Bartaman Logo
২৬ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

জোড়া ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলা, মৃত কয়েকশো

ভেনেজুয়েলায় ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্পে ১৬৪ জনের মৃত্যু। লা গুয়েইরা সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত। বিস্তারিত জানুন।

জোড়া ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলা, মৃত কয়েকশো
  • ২৬ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

কারাকাস: ঘড়ির কাঁটা সবে সন্ধ্যা ছ’টা পেরিয়েছে। মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে জোড়া দানব-কম্পন। প্রথমটির তীব্রতা ৭.২ মাত্রার। দ্বিতীয়টি আরও শক্তিশালী, রিখটার স্কেলে মাত্রা ৭.৫। বুধবার পরপর এই দুই শক্তিশালী ভূমিকম্পে লণ্ডভণ্ড ভেনেজুয়েলা! লাতিন আমেরিকার এই দেশটির রাজধানী কারাকাস সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রাণহানির খবর মিলেছে। ভেঙে পড়েছে অজস্র বাড়িঘর। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কারাকাসের উপকণ্ঠে অবস্থিত সৈকত শহর লা গুয়েইরা। ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজ বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, অন্তত ১৬৪ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। জখম ৯৭১ জন। তবে তাঁর আশঙ্কা, হতাহতের সংখ্যা বহু বাড়তে পারে। কারণ, অসংখ্য বহুতল ভেঙে পড়েছে। নীচে ঠিক কত মানুষ আটকে রয়েছে, তার কোনো কূল-কিনারা নেই। বিভিন্ন সূত্র উদ্ধৃত করে একাধিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে— মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। ভেনেজুয়েলার বিপদের দিনে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে আমেরিকা। শোকপ্রকাশ করে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও।

Advertisement

ভেনেজুয়েলা একাধিক ফল্ট লাইনের কাছে অবস্থিত। যদিও সাউথ আমেরিকান এবং ক্যারিবিয়ান প্লেটের উপর অবস্থানের কারণে লাতিন আমেরিকার অন্যান্য অংশের তুলনায় এখানে শক্তিশালী ভূমিকম্প অনেক কম হয়। এবারের ঘটনা পুরোপুরি ব্যতিক্রম। বিগত ১০০ বছরে এতটা শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়নি ভেনেজুয়েলায়। কিন্তু কেন এতটা জোরালো কম্পন? মার্কিন জিওলজিকাল সার্ভে জানিয়েছে, প্রথম কম্পনটির কেন্দ্র ছিল কারাকাস থেকে প্রায় ১৭০ কিমি দূরে ক্যারিবিয়ান উপকূলে অবস্থিত মোরনের পশ্চিমে, ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ২২ কিলোমিটার গভীরে। দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে কেন্দ্র ছিল মোরনের ১৬ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে, ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। দু’ক্ষেত্রেই ভূপৃষ্ঠের খুব কাছাকাছি কেন্দ্র হওয়ায় এটি ‘শ্যালো ভূমিকম্পে’র রূপ নেয়। ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
বুধবার কম্পন অনুভূত হয়েছে লাতিন আমেরিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে। এমনকী রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ১,৭০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ব্রাজিলের আমাজন অঞ্চলেও একাধিক বহুতল খালি করতে হয়েছে। ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট রড্রিগেজ লা গুয়েইরাকে ‘বিপর্যয় জোন’ বলে চিহ্নিত করেছেন। সরকারি টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা গিয়েছে ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে তিনটি শিশুকে জীবিত অবস্থায় বের করার ছবি। একাধিক বহুতল ও বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ায় বর্তমানে কারাকাস ও আশপাশের এলাকায় একের পর এক রাস্তা বন্ধ। ফলে উদ্ধারের কাজ বিঘ্নিত হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের ভিতর ঢোকার জন্য পাওয়ার টুলের মাধ্যমে রাস্তা বানাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। নিখোঁজদের সন্ধানে নেমেছে সাধারণ মানুষও। বুধবার রাতেই জাতির উদ্দেশে ভাষণে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন রড্রিগেজ। এর মধ্যে টেলিফোন ও বিদ্যুৎ পরিষেবা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সংকট আরও বেড়েছে। ব্যাহত হয়েছে ইন্টারনেটও। কারাকাসে প্রাকৃতিক গ্যাস ও সাবওয়ে পরিষেবা স্থগিত রাখা হয়েছে। বন্ধ দেশের মূল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সিমোন বলিভারও। ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কে রাস্তায় নেমে আসেন বহু মানুষ। তবে অনেকেই বেরিয়ে আসতে পারেননি। তার আগেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে অসংখ্য বাড়িঘর। শিক্ষামন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী বেশ কিছুদিন ক্লাস বন্ধ থাকবে। স্কুলগুলিতে রাখা হবে আশ্রয়হীন মানুষকে।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ