বন্ধ কারখানায় ধোঁয়া ওঠে না, ভুসো কালি না মেলায় কৃত্রিম রং-ই ভরসা মৃৎশিল্পীদের
  • ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুকান্ত বসু, কলকাতা: রাজ্যের অধিকাংশ কলকারখানা বন্ধ। বন্ধ কারখানা যেন ভুতুড়ে বাড়ি। তার চিমনি দিয়ে কালো ধোঁয়া বেরয় না। তার চিমনিতে ঝুল জমে না। ঝুল জমে না বলে ভুসো কালিও তৈরি হয় না। বাতিল বর্জ্যও যে কার্যকরী উপাদান তা কালী পুজো এলে বিলক্ষণ টের পাওয়া যায়। ভুসোর অভাবে শিল্পীরা মাথা চাপড়ান। ভুসোর নরম টেক্সচার কালীর মুখের কালো রং খোলতাই করত। তা নেই বলে কৃত্রিম রং দিয়ে মুখমণ্ডল রং করতে হয়। কিন্তু শিল্পীদের চোখে সে রং বড়োই ক্যাটকেটে। ভুসোর মতো মৃদু আভা তার নেই। তাই কাজ হারানো শ্রমিকরা শুধু নন, বন্ধ কারখানার বর্জ্য না পেয়ে হা হুতাশ করেন প্রতিমা শিল্পীরাও।

Advertisement

আগে কারখানা থেকে কিলো কিলো ভুসো কালি মিলত। তা আজ প্রায় ইতিহাস। সে কারণে এখন কৌটোবন্দি তরল কালো রং দিয়ে হয় কালী রং করার কাজ। বড়বাজারের রং পট্টি থেকে রং কিনে নিয়ে যান পটুয়াপাড়ার মৃৎশিল্পীরা। তাঁদের বক্তব্য, ‘ভুসো কালি মেলে না। সে জন্যই আমাদের বাধ্য হয়েই রং কিনতে হয়। বিভিন্ন দ্রবণের মিশ্রণ মিশিয়ে হয় প্রতিমার রং। অন্যদিকে ভুসো কালির থেকে কৌটোর কালো রঙের দাম বেশি। ফলে খরচও বেশি হয়। সে কারণে প্রতিমার দামও আগের তুলনায় বেড়ে গিয়েছে।
বড়বাজারে পণ্ডিত পুরুষোত্তম রায় স্ট্রিটে রয়েছে রং পট্টি। সেখানকার দোকানদার সমীরণ পাল বলেন, ‘প্রদীপ বা কুপির ধোঁয়া থেকেও ভুসো কালি মেলে। কিন্তু তা পর্যাপ্ত নয়। তুলনায় কারখানার চিমনি থেকে নির্গত ধোঁয়া থেকে বিপুল পরিমাণ কালো গুঁড়ো ও ঝুল মেলে। যা বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভুসো কালিতে পরিণত করা হয়। তা প্যাকেটে ভরে আগে বাজারে বিক্রি হত। কিন্তু এখন মেলে না।’ তিনি জানান, বর্তমানে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী কিছু জেলায় তৈরি হয় আর্টিফিসিয়াল তরল কালো রং। তাই আসে শহরের এই পাইকারি বাজারে। অন্যান্য ব্যবসায়ীর বক্তব্য, হাওড়া, হুগলি, বারাকপুর, বজবজ ইত্যাদি জায়গার অধিকাংশ কারখানা বন্ধ। ফলে ভুসো মেলে না। কালো রং তৈরি করেন সোয়েল কোচার। তিনি  বলেন, ‘কৌটোয় বরে লিটার হিসাবে বিক্রি হয় কালো রং। এখন ভালো বিক্রি হচ্ছে। বড়বাজারের অধিকাংশ দোকানে এই রং পাওয়া যায়।’ কুমোরটুলি মৃৎশিল্প সংগঠনের কর্তাদের বক্তব্য, ‘যা পরিস্থিতি তা দেখে মনে হয় ভবিষ্যতে ভুসো কালি আর মিলবে না। তরল কালো রঙই এখন ভরসা।’