নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: ঘনঘন বৃষ্টির জেরে বিভিন্ন সব্জির দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে। এর জেরে পুজোর আগে বাজার করতে গিয়ে পকেটে টান পড়ছে মেদিনীপুরের মধ্যবিত্তদের। শহর ও গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দারা জানান, ধনেপাতার দামই প্রায় ১০০টাকা কেজি দরে হয়েছে। পটল, ঝিঙে, বেগুনের দাম দ্বিগুণ! শুধু আলু-পেঁয়াজের দর তুলনামূলকভাবে কম আছে।সব্জি বিক্রেতারা জানান, টানা বৃষ্টির জেরে পাইকারি বাজারে সব্জির দাম বেশি রয়েছে। পুজোর আগে সব্জির দাম কমার সম্ভাবনা কমই রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে গৃহস্থদের পাশাপাশি ছোটবড় রেস্তরাঁর মালিকরাও সমস্যায় পড়েছেন। এদিন রাজাবাজারে আসা অনুপকুমার দে বলেন, কিছুদিন আগেই সব্জির দাম নাগালের মধ্যে ছিল। এখন দাম বেড়ে গিয়েছে। বৃষ্টি হলেই সব্জির দাম বেড়ে যায়। এমনকী, মাছের দামও বেশ খানিকটা বেড়েছে। মুরগির মাংস ২২০টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তাহলে সাধারণ মানুষ খাবে কী? ধর্মাবাজারে দরদাম করছিলেন রাহুল দাস। তিনি বললেন, সমস্ত বাজারে সব্জির দাম বেশি। কাঁচালঙ্কা কিনতেও হাতে ছ্যাঁকা লাগছে। পুজোর মাসে এমনিতেই খরচ বেশি। তার মধ্যে সব্জির দাম বেড়ে যাওয়ায় আতান্তরে পড়েছি। জুন মাসের মাঝামাঝি থেকে টানা বৃষ্টি শুরু হয়। গতবছরের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি বৃষ্টি হওয়ায় গড়বেতা ১ ও ২ ব্লকের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি জলমগ্ন হয়ে পড়ে। জল তাড়াতাড়ি নেমে গেলেও চাষের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এরপর ঘাটাল মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে চাষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জুলাই-আগস্ট মাসেও দফায় দফায় বৃষ্টি হয়। জেলায় প্রায় পাঁচবার বন্যার পরিস্থিতি দেখা দিয়েছিল। এসব কারণেই সব্জির দাম বেড়েছে।মেদিনীপুর ও খড়্গপুর শহরে কেজি প্রতি পটল ও ঝিঙে ৭০টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৬০টাকা, বেগুন ৯০টাকা, কাঁচা লঙ্কা ১২০টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মেদিনীপুরের সব্জি ব্যবসায়ী খোকন দোলই বলেন, দাম বেড়ে যাওয়ায় আমরাও পাইকারি বাজার থেকে সব্জি কিনতে সমস্যায় পড়েছি।



