কারাকাস: ‘ব্যাটল অব কারাবোবো ডে’ উপলক্ষ্যে জাতীয় ছুটি। তাই সন্ধ্যাটা পরিবারের সঙ্গে কাটানোর পরিকল্পনা ছিল বহু মানুষের। আচমকা তীব্র ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল চারপাশ। সেই সময় কারাকাসে নিজের বাড়িতেই ছিলেন মারিয়া আলেজান্দ্রা। নিজের সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা সংবাদ মাধ্যমের কাছে তুলে ধরেছেন তিনি। মারিয়ার কথায়, ‘দেওয়ালগুলিতে ফাটল ধরতে শুরু করে। আমরা কোনোমতে দরজাটা খুলে বাইরে বেরিয়ে আসি। চারপাশে ধুলোর মেঘ। কিছুই প্রায় দেখা যাচ্ছিল না। যতটুকু নজর যায়, শুধুই ধ্বংসস্তূপ। মনে হচ্ছিল যেন কোনো হরর মুভি দেখছি!’
আতঙ্কের ছবি ছড়িয়ে কারাকাসের সর্বত্র। ভূমিকম্পের ধাক্কায় ভেঙে পড়েছে একটি ২২ তলা ভবন। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকে পড়েছেন বহু মানুষ। সেখানে দাঁড়িয়ে এক মহিলার কাতর আর্তনাদ, ‘আন্তোনিও, আমি তোমার মা, আমি এখানেই আছি।’ প্রতিবেশীরা অসহায়ভাবে বাড়িটির ধ্বংসাবশেষের দিকে তাকিয়ে। তাঁদের মধ্যে একজন ধ্বংসস্তূপের মধ্যে হামাগুড়ি দিয়ে ঝুঁকে পড়েন। কান পেতে শোনার চেষ্টা করেন, যদি কারো কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যায়। কিন্তু সেখানে যেন শ্মশানের স্তব্ধতা! প্রায় একই ছবি দেশের অন্যত্রও। স্কুলশিক্ষক অ্যালান চুং বলেন, ‘ভূমিকম্পের সময় রেস্তরাঁয় ছিলাম। সেখান থেকে কোনোক্রমে বাইরে বেরিয়ে আসি। দেখি,বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গিয়ে ‘বিস্ফোরণ’ হচ্ছে।’