সংবাদদাতা, বনগাঁ: শনিবার পালিত হল সুঁটিয়ার প্রতিবাদী শিক্ষক বরুণ বিশ্বাসের মৃত্যুদিবস। বরুণ বিশ্বাসের বাড়ির সামনে তাঁর মূর্তিতে মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানান সুঁটিয়া প্রতিবাদী মঞ্চের সদস্যরা। উপস্থিত ছিলেন প্রতিবাদী মঞ্চের সভাপতি ননীগোপাল পোদ্দার। এদিন সুঁটিয়া রথ কমিটির পক্ষ থেকেও বরুণ বিশ্বাসকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। তবে সেখানে আসেননি বরুণ বিশ্বাসের পরিবারের সদস্যরা। বরুণের দিদি প্রমীলা রায় বিশ্বাস বলেন, ‘বাড়ির সামনে যে মূর্তি বসেছে, তার সঙ্গে ভাইয়ের মুখের মিল নেই। ভাইয়ের খুনিরা আজও শাস্তি পায়নি। আমরা মনে করি, ভাই আজও আমাদের সঙ্গেই আছে। তাই ভাইয়ের মৃত্যুদিন পালন করি না। জন্মদিন পালন করি।’
সুঁটিয়া প্রতিবাদী মঞ্চের সভাপতি ননীগোপালবাবু বলেন, ‘বরুণ বিশ্বাস একটা আদর্শ। আমরা সেই আদর্শ নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। বরুণ খুনে অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার হলেও মূল চক্রীরা এখনও অধরা।’ ২০১২ সালের ৫ জুলাই গাইঘাটার সুঁটিয়ার প্রতিবাদী শিক্ষক বরুণ বিশ্বাসকে গোবরডাঙা স্টেশনের বাইরে গুলি চালিয়ে খুন করে দুষ্কৃতীরা। তার এক বছর পর শুরু হয় মামলার বিচারপর্ব। ৯ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। খুনের অন্যতম অভিযুক্ত সুশান্ত চৌধুরী আলিপুর জেলে মারা যায়। সুঁটিয়া গণধর্ষণ-কাণ্ডের অন্যতম সাজাপ্রাপ্ত আসামী ছিল সে। উল্লেখ্য, ২০০০ সাল নাগাদ সুঁটিয়ায় একের পর এক গণধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে প্রতিবাদী মঞ্চ গড়়ে ওঠে। সেই প্রতিবাদের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বরুণ। গণধর্ষণের বেশ কিছু মামলার মূল সাক্ষী ছিলেন কলকাতার মিত্র ইনস্টিটিউশনের (মেইন) বাংলার এই শিক্ষক। তাঁর খুনিদের শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হয় গোটা রাজ্য। আজও এই হত্যার সুবিচারের আশায় দিন গুনছেন তাঁর পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি রাজ্যের অসংখ্য মানুষ। নিজস্ব চিত্র