নয়াদিল্লি: ‘আচ্ছে দিনে’র প্রতিশ্রুতি শিকেয়। নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে বসার পর কেটে গিয়েছে ১২ বছরের বেশি সময়। এই পর্বে পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি, বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি, এমনকি ২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হয়ে ওঠার কথা বলেছে বিজেপি সরকার। যদিও বিরোধীদের বক্তব্য, এসব আসলেই জুমলা। একটি প্রতিশ্রুতিও পূরণ করতে পারেনি মোদি সরকার। সেই ব্যর্থতা ঢাকতেই নিত্যনতুন স্বপ্ন ফেরি করছে বিজেপি। এবার দেশে ক্রমবর্ধমান আর্থিক বৈষম্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করল বিরোধী দল কংগ্রেস। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনকে হাতিয়ার করে তাদের অভিযোগ, দেশের মানুষের অর্থনৈতিক দুর্দশা নিয়ে উদাসীন সরকার। কী লেখা রয়েছে সেই প্রতিবেদনে? রিজার্ভ ব্যাংকের তথ্য উল্লেখ করে তাতে লেখা হয়েছে, ব্যাংক আমানত, মিউচুয়াল ফান্ড ও অন্যান্য আর্থিক সম্পদে পারিবারিক লগ্নি কিছুটা বেড়েছে ঠিকই। কিন্তু ‘নতুন ধারদেনা’র বোঝা বৃদ্ধি পেয়েছে অনেক দ্রুত হারে। এর জেরে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে পারিবারিক সঞ্চয় একধাক্কায় ৪ শতাংশ কমে হয়েছে ২১.৬৯ লক্ষ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরে যা ছিল ২২.৫৭ লক্ষ কোটি টাকা। শুধু তাই নয়, পারিবারিক আর্থিক সম্পদ ৪৩.২০ লক্ষ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গত অর্থবর্ষের তুলনায় মাত্র ১২.৮ শতাংশ বেশি। উলটোদিকে পারিবারিক ঋণের পরিমাণ ২১.৫১ লক্ষ কোটি টাকা বেড়েছে। ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরের তুলনায় তা ৩৬.৭ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ দেশের আম পরিবারে সম্পদের তুলনায় নতুন ঋণের বোঝার বৃদ্ধিহার প্রায় তিন গুণ। এই প্রতিবেদনটি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে পোস্টে করে কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ লিখেছেন, মোদি জমানায় মধ্যবিত্ত চূড়ান্ত আর্থিক সংকটের মুখে। মুদ্রাস্ফীতির প্রকৃত চিত্র গোপন করতে তথ্যে কারচুপি করছে মোদি সরকার। বিভিন্ন তথ্য থেকে ইঙ্গিত, কোম্পানিগুলিতে নিয়োগ কমেছে।



