সংবাদদাতা, বোলপুর: এই মুহূর্তে ইউনেস্কোর দেওয়া ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট’ স্বীকৃতি রক্ষা করাই হবে সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ কাজ। বিশ্বভারতীর সদ্য নিযুক্ত উপাচার্য ডঃ প্রবীরকুমার ঘোষ বৃহস্পতিবার হেরিটেজ সংক্রান্ত এক বৈঠকে এরকমই নির্দেশ দিয়েছেন সমস্ত কর্মী ও আধিকারিকদের। হেরিটেজের রক্ষণাবেক্ষণ ও অগ্রগতির কাজ দেখতে ২০২৭ সালে ইউনেস্কোর একটি প্রতিনিধি দল শান্তিনিকেতনে আসছে বলে বিশ্বভারতী সূত্রে জানা গিয়েছে। এই পরিদর্শন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ওই প্রতিনিধি দলের রিপোর্টের উপরই শান্তিনিকেতনের হেরিটেজ তকমা থাকা না থাকা নির্ভর করবে। সেই গুরুত্বপূর্ণ পরিদর্শনের আগে প্রতি মাসে হেরিটেজ সংক্রান্ত পর্যালোচনা বৈঠক ডাকার কথা উপাচার্য বলেছেন বলেও জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ। তিনি বলেন, ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট স্বীকৃতি রক্ষায় অগ্রাধিকার দিতে উপাচার্য নির্দেশ দিয়েছেন। তার জন্য শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্য, স্থাপত্য ও পরিবেশের মৌলিকত্ব সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণে কোনও আপোস না করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন উপাচার্য। প্রথমটি প্রশাসনিক, দ্বিতীয়টি হেরিটেজ সংক্রান্ত। প্রশাসনিক বৈঠকে কেন্দ্রের বরাদ্দ অর্থ ৩১ মার্চের মধ্যে খরচ করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ। প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন স্থায়ী উপাচার্য না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নানাবিধ সমস্যায় পড়তে হয়েছে। বিশ্বভারতীতে বহু গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য পড়ে রয়েছে। পঠনপাঠনে যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে। এমনকী, কেন্দ্রের বরাদ্দ অর্থের খরচও সঠিক পদ্ধতিতে হয়নি। বিশ্বভারতীর বিভিন্ন সমস্যার কথা জানতে এদিন শান্তিনিকেতনের সেন্ট্রাল অফিসে বৃহস্পতিবার প্রশাসনিক বৈঠক ডাকা হয়। বৈঠকে উপাচার্য ছাড়াও ভারপ্রাপ্ত কর্মসচিব অশোক মাহাত সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স, অ্যাকাউন্টস্, ইঞ্জিনিয়ারিং ও ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত বিভাগের আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। সেই বৈঠকে, বিভিন্ন বিভাগে বরাদ্দ অর্থ খরচের কথা জানতে চেয়েছিলেন নতুন উপাচার্য। টাকা উদ্বৃত্ত থাকলে তা বর্তমান অর্থবর্ষের ৩১ মার্চের মধ্যে খরচ করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে। বৈঠক প্রসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত কর্মসচিব অশোক মাহাত বলেন, নতুন উপাচার্য আসার পর এদিনই প্রথম প্রশাসনিক বৈঠক হল। বৈঠকে তিনি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বরাদ্দ অর্থ সঠিকভাবে খরচ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
এরপর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সংক্রান্ত দ্বিতীয় বৈঠকটি একই জায়গায় হয়। উপাচার্য, কর্মসচিব ছাড়াও ওই বৈঠকে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অফিসার অমিত হাজরা, হেরিটেজ সাইট ম্যানেজার অনিল কুমার, হেরিটেজ সেলের কো-অর্ডিনেটর স্বাতী গঙ্গোপাধ্যায় সহ সংশ্লিষ্ট কমিটির অন্যান্য সদস্যরা। ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষও ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে হেরিটেজের খুঁটিনাটি সমস্ত বিষয় আধিকারিকদের থেকে প্রবীরবাবু মন দিয়ে শোনেন। এরপর তিনি সকলকে শান্তিনিকেতনের হেরিটেজ স্বীকৃতি রক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেন।