সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: সোনামুখীর বিজেপি প্রার্থীর একসময়ের ছায়াসঙ্গী আজ তাঁর বিরুদ্ধেই গোঁজ প্রার্থী। আনন্দ আঁকুড়ে নামে ওই বিজেপি কর্মী এবার সাংবাদিক সম্মেলন করে দিবাকরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন। আনন্দবাবু এবারে নির্দল হয়ে সোনামুখী কেন্দ্র থেকে লড়ছেন। তাঁর নির্বাচনি প্রতীক ‘বালতি’। তিনি সংবাদমাধ্যমের কাছে প্রকাশ্যে বলেন, তাঁর লড়াই বিজেপির বিরুদ্ধে নয়। দিবাকর ঘরামির বিরুদ্ধে। তিনি সোমবার সাংবাদিক সম্মেলন করে তিনি দিবাকরের বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দাগেন। আর সেই খবর প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। স্বয়ং দিবাকরবাবুও বেজায় অস্বস্তিতে পড়েন।
দিবাকরবাবু বলেন,আমি ওঁর সম্পর্কে বিশেষ কিছু বলতে চাই না। উনি একজন সাধারণ কর্মী ছিলেন। আমার পিছু পিছু ঘুরতেন। সোনামুখীর ভাগলুই গ্রামের বাসিন্দা আনন্দবাবু সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেন, পাঁচ বছর আগে আমরা লড়াই করে দিবাকরবাবুকে জিতিয়েছিলাম। কিন্তু উনি কয়েকটা সোলার লাইট লাগানো ছাড়া আর কোনো উন্নয়ন করেননি। সোনামুখীর মানুষকে রাস্তা, পানীয় জল সহ একাধিক প্রতিশ্রুতি দিয়ে আমরা ভোট নিয়েছিলাম। তাঁদের কাছে আমরা মুখ দেখাতে পারছি না। এ ব্যাপারে দিবাকরবাবু বলেন, মানুষের কাছে বেশি যাওয়ার কোনো দরকার নেই। এখন পিঠ বাঁচানোর রাজনীতি চলছে। তাই মানুষ এমনিই ভোট দিয়ে দেবে। দিবাকরবাবু সোনামুখীর উন্নয়ন করেননি। তিনি শুধু নিজের উন্নয়ন করেছেন। আগামী দিনে সাধারণ মানুষকে দেওয়া আমাদের প্রতিশ্রুতি যাতে পূরণ করতে তার জন্যই আমি নির্দল হয়ে ভোটে দাঁড়িয়েছি।
আনন্দবাবু প্রায় আধঘণ্টা ধরে দিবাকরবাবুর বিরুদ্ধে সংবাদ মাধ্যমের ক্যামেরার সামনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আমাকে বিজেপির অনেকেই ভোটের ময়দান থেকে সরে আসার পরামর্শ দিয়েছিলেন। দলের নেতাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ থাকলে বসে যাওয়ার কথা বলেছেন। কিন্তু আমি মনে করি দিবাকরবাবুর একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর এটাই একমাত্র রাস্তা। তাই নির্বাচন থেকে সরে আসার কোনো প্রশ্নই নেই। বরং আমি দিবাকরবাবুর ব্যর্থতার কথা জনগণের সামনে তুলে ধরব।
তিনি বলেন, আমি চাই পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসুক। তাতে আমি খুশি হব। কিন্তু আমি দিবাকরবাবুকে হারাতে চাই। দিবাকরবাবু গত পাঁচ বছরে শুধু বড়ো বড়ো ভাষণ দিয়েছেন। উন্নয়ন কিছুই করেননি। উনি নিজের ব্যর্থতা ঢাকার জন্য বার বার তৃণমূলের বিরুদ্ধে কাজ করতে না দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। এভাবেই পাঁচটা বছর কাটিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু সরকারি কাজ কেউ আটকে দেবে, তা আমি অন্তত বিশ্বাস করিনি। তাই সোনামুখীতে বিজেপিকে বাঁচানোর জন্য দলের প্রচুর কর্মী আমার সঙ্গে রয়েছেন। দিবাকরবাবুর বাড়ি দামোদরের তীরে কুড়ুমপুর গ্রামে। তাঁর বাড়ির কাছে বালির অবৈধ কারবার চলছে। কিন্তু তিনি মুখ খুলছেন না কেন, তা নিয়ে আমাদের প্রত্যেকের মনে সংশয় রয়েছে। বিজেপি ডবল ইঞ্জিনের কথা বলছে। কিন্তু আমাদের এখানে ট্রিপল ইঞ্জিন সরকার চলছে। এখানে সাংসদ, বিধায়ক এবং গ্রাম পঞ্চায়েত বিজেপির। কিন্তু এলাকার উন্নয়ন হচ্ছে না। কেবল দিবাকরবাবুর ব্যক্তিগত উন্নয়ন হচ্ছে। তাই মানুষের দরজায় দরজায় গিয়ে বোঝাচ্ছি। আমাকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।