Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শুক্রবাসিনী

উত্তরা আমাকে ছেড়ে গেছিল। অথচ সে-ই একদিন আমাকে বলেছিল, যাই হয়ে যাক কোনওদিন ছেড়ে যাবে না আমাকে। এমন নয় যে আমি ওর কথা বিশ্বাস করেছিলাম পুরোপুরি।

শুক্রবাসিনী
  • ১৫ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সোমজা দাস: উত্তরা আমাকে ছেড়ে গেছিল। অথচ সে-ই একদিন আমাকে বলেছিল, যাই হয়ে যাক কোনওদিন ছেড়ে যাবে না আমাকে। এমন নয় যে আমি ওর কথা বিশ্বাস করেছিলাম পুরোপুরি। তবে অবিশ্বাস করার মতো মনের জোর যে পাইনি সেটাও ঠিক। অমন ফাটাফাটি সুন্দরী একটা মেয়ে যদি ভালোবাসার কথা বলে, বিশ্বাস করতে লোভ হয় কি না বলুন?       

Advertisement

সেসব অবশ্য অনেক আগের কথা। তখন সবে আমরা ল’ কলেজে সেকেন্ড ইয়ার। আইন ব্যবসায়ী হওয়ার জন্য ক্লাসে মন দিয়ে লেখাপড়া করি। তর্ক করি। ক্লাসের বাইরে তর্ক-বিতর্কের ধারপাশ দিয়েও হাঁটি না। 
সেই সময়ে ‘ডেটিং’ শব্দটাই তখন আমাদের ডিকশনারিতে ছিল না। আমরা তখন প্রেম করতাম। কলেজ ক্যাম্পাসের গাছের তলায়, ক্যান্টিনে, ক্লাসে, বারান্দায়, সিঁড়িতে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গল্প করতাম আমরা। গভীর কোনও তত্ত্ব আলোচনা নয়, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বা রাজনৈতিক চর্চা নয়। সাধারণ সব কথা। নিত্যদিনের চর্চা।
বলা ও শোনা। সে বলত। আমি শুনতাম। আমার মতো নিবিষ্ট শ্রোতা যে কোনও নারীর কাছেই পরম প্রার্থিত। আমি ওকে পরামর্শ দিতাম না। ঠিক ভুল ধরিয়ে দেওয়ার দায় নিইনি কোনওদিন। সমস্যার সমাধান করার জন্য তৎপর হইনি। নিজের কথাও বলিনি। শুধু শুনেছি। আমি জানতাম, ও আমার কাছে সেটাই চায়। শুধু ওই বা কেন, যে কোনও নারী প্রেমিক হিসেবে একজন ভালো শ্রোতা চায়। আমার খুব গর্ব ছিল, আমার মতো প্রেমিক এই সংসারে দুর্লভ।          
এই ধারণার পেছনেও এক কাহিনি আছে। আমাদের পাড়ার রকের আড্ডার সবজান্তা বিশেদা একবার বলেছিল, মেয়ে মাত্রেই নাকি শুক্রগ্রহের প্রাণী। পুরুষেরা এসেছে মঙ্গল থেকে। শুনে ভোলা জিজ্ঞাসা করে বসেছিল, ‘তা বিশেদা, মঙ্গল বা শুক্কুরে সেটল না করে এই পোড়া পিত্থিমিতে আসতে গেল কেন বল তো?’  
বিশেদা গম্ভীরমুখে বলেছিল, ‘ওসব গভীর তত্ত্বকথা। তুই বুঝবি না।’
ভোলা তখন সদ্য সদ্য পাশের বাড়ির রিন্টির প্রেমে পড়েছে। হাবুডুবু অবস্থা। রিন্টি অতি ঘোরেল মেয়ে। ভোলাকে গত তিন মাস ধরে নাকে দড়ি দিয়ে ঘুরিয়ে সেদিনই বিকেলে পার্কে দেখা করতে ডেকেছে প্রথমবার। তাই ভোলা এসেছিল বিশেদার গুরুবাক্য শুনতে। এখনও মনে আছে বিশেদা বলেছিল, ‘নিজে মুখ বন্ধ রাখবি। যা বলবে চুপচাপ এমনভাবে শুনে যাবি যে, পৃথিবীতে রিন্টির কথা শোনার চাইতে গুরুতর বিষয় আর কিছু নেই। থাকতেই পারে না।’
‘আর ও যদি কিছু জিজ্ঞাসা করে?’
বিশেদা বিজ্ঞের মতো হেসে বলেছিল, ‘ওটাই ট্র্যাপ। পা দিয়েছিস কী মরেছিস। যদি জিজ্ঞাসা করে বলবি, তুমি যা বলছ তাই ঠিক। মনে রাখবি যে পুরুষ যত ভালো শ্রোতা, সে তত সাকসেসফুল প্রেমিক।’
ভোলা মনে রেখেছিল কি না জানি না, কিন্তু আমি রেখেছিলাম। কদাপি নারীজাতির সঙ্গে তর্কে যাই না। কিন্তু তা সত্ত্বেও উত্তরা আমাকে ছেড়ে গেল। কলেজ ছাড়ার পর থেকেই বেশ বুঝতে পারছিলাম ওর মন উড়ুউড়ু। তারপর একদিন নিজেই বলল, ‘লাইফটা দরকচা মেরে গেল মাইরি। তোর দোষ নেই। এমনিতে ছেলে তুই মন্দ নোস। একটু ক্যাবলা বটে, তবু প্রেমিক হিসেবে চলে যায়। কিন্তু ক্যাবলা বরের সঙ্গে জীবন কাটানো মুশকিল।’
মুশকিল যে, সে বিষয়ে সন্দেহ ছিল না। এদিক ওদিক থেকে খবরাখবর আমার কানে আগেই আসছিল। এবার নিশ্চিত হওয়া গেল, যা রটে, কিছু তো বটে। এর মাস ছয়েকের মধ্যে আমার তিন বছরের পুরনো প্রেমিকাটি তার ডাক্তার বরের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে চলে গেল ঘর বাঁধতে। মানা করেছিলাম। ভয় দেখিয়েওছিলাম। বলেছিলাম, ‘চেনা নেই শোনা নেই। অত দূরে চলে যাবি। তোকে নিয়ে গিয়ে যদি লোকটা শেখেদের কাছে বেচে দেয়?’
উত্তরা আমার দিকে ভস্ম করে দেওয়া দৃষ্টিতে তাকিয়েছিল। ওর সেই আগুন ওগরানো চোখের দিকে তাকিয়ে বুঝে গেছিল আমার মন, এ পুরো গন কেস। কালো কোট পরে ওকালতি করা ওর দ্বারা আর হবে না। সংসারের কোর্টরুমে এক তরফা শুনানি হয়, সেটা কে না জানে! সেখানে গৃহিনীই প্রোসেকিউটার, ডিফেন্ডার, জাজ সব। নিজেকে সান্ত্বনা দিলাম এই বলে যে ওর কপালে উটে চড়ে বেগুন-মুলো কিনতে যাওয়া নাচছে।        
সেটা অবশ্য ছিল আমার প্রাথমিক অনুভূতি। পরে উত্তরার বরকে দেখে মন বদলেছিল! লম্বা-চওড়া, ফর্সা। দেখতেও ভারী ভালো। উত্তরার সঙ্গে দিব্যি মানায়। বিয়ের দিন দু’টিকে পাশাপাশি দেখে নিশ্চিন্ত হয়েছিলাম। মনে হয়েছিল, ভাগ্যিস। ডাক্তারবাবুর জায়গায় আমি থাকলে বেচারি উত্তরার বিয়ের ছবিগুলো কি আর অমন ঝকঝকে উঠত! কালো মেঘ সরে গিয়ে মনটা ফুরফুরে হয়ে উঠেছিল। সেই স্বস্তি সেলিব্রেট করার জন্য ওর বিয়েতে পেট পুরে বিরিয়ানি খেয়েছিলাম। শেষপাতে নলেন গুড়ের নরম মাখা সন্দেশ। এখনও জিভে লেগে আছে সেই স্বাদ।     
সে যাই হোক। এসবই পুরনো কথা। উত্তরাকে এখনও দেখি সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেজেগুজে ছবি পোস্ট করে। সেসব ছবিতে ওর মুখ ঝলমল করে দেখতে পাই। ওর ডাক্তার বর আরব শেখদের সুচ ফুটিয়ে প্রচুর দিরহাম কামাচ্ছে তা মুখের হাসি দেখলেই মালুম চলে। তাতে আমার আপত্তি ছিল না। থাকলেই বা আমার আপত্তিতে কার কী এসে যায়।     
সমস্যাটা হল অন্য জায়গায়।   
আচ্ছা, প্রাক্তন প্রেমিকা যদি রাতবিরেতে ফোন করে বলে আমার জন্য তার খুব মন খারাপ করছে, তাহলে বিশ্বামিত্রের ধ্যানও টলে কি না বলুন তো! আমি ঢোক গিলে বলেছিলাম, ‘সত্যিই তো। খারাপ লাগাই তো উচিত!’
‘কেন উচিত?’ গর্জে  উঠেছিল উত্তরা। ‘তুই অমন ক্যাবলা না হলে তোকেই তো বিয়ে করতাম। কিন্তু...’
আমার ভেতরটা কেমন মুচড়ে উঠেছিল সেই মুহূর্তে, বিশ্বাস করুন। শত হলেও সে আমার প্রাক্তন। কত দূরে সেই কোন মরুশহরে বসে আমার জন্য তার মন খারাপ করছে শুনলে দুঃখ হয় না! ক্যাবলা হতে পারি, হৃদয়হীন তো নই।    
‘সত্যিই তো, নেহাত ক্যাবলা না হলে...’, বলতে চেষ্টা করলাম আমি।
‘শাট আপ!’ ফোনের মধ্যেই গর্জে উঠল উত্তরা। আমি থতমত খেয়ে চুপ করে গেলাম। স্পষ্ট শুনলাম, উত্তরা ফোঁপাচ্ছে। এই মরেছে! আমি আবার স্ত্রী-জাতির চোখের জল মোটে সহ্য করতে পারি না। নরম গলায় বললাম, ‘কী হয়েছে রে?’  
‘তুই জানিস না। তোদের ডাক্তারবাবু একেবারে পাষণ্ড।’
চিন্তিত গলায় জিজ্ঞাসা করলাম, ‘কেন? তোকে মারধর করে নাকি?’
ব্যারেজের লকগেট খুলে দেওয়ার মতো তোড়ে বলে যেতে লাগল উত্তরা।
‘মারধর তো তবু ভালো ছিল। ও যা করে তাকে মানসিক নির্যাতন বলে। আমার মন খারাপ হলে বলে প্রাণায়াম করতে। যখন আমার ওর সঙ্গে গল্প করতে ইচ্ছে করে, ঠিক ওর তখনই ফুটবল ম্যাচ দেখার ইচ্ছে হয়। আরও শুনবি? ঝগড়াঝাঁটির সময় যখনই আমি নিজের অভিযোগগুলো জানাতে চাই, ও কী করে ভাবতে পারিস?’
‘কী করে?’ প্রশ্নটা করেই সতর্ক হলাম। স্বামী-স্ত্রীর বেডরুমে আড়ি পাতা উচিত নয়।
উত্তরা উচিত-অনুচিতের ধার থোড়াই ধারে! ভ্যাঁক করে কেঁদে ফেলে বলল, ‘পাশ ফিরে ঘুমিয়ে পড়ে। তুই ভাবতে পারিস? কী নির্মম! কী সাংঘাতিক লোক! জাস্ট পড়ে পড়ে মরার মতো ঘুমোয়। ফুরফুর করে নাক ডাকে ওর। আমি যে জেগে আছি, পেটের ভেতর এত্ত এত্ত নালিশ খলবল করছে, তার তোয়াক্কা না করেই যে পুরুষ ঘুমিয়ে পড়তে পারে, তার এগেনস্টে বধূ নির্যাতনের মামলা করা যায় না রে?’
আমি আমতা আমতা করে বললাম, ‘হ্যাঁ...না মানে... ও দেশের আইন তো জানি না। এরকম কোনও ক্লজ আছে কি না...’
‘নিকুচি করেছে তোর ক্লজের!’ আমাকে সেই পুরনো দিনের মতো দাবড়ে চুপ করিয়ে দিল উত্তরা। বলল, ‘এমন লোকের সঙ্গে জাস্ট ঘর করা যায় না। দুবাইয়ে কে থাকছে? আমি এখনও ইন্ডিয়ান সিটিজেন। তুই আমার উকিল। ডাক্তারবাবুকে আমার তরফ থেকে ডিভোর্স নোটিস পাঠাবি তুই।’   
‘অ্যাঁ?’
‘অ্যাঁ না, হ্যাঁ। এক সপ্তাহের মধ্যে পাঠাবি। বোঝা গেল?’ 
‘কোথায় পাঠাব?’
‘তুই কি মানুষ হবি না? ডাক্তারবাবুর ঠিকানায় পাঠাবি আবার কোথায়?’
হোঁচট খেলাম। এ মেয়ে বলে কী! আমি এই কলকাতায় বসে প্রাক্তন প্রেমিকার স্বামীকে দুবাইয়ে ডিভোর্স নোটিস পাঠাব! উত্তরাকে বোঝাতে চেষ্টা করলাম, ‘যাহ্‌! তাই কী হয় নাকি? স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তো এমন হয়েই থাকে। কথা বল নিজেদের মধ্যে। ডিভোর্স কোনও সলিউশন নাকি?’ 
বেশ খানিকক্ষণ ফোনের অপর প্রান্ত থেকে কোনও কথা শোনা গেল না। ভাবলাম, যা শালা, কেটে দিল নাকি! ‘উত্তরা...’, আলতো করে ডাকলাম।
উত্তর নেই। 
‘শুনছিস?’ 
‘তুই এমন বদলে গেলি কীভাবে রে?’ আহত গলায় বলল উত্তরা।
‘আমি আবার কী করলাম?’
‘কী করলি? বলি আমাকে সাজেশন দেওয়ার তুই কে রে? আমি বলে ডাক্তারবাবুরও পরামর্শ শুনি না। সেখানে তুই...’
এত্ত বড় জিভ কাটলাম। তাড়াতাড়ি বললাম, ‘আরে না। আমি তোর ব্যাপারে জেনুইনলি কনসার্নড। ডাক্তারবাবু তোর উপর মানসিক নির্যাতন করছেন। এর একটা ফয়সালা হওয়া তো দরকার। তুই চিন্তা করিস না। আমি কালই ডিভোর্স নোটিস ড্রাফট করে পাঠাচ্ছি। শুধু ডিভোর্সই চাই? নাকি ডাক্তারবাবুকে জেলের ঘানিও টানাতে চাস বল? আর অ্যালিমনি?’
‘চুপ!’ বাঘিনির মতো গর্জন করে উঠল উত্তরা।    
আমি চুপ। 
‘আমার বরকে জেলের ঘানি টানাবি তুই, অ্যাঁ? এত বড় সাহস? অ্যালিমনি দেওয়াবি? তুই জানিস, বিয়ের পরেই ওর সব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট আমার সঙ্গে জয়েন্ট করিয়ে নিয়েছি। যা ওর আছে সব আমার। আস্ত মানুষটাই আমার। তুই কে রে ওকে ওকে দিয়ে জেলের ঘানি ঘোরানোর?’
নিরীহ গলায় বললাম, ‘তুই-ই তো বললি...’  
‘আমি বললেই তুই মানবি? এই জন্য তো ক্যাবলা বলি। চিরকেলে হাঁদা তুই। যখন বলেছিলাম, ডাক্তারবাবুকে বিয়ে করছি। তখনও একটা প্রতিবাদ করিসনি। চুপচাপ মেনে নিলি। আজ বলছি ডিভোর্স করব। তাও মেনে নিচ্ছিস। বলি, তোর নিজের কোনও বক্তব্য নেই রে?’       
হাসি চাপলাম আমি। উত্তরা উত্তেজনার বশে ভুলে গেছে, একটু আগে যখন ওকে ওর বরের সঙ্গে বোঝাপড়ার কথা জানিয়েছিলাম, ও তাতেও রেগে গেছিল। বিশেদা বলেছিল বটে, ‘শুক্রগ্রহের বাসিন্দাদের এই সমস্যা। এরা কী চায় নিজেরাও জানে না। মঙ্গলের এলিয়ানদের অবস্থা ভাব একবার! একে তো এদের ভাষা বোঝে না। আবার ছেড়েও দিতে পারে না এমন টান। বেচারিরা সারা জীবন ধরে ভেবেই পায় না, কী করলে ওদের মন পাওয়া যাবে!’ 
উত্তরা যখন ফোন ছাড়ল, ঘড়ির কাঁটা রাত এগারোটা পার করেছে। ফোনটা রেখে বালিশে মাথা দিয়ে শুলাম। ঘুম এল না অনেকক্ষণ। উত্তরা কি আমাকে সত্যিই ভালোবাসত? সেদিন যদি ওকে যেতে না দিতাম, ও কি থেকে যেত? অসংখ্য ভাবনারা মাথার ভেতর বুড়বুড়ি কাটছে।
ফোনটা বেজে উঠল আবার। এবারে বিশেদা। কল রিসিভ করে বললাম, ‘বল।’ 
‘তুই কি ঝামেলা পাকানোয় ডিপ্লোমা করেছিস?’ বিশেদার গলাটা গম্ভীর শোনাল।  
‘কেন?’ 
‘পিউ এসেছে। তোর উপরে হেব্বি খচে আছে। বলছে তোকে ডিভোর্স দেবে।’ সতর্ক গলায় বলল বিশেদা। 
পিউ বিশেদার শ্যালিকা। বললাম, ‘ডিভোর্স দেবে মানে? তার আগে বিয়েটা তো করতে হবে।’ 
‘সেটা তুই ওকে বোঝা। ও তোকে তেত্রিশবার ফোন করেছিল। ধরিসনি কেন? তোর ফোন নাকি গত এক ঘণ্টা যাবৎ এনগেজ আসছিল। কে ফোন করেছিল রে?’  
‘উত্তরা।’
‘কেলো করেছে। কেন? তাও এতদিন পরে! অ্যাই তোদের ব্যাপার কী রে?’
দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললাম, ‘কিছু নয়। ও ওর বরকে ডিভোর্স দেবে বলে আমাকে উকিল হায়ার করতে চায়।’
‘তোকে কেন? তুই কি ডিভোর্স লইয়ার?’ সন্দিগ্ধ গলায় বলল বিশেদা। ‘শোন বিট্টু, উত্তরাকে কাটা। পিউ কিন্তু জানতে পারলে খুন করে ফেলবে তোকে। এমনিতেই তুই জন্ম ক্যাবলা। এতদিনেও ওকে কিছু বলে উঠতে পারলি না। এই জন্য উত্তরা গেছে। এর পরে কিন্তু পিউও যাবে বলে দিলাম।’
বিশেদাকে থামিয়ে বললাম, ‘ফোনটা দাও ওকে।’
বিশেদা পিউয়ের হাতে ফোন ধরিয়ে দিল। 
‘হ্যালো...’
অপরপ্রান্তে পিউ বলছে। বলেই চলেছে। আমি শুনছি। সব কথা মাথায় ঢুকছে না। ভীষণ রেগে গেছে মেয়েটা। রাগারই কথা। 
‘পিউ...’
প্রবল বাক্যস্রোত বাধা পেয়ে থমকাল।  
এই সুযোগ। ফিসফিস করে বললাম, ‘পিউ, 
শুনছ তুমি?’  
‘চুপ করো। তুমি একটা ইউজলেস ফেলো। তোমার সঙ্গে... তোমার সঙ্গে...’, রাগে কথার খেই হারিয়ে ফেলে পিউ। একটু চুপ করে থেকে বললাম, ‘তোমার অনেক অভিযোগ আছে জানি। সব শুনব।  (খ) পাতার পর
সারাটা জীবন তো পড়েই আছে। আজ আমার কথা শোনো।’ ‘শুনব না। আমি ভীষণ রেগে গেছি।’ 
নরম গলায় বললাম, ‘রাগাই উচিত। আমি সত্যিই ইউজলেস। কী শাস্তি দেবে বল।’
‘তোমাকে... তোমাকে...’
বিশেদা বলে, লোহা গরম থাকতেই হাতুড়ি মারতে হয়। পিউ রাগে তোতলাচ্ছে। এই সুযোগ। চোখ বন্ধ করে বলে ফেললাম, ‘বিয়ে করবে আমাকে? প্লিজ। সারা জীবন ধরে তোমার সব কথা শুনব। প্রমিজ।’  
পিউ কাঁদছে। ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে। স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছি আমি।       
‘পিউ!’
ও উত্তর দিল না। ফোনের এ পারে মুচকি হাসলাম আমি। এই সুযোগ! আজকের রাতটা শুধু আমার। সারাটা রাত ধরে ওকে বলতে চাই ও আমার জন্য ঠিক কতটা। বিশেদা ভুল বলেছিল। আমি জানি, শুক্রের বাসিন্দারা যে সবসময় নিজেরাই বলতে ভালোবাসে তা নয়, কখনও কখনও ওরাও শুধু শুনতেই চায়।


Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ