Bartaman Logo
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘ভ্যানিশ কুমার’কে যেতেই হবে: মমতা

বিধানসভা ভোটের প্রচার পর্বে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলে নিয়মিত কটাক্ষ করতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট মিটে গিয়েছে।

‘ভ্যানিশ কুমার’কে যেতেই হবে: মমতা
  • ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

রাহুল চক্রবর্তী, শ্রীরামপুর: বিধানসভা ভোটের প্রচার পর্বে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলে নিয়মিত কটাক্ষ করতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট মিটে গিয়েছে। ৪ মে’র পর রাজ্য রাজনীতিতে ঘটে গিয়েছে একাধিক নাটকীয় পট পরিবর্তন। এর মধ্যে এসআইআরের বৈধতার প্রশ্নে ও ভোট চুরির অভিযোগে উত্তাল গোটা দেশ। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সুর চড়াচ্ছে বিরোধীরা। সেই আন্দোলনকে এবার মোদির মসনদ টলিয়ে দেওয়ার লড়াইয়ে নিয়ে যেতে চান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বর্তমানে তাঁর নেতৃত্বাধীন দলের নাম ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’। নতুন নাম পাওয়ার পর শনিবারই প্রথম জনসভা করেন তিনি। শ্রীরামপুরের কোর্ট ময়দানে আয়োজিত সেই সভা থেকে মমতার হুঙ্কার, ‘ভ্যানিশ কুমারকে যেতেই হবে। অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে হবে। ভোট লুট যারা করেছে, তাদের কোনো অবস্থায় ছাড় নেই। পিছনে যে নারদরা আছেন, তাঁদেরও গারদে ঢোকানো হবে। ওরা আমাদের বাংলা নিয়েছে, আমরা ওদের দিল্লি নেব।’

Advertisement

বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার পর ২১ জুলাই ও ২৮ আগস্ট কলকাতায়  প্রকাশ্য কর্মসূচি করেছিলেন মমতা। এরপর শনিবার শ্রীরামপুর কোর্ট ময়দানে জনসভা করলেন তিনি। হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে বিকাল ৪টা থেকে সভা শুরু হয় এবং ৬টার আগে শেষ হয়। সভায় ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। মানুষের সেই স্বতঃস্ফূর্ত সাড়াকে সঙ্গী করে দিল্লি এবং রাজ্যের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণের ঝাঁজ বাড়ান মমতা। তবে এই সভা ঘিরেও ছিল ঘটনার ঘনঘটা। সভায় যাওয়ার পথে বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষের গাড়িতে হামলা চলে। ডিম ছোড়ার পাশাপাশি ভাঙচুর করা হয় তাঁর গা঩ড়ি। উত্তরপাড়া থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন কুণাল। পরে ভাঙা গাড়ি নিয়ে ভবানী ভবনে যান তিনি। যদিও ওই গাড়ি নিয়ে তাঁকে ঢুকতে দেয়নি পুলিশ। এছাড়াও কর্মী-সমর্থকদের সভাস্থলে পৌঁছাতে নানা জায়গায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে বিজেপি মুখপাত্র দেবজিৎ সরকারের দাবি, ‘এই ঘটনায় বিজেপি কোনোভাবে যুক্ত নয়।’ 
জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনকে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মমতা। তাঁর কথায়, ‘৩০ তারিখ ইন্ডিয়ার বৈঠক। সবাই একজোট হয়ে লড়াই করব এবং বিজেপিকে হারাব। কে লাল, কে নীল, কে হলুদ, সেসব দেখার প্রয়োজন নেই এখন।’ অর্থাৎ এই আন্দোলনে কোনো দল নিয়ে তাঁর যে কোনো ছুঁৎমার্গ নেই, তা কার্যত স্পষ্ট করে দিয়েছেন মমতা। এদিন তাঁর বক্তব্যের সিংহভাগ জুড়ে ছিল এসআইআর করে তৃণমূলকে বিধানসভা ভোটে জোর করে হারানোর অভিযোগ। তিনি ফের দাবি করেন, ‘আমরা হারিনি। হারানো হয়েছে। এখন সব ফাঁস হয়ে গিয়েছে। এসআইআর বাতিল করতে হবে আর যাঁদের নাম বাতিল করা হয়েছে, তাঁদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।’ আরও বলেন, ‘ভ্যানিশ কুমারের বিদায় ঘণ্টা বেজে গিয়েছে। বাকিদের রেকর্ডও আমাদের হাতে আছে। উৎসব মিটলে আমরা এবার আরও একটা দশমী করব।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ