মাশুল নেওয়া শুরুর আগেই বহরমপুরের অনেক দোকানে বন্ধ হল ইউপিআই পেমেন্ট
  • ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: দু’হাজার টাকার বেশি ইউপিআই লেনদেনে এবার থেকে ব্যবসায়ীদের গুণতে হবে মাশুল! কেন্দ্রের তরফে এমন নির্দেশিকা প্রকাশ হয়েছিল। পরে অবশ্য তা দীপাবলি অবধি স্থগিত রাখার কথা জানানো হয়েছে। কিন্তু বহরমপুরে বহু দোকানে এখনই অনলাইন পেমেন্ট না নেওয়ার নোটিস সাঁটানো হয়েছে। নতুন নিয়ম যে এখনও লাগু হয়নি, তা অনেক ব্যবসায়ী জানেন না। তাই প্রতি লেনদেনে টাকা কাটার ভয়ে ব্যবসায়ীরা অনেকেই ইউপিআইয়ের মাধ্যমে টাকা নেওয়া বন্ধ রেখেছেন। ফলে আমজনতা সমস্যায় পড়েছে।

Advertisement

‘ট্যাক্সেশন অ্যান্ড আদার ল’জ অ্যামেন্ডমেন্ট বিল ২০২৬’ নিয়ে এসেছিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণ। মূলত, ব্যাংক, ‘পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার’ ও ‘পেমেন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফার্ম’-অর্থাৎ যারা এই ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা চালায়; তাদের সুবিধা করে দিতে এই বিল সংসদে পাস হয়েছে। সেই অনুযায়ী ২০০০টাকার বেশি মার্চেন্ট পেমেন্টের ক্ষেত্রে ০.৪ শতাংশ মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা ফি প্রযোজ্য হবে। তবে এই ফি শুধুমাত্র দোকানদার বা মার্চেন্টকে দিতে হবে। গ্রাহককে নয়। দীপাবলির পরে দু’হাজার টাকার বেশি ইউপিআই লেনদেনে এই চার্জ কার্যকর হবে।
কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, দুর্গাপুজো মিটতেই অনেক দোকানের সামনে বোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে, ‘অনলাইনে টাকা নেওয়া হবে না’। কোথাও আবার দোকানের সামনে থেকে কিউআর কোড সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ফলে ক্রেতারা সমস্যায় পড়েছেন।
বহরমপুরের এক মুদিখানা ব্যবসায়ী রতন সেন বলেন, আমরা তো বরাবর অনলাইনে টাকা নিতাম। কিউআর কোডও আছে। কিন্তু প্রতি দু’হাজার টাকায় আমাদের কাছ থেকে চার্জ নেবে বলে এখন তা সরিয়ে দিয়েছি। ক্রেতা বুবাই মণ্ডল বলেন, নিয়ম এখনও লাগু হয়নি। অথচ প্রাথমিক খবর শুনেই অনেক জায়গায় ইউপিআই লেনদেন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পুজোর পরে কতই বা নগদ টাকা থাকে। কিছুতেই এই ব্যবসায়ীরা অনলাইন পেমেন্ট নিচ্ছেন না।
হরিদাসমাটির চায়ের দোকানদার কার্তিক ঘোষ বলেন, ছোট বিলেও এতদিন অনলাইনে টাকা নিয়েছি। কিন্তু এখন আমরা অতিরিক্ত টাকা দিতে পারব না। তাই দোকানের সামনে আগেভাগে বোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছি। অনেকেই নগদ না থাকায় চা না খেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। পরিচিতদের টাকা বাকি রাখছি। কিন্তু অন্যদের থেকে নগদ টাকা নিচ্ছি।