নেটফ্লিক্সের ‘মুসাফির কাফে’ এখন চর্চায়। ‘সুধা’র ভূমিকায় অভিনয় করে নজর কেড়েছেন নায়িকা বেদিকা পিন্টো। সিরিজে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা কেমন তাঁর? খোলামেলা আড্ডায় জানালেন অভিনেত্রী।
নেটফ্লিক্সের ‘মুসাফির কাফে’ এখন চর্চায়। ‘সুধা’র ভূমিকায় অভিনয় করে নজর কেড়েছেন নায়িকা বেদিকা পিন্টো। সিরিজে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা কেমন তাঁর? খোলামেলা আড্ডায় জানালেন অভিনেত্রী।
• প্রথমেই অভিনন্দন।
•• ধন্যবাদ। সিরিজটি মুক্তির পর মানুষ এত ভালোবাসা দিচ্ছেন, আমি আপ্লুত।
• আপনার সহ অভিনেতা বিক্রান্ত (ম্যাসি) জাতীয় পুরস্কারজয়ী। তাঁর সঙ্গে কাজ করতে যাওয়ার আগে কোনো চাপ কাজ করছিল?
•• হ্যাঁ, সত্যিই আমি ভয় পেয়েছিলাম। শুরুতে আমি খুব নার্ভাসও ছিলাম। মনে হচ্ছিল, একজন জাতীয় পুরস্কারজয়ী অভিনেতার সঙ্গে কাজ করতে পারব তো? কিন্তু বিক্রান্ত এতটাই সাহায্য করেন যে, তাঁর সঙ্গে কাজ করা খুব সহজ হয়েছিল। ধীরে ধীরে ভয় কেটে গিয়ে ওঁর প্রতি শ্রদ্ধা জন্মেছে। বন্ধুত্ব তৈরি হয়েছে। সেই রসায়নই পর্দায় ফুটে উঠেছে।
• প্রেম, বিয়ে আর জীবনসঙ্গী... এ নিয়ে আপনার ভাবনা কী?
•• আমি প্রেম, প্রতিশ্রুতি আর বিয়েতে বিশ্বাস করি। তবে সমাজের বেঁধে দেওয়া বয়স মেনে বিয়ে করা বা বাচ্চা নেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি না। প্রত্যেক মানুষের জীবনের সময় আলাদা, তাই যখন মনে হবে সঠিক মানুষকে পেয়েছি, তখনই বিয়ে করা উচিত। আমার বিশ্বাস, সত্যিকারের ভালোবাসা ঠিক সময়েই জীবনে আসে।
• ‘মুসাফির কাফে’তে আপনি এবং মহিমা (মকওয়ানা) অভিনয় করছেন। দুই অভিনেত্রীর মধ্যে প্রতিযোগিতা বা ‘ক্যাটফাইট’ নিয়ে অনেক আলোচনা শোনা যায়। আপনার কী মত?
•• ইন্ডাস্ট্রিতে নিরাপত্তাহীনতা থেকে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে পারস্পরিক বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা থাকলে একসঙ্গে কাজ করা সহজ হয়। মহিমার দীর্ঘ অভিনয়জীবন আমার কাছে সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। ছোটোবেলা থেকেই ও অভিনয় করছে, সেটা প্রশংসনীয়। ‘মুসাফির কাফে’র সেটে একটা ইতিবাচক পরিবেশ ছিল। সকলেই সেখানে আন্তরিকভাবে একে অপরকে উৎসাহিত করেছে।
• আপনার অভিনীত ছবি ‘নিশাঞ্চি’ প্রশংসিত হয়েছে। কিন্তু বক্স অফিসে ছবিটি প্রত্যাশিত ফল করতে পারেনি। হতাশ হয়েছিলেন?
•• হ্যাঁ, তখন খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। ‘নিশাঞ্চি’র জন্য আমি প্রায় তিন বছর পরিশ্রম করেছিলাম। তাই ছবিটি বক্স অফিসে ভালো ফল না করায় কষ্ট হয়েছিল। তবে এখন বুঝি, বক্স অফিস সব সময় আমাদের হাতে থাকে না। দর্শক যদি কাজকে ভালোবাসেন, সেটাই সবচেয়ে বড়ো প্রাপ্তি। ‘নিশাঞ্চি’ই আমাকে অভিনেতা হিসাবে আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। আর সেই আত্মবিশ্বাসের জন্যই ‘সুধা’ চরিত্রটি করতে পেরেছি।
• নিজের অভিনয়ের জার্নি নিয়ে সন্তুষ্ট?
•• আমার কেরিয়ারের কোনো চরিত্র একরকম নয়, আর এটাই সবচেয়ে বড়ো পাওনা। একজন অভিনেতা হিসাবে সবসময় নিজেকে নতুনভাবে চ্যালেঞ্জ জানাতে চাই। একজন নারীর ভিতরে অনেকরকম সত্তা থাকে, তাই পর্দাতেও সেই ভিন্ন ভিন্ন চরিত্র তুলে ধরতে চাই। কখনো প্রেমে পড়া মেয়ে, কখনো আইনজীবী, এমন বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পেয়ে আমি নিজেকে ভাগ্যবান বলে মনে করি।
দেবারতি ভট্টাচার্য • মুম্বই