনেও বাড়ি বানাতে না পারার বিষয়টিও জানা নেই। এনিয়ে খোঁজখবর নেব। খেজুরি বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী সুব্রত পাইক বলেন, আমরা উত্তর মালদা গ্রামের ওই প্রৌঢ়ার সঙ্গে কথা বলব। তাঁর উপর অত্যাচারের ঘটনায় আমাদের দল প্রথম থেকেই পাশে ছিল। আগামী দিনেও তাঁর পাশে দল থাকবে। নিজস্ব চিত্র