আপনার অপছন্দের জিনিস বা কাজই যদি হয়ে ওঠে সবচেয়ে পছন্দের, তাহলে! ভাবছেন, এ আবার হয় নাকি? অপছন্দের বিষয় পছন্দের হবে কীভাবে? ঠিক এটাই হয়েছে তাঁর সঙ্গে। মেয়েটির কোঁকড়া চুল। ছোটো থেকেই নিজের জন্মগতভাবে পাওয়া চুলের ধরন পছন্দ হত না তাঁর। কিন্তু সেই অপছন্দের জিনিসটি দিয়েই নিত্যনতুন শৈল্পিক স্টাইল তৈরি করে ফেললেন অনায়াসে। তা যেন এক একটি ভাস্কর্য। কেশশিল্পই তাঁকে পরিচিত দিল। বিশ্বজুড়ে আজ তিনি পরিচিত এই শিল্পের জন্য। লক্ষ লক্ষ মানুষ তাঁর অনুরাগী। দুর্বলতা বা অপছন্দের বিষয়কে কীভাবে নিজের পক্ষে কাজে লাগানো যায়, তা প্রতিদিন প্রমাণ করছেন তিনি। নিউ ইয়র্কের অভিনেত্রী তথা শিল্পী লাইটিটিয়া কেওয়াই এক ব্যতিক্রমী প্রতিভার নাম। পশ্চিম আফ্রিকার আইভরি কোস্টে জন্ম লাইয়ের। প্রায় ১০ বছর ধরে নিজের চুলের উপর নানারকম পরীক্ষানিরীক্ষা করেছেন তিনি। কখনো পশুপাখি, কখনো জ্যামিতিক নকশা তৈরি হয় তাঁর কোঁকড়া চুল দিয়ে। কখনো বা তাঁর নিজের দেশের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য তৈরি করেন। নিজের তৈরি করা নানা স্টাইল নিয়ে সন্তুষ্ট হওয়ার পর তা প্রচারের আলোয় নিয়ে আসেন। সমাজমাধ্যমে ভাইরাল লাইটিটিয়ার নানা হেয়ার স্টাইল। তিনি বলেন, ‘প্রতিবার যখন এক একটা হেয়ারস্টাইল শেষ করি, আয়নায় নিজের দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকি। ভাবি, এখন এটাই আমার প্রতিদিনের হেয়ার স্টাইল হোক। কিছুদিন পরে অবশ্য তা বদলে নতুন কিছু করতেই ভালো লাগে।’ সকলের থেকে আলাদা কিছু করবেন, এটা ভাবতেন লাইটিটিয়া। অবশেষে তা সত্যিই সফল। সেই আলাদা কিছু তিনি করলেন তাঁর অপছন্দের চুল দিয়েই। যে কোঁকড়া চুল তাঁর সবচেয়ে অপছন্দ ছিল একসময়, সেটিই এখন তাঁর পরিচিতির মূল ভিত্তি। হাতি, মানুষের মুখ, হাত, গাছ, পাখি— আরও কত কী তিনি ফুটিয়ে তোলেন চুলের সাহায্যে। ফ্যাশনের বহু চেনা সংজ্ঞা ভেঙে দিয়েছেন। নিজের এই স্টাইল স্টেটমেন্ট দিয়েই তিনি বিশ্বের কাছে পরিচিত হয়েছেন। সেই পরিচিতি আজীবন সুনামের সঙ্গে অটুট রাখতে চান তিনি।



