নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রয়াত প্রাক্তন ওলিম্পিয়ান ভেস পেজ। ১৯৭২ সালের মিউনিখ ওলিম্পিকসে ব্রোঞ্জজয়ী ভারতীয় হকি দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। দীর্ঘ অসুস্থতার পর বৃহস্পতিবার ভোররাতে সব লড়াই শেষ। ৮০ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন ভেস পেজ। উল্লেখ্য, টেনিস কিংবদন্তি লিয়েন্ডার পেজের বাবা ভেস পেজ। তাঁর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ ক্রীড়ামহল। এদিন বিবৃতি দিয়ে শোকজ্ঞাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি লিখেছেন, ‘হকি ছাড়াও স্পোর্টস মেডিসিনের ক্ষেত্রে ভেস পেজের অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর পরিবারকে সমবেদনা জানাই।’ এছাড়া লিয়েন্ডারকে সান্ত্বনা দিয়ে শোকপ্রকাশ করেন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে ভেস পেজের দুই কন্যা বিদেশ থেকে ফিরলেই শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। হকি ফেডারেশনের সভাপতি দিলীপ টির্কে ছাড়াও টেনিস সুন্দরী সানিয়া মির্জার মন্তব্য, ‘ভেজ পেজের প্রয়াণ খেলাধূলার জগতে অপূরণীয় ক্ষতি।’
১৯৪৫ সালে গোয়ায় জন্মান ভেস পেজ। হকির পাশাপাশি ক্রিকেট ও রাগবিতেও তুখোড়। ১৯৭১ সালে স্পেনের বার্সেলোনায় বসে হকি বিশ্বকাপের আসর। ব্রোঞ্জজয়ী ভারতীয় দলের অন্যতম মিডফিল্ডার হিসাবে নজর কাড়ের পেজ। এরপর মিউনিখ ওলিম্পিকসে সাফল্য আসে হাত ধরাধরি করে। জাতীয় দলের বাস্কেটবল ক্যাপ্টেন জেনিফারের সঙ্গে বিবাহসূত্রে অবদ্ধ হন তিনি। স্পোর্টস মেডিসিন নিয়ে বরাবরই উৎসাহী ছিলেন ভেস পেজে। ডেভিস কাপে ভারতীয় দলের চিকিৎসক হিসাবেও দীর্ঘসময় যুক্ত ছিলেন সুভদ্র, সদালাপী এই ক্রীড়াবিদ। এমনকী পুত্র লিয়েন্ডার পেজের ম্যানেজার হিসাবেও দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। বাবাই ছিলেন লিয়েন্ডারের আদর্শ। ওলিম্পিকসে অংশ নেওয়ার স্বপ্ন নিয়েই টেনিস র্যাকেট হাতে তুলে নিন লিয়েন্ডার। ১৯৯৬ সালে আটলান্টা ওলিম্পিকসে ব্রোঞ্জ জেতেন লিয়েন্ডার। বেকবাদানের বাড়ির ট্রফি ক্যাবিনেটে পাশাপাশি সাজানো থাকতো দু’দুটো ওলিম্পিকস পদক।
ময়দানের সঙ্গে বরাবরই ভেস পেজের নিবিড় যোগ। মোহন বাগান, ইস্ট বেঙ্গলের হয়ে চুটিয়ে হকি খেলেছেন। লাল-হলুদের বেটনকাপ জয়ী হকি দলের অন্যতম সদস্য তিনি। পরবর্তীতে সুভাষ ভৌমিক কোচ থাকাকালীন ইস্ট বেঙ্গলের টিম ডাক্তার হিসাবেও অবদান রাখেন ভেস পেজ।