জেকে নগরে অ্যালুমিনিয়াম কারখানা খোলার আশ্বাস বেদান্ত শিল্পগোষ্ঠীর
  • ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভা এলাকার জেকে নগরেই রয়েছে একদা এশিয়ার সর্ববৃহৎ অ্যালমিনিয়াম কারখানা। বন্ধ সেই কারখানা রয়েছে বেদান্ত শিল্পগোষ্ঠীর হাতে। সংস্থার শীর্ষকর্তা অনিল আগরওয়াল মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে বিনিয়োগ করার কথা জানাতেই এলাকায় দীপাবলির আগে আলোকিত হল পরিবেশ। বৃহস্পতিবার বন্ধ কারখানার গেটের সামনেই গেরুয়া আবির খেলে আনন্দে মেতে ওঠেন এলাকাবাসী। প্রাক্তন কর্মীরাও খুশি। 

Advertisement

বুধবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন, বেদান্ত গোষ্ঠীর কর্ণধারের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাঁরা পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলে বিনিয়োগ করতে প্রস্তাব দিয়েছেন। ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হওয়ার কথা জানিয়েছেন। ওখানে তাঁদের হাতে ৩০০ একর জমি আছে বলে আমাদের জানিয়েছেন। এই ঘোষণা শিল্পাঞ্চলবাসী বিশেষ করে আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভা এলাকার মানুষ দীপাবলির উপহার মনে করেছেন। প্রাথমিক আলোচনায় রয়েছে, হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করে এই বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী এখানে ফের অ্যালুমিনিয়াম কারখানা ও তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র করার ভাবনাচিন্তা করছে। তারা প্রাথমিক সার্ভেও করে নিয়েছে। শিল্পগোষ্ঠীর সবচেয়ে সুবিধা এখানে তাদের নতুন করে জমি কিনতে হবে না। শিল্পগোষ্ঠীর অধীনেই র঩য়েছে বিপুল জমি। 
জানা যায়, ১৯৩৮ সালে এখানে এশিয়ার প্রথম অ্যালুমিনিয়াম কারখান গড়ে ওঠে। প্রথমে বেসরকারি সংস্থা এই কারখানা চালু করলেও পরবর্তীকালে কংগ্রেস কেন্দ্রে ক্ষমতায় থাকাকালীন তা কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে আসে। পরবর্তীকালে তা কেন্দ্রীয় সরকারের অধিনস্থ সংস্থা ভারত অ্যালুমিনিয়াম কোম্পানি লিমিটেডের (বালকো) হাতে যায়। অটলবিহারী বাজপেয়ীর আমলে কারখানার ৫১ শতাংশ শেয়ার কিনে নেয় বেদান্ত শিল্পগোষ্ঠী। ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের অদূরে কোলিয়ারি ঘেঁষা শিল্প উপযোগী সব উপাদান সত্ত্বেও সেই সময়ে কিন্তু এই শিল্পগোষ্ঠী কারখানা পুরোমাত্রায় চালু করতে পারেনি। কারখানা খাতায়কলমে বন্ধ না হলেও উৎপাদন হয় না দু’ দশকের বেশি সময় ধরে। কারখানার শ্রমিকদের অবসর নিতে বাধ্য করা হয়েছে। এই অবস্থায় কারখানা এখন শ্মশানের রূপ নিয়েছে। সেই কারখানাতেই বিনিয়োগের কথা মুখ্যমন্ত্রীকে বলে এলাকার মানুষের মনে আশার আলো জানিয়েছেন শিল্পীপতি। 
কারখানার প্রাক্তন শ্রমিক সুবোধ মুখোপাধ্যায় বলেন, ১৯৭২ সাল থেকে কারখানায় কাজ করেছি। এই কারখানা চালু থাকা অবস্থায় এলাকার কী চিত্র ছিল তা কল্পনা করতে পারবেন না। একবার যদি এই কারখানা চালু হয়ে যায় শিল্পাঞ্চলের রূপ বদলে দেবে। আমরা সবাই স্বাগত জানাচ্ছি। এলাকার বিধায়ক তথা মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, মুখ্যমন্ত্রী বাংলায় বৃহৎ শিল্প আনার জন্য মরিয়া। আমার বিধানসভা এলাকায় এতবড় বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে। আমাদের সকলে মিলে তাঁকে বাস্তবায়িত করতে হবে। 
যদি প্রদেশ কংগ্রেস নেতা প্রসেনজিৎ পুইতণ্ডি বলেন, এই শিল্পগোষ্ঠী রাজ্যে নতুন সরকার এলেই একবার করে কারখানা খোলার কথা বলেন। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর সময়ে বলেছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সময়ে বলেছে, এবার শুভেন্দু অধিকারীর সময়ে বলল। কারখানার চালু হলে স্বাগত জানাব। কিন্তু আমাদের মনে হয় এটা আরেকটা জুমলা।  
সিপিএমের স্থানীয় এরিয়া সম্পাদক সুপ্রিয় রায় বলেন, বাজপেয়ীজির আমলে এই সরকারি কারখানাকে জলের দরে বেদান্তর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। তাঁরা একাধিক কারখানার করা বলা বলেও করেনি। আমরা এখনই তাঁদের কথায় বিশ্বাস রাখতে পারছি না। তবে কারখানায় উৎপাদন চালু হলে স্বাগত জানাব।