Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দক্ষিণপাড়ায় ‘বন্দেমাতরম ১৫০’, হাট বসেছে দমদম পার্ক সর্বজনীনে

১৮৭৫ সালে রচিত ভারতীয় বিপ্লবীদের বীজমন্ত্র ‘বন্দেমাতরম’। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে বন্দেমাতরম ব্যবহার করেছিলেন ১৮৮২ সালে।

দক্ষিণপাড়ায় ‘বন্দেমাতরম ১৫০’, হাট বসেছে দমদম পার্ক সর্বজনীনে
  • ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুদীপ্ত রায়চৌধুরী, কলকাতা: ১৮৭৫ সালে রচিত ভারতীয় বিপ্লবীদের বীজমন্ত্র ‘বন্দেমাতরম’। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে বন্দেমাতরম ব্যবহার করেছিলেন ১৮৮২ সালে। কিন্তু এই উপন্যাস লেখার সাত বছর আগেই গানটি রচনা করেন। গানটি ১৫০ বছরে পদার্পণ করল। বাগুইআটি দক্ষিণপাড়া যুব পরিষদের পুজো উদ্যোক্তা সুরজিৎ সাহা জানালেন, এবছর বন্দেমাতরম গানের ১৫০ বছর। সেই উপলক্ষ্যে আমাদের ভাবনাজুড়ে শুধুই বঙ্কিমচন্দ্রের এই অমর সৃষ্টি।

Advertisement

দক্ষিণপাড়ায় ইন্ডিয়া গেটের আদলে তৈরি মূল প্রবেশ পথ। ভিতরের অংশে একদিকের দেওয়ালে মাতঙ্গিনী হাজরার একাধিক ছবি। উল্টোদিকের দেওয়ালে বন্দেমাতরমের ১৫০ বছর উদযাপনের ছবি। মাঝে বাংলায় লেখা ‘মা’। বেদির উপর ভারতমাতার মূর্তি। তার পিছনে অনুশীলন সমিতির ঘর। ঘরের বাঁদিকে বিপ্লবীদের আরাধ্য মা কালীর মূর্তি। ডানদিকে রয়েছে ছোট একটি খাট। সতরঞ্চি পাতা তাতে। পাশে রাখা ইজিচেয়ার। টেবিলে পুরনো একটি টাইপ রাইটার, রেডিও, মাদুর ও সূর্য সেনের ছবি। ডানদিকে সুইচ বোর্ডের উপর রাখা নেতাজির ছবি। বিছানার পাশের দেওয়ালে একটি তাক। সেখানে হাতপাখা, টিনের জল রাখার পাত্র। একঝলকে মনে হবে এ কোনও বিপ্লবীর আস্তানা। ঘর পেরিয়ে মাঝে ফাঁকা অংশ। সে জায়গায় দেবী চৌধুরাণী ও ভবানী পাঠকের কাটআউট। চারপাশে ছড়িয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ছবি দেওয়া অসংখ্য তেরঙ্গা ঘুড়ি। তারা মুক্তির অপেক্ষায়। স্বাধীনতার বার্তা দিতে উড়বে আকাশে। মাঝে বিশাল একটি চেয়ার। সেটি ব্রিটিশ শাসকের প্রতীক। চেয়ারটি ত্রিশূলবিদ্ধ। ভারতের জাতীয় পতাকা বাঁধা সে ত্রিশূলে। পিছনে সংস্কৃত হরফে বড় করে লেখা ‘মা’। তারপরই দেবীর ঘর। সেখানে ব্রিটিশরূপী অসুরকে বধ করছেন দুর্গা। পিছনে মুক্তি পেয়ে উড়ছে তেরঙ্গা ঘুড়ি।
এই পুজো মণ্ডপ থেকে বেরিয়ে কিছুটা রাস্তা গেলেই দমদম পার্ক সর্বজনীনের প্যান্ডেল। তারা বানিয়েছে সহজ পাঠে পড়া ‘হাট’ কবিতার অনুকরণে থিম। ভাগ্নে মদনকে সঙ্গে নিয়ে মামা বংশীবদন চলেছেন ‘বক্঩শিগঞ্জের পদ্মাপারে’। শুক্রবারের সেই হাটে উচ্ছে, বেগুন থেকে ময়দা, আটা, শহরের সস্তা ছাতা বা নকশাকাটা শীতের র‌্যাপার মেলে। গ্রামের মানুষজন সেখানে জিনিসপত্র কেনাকাটা করেন। সেই ‘হাট’ ঠাঁই নিয়েছে স্মৃতির পাতায়। উন্নয়নের ছোঁয়ায় ভোল বদলে গিয়েছে গ্রামের। হাট আর বসে না বললেই চলে। সেখানে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে শপিং মল। হাটে গিয়ে জিনিস কেনার বদলে এখন মোবাইল অ্যাপে অর্ডার করলে দুয়ারে হাজির চাল-ডাল-আটা-দুধ। এই আধুনিক সময় দাঁড়িয়ে অতীতের হাটবাজারের অভিজ্ঞতা ফিরে আনছে এই পুজো। এবছর তাদের ৭৪তম বর্ষ। থিমের নাম, ‘হারায়ে খুঁজি’। পুজো কমিটির যুগ্ম সম্পাদক মলয় দে জানান, একসময় হাটই ব্যবসা বাণিজ্যের প্রাণভোমরা ছিল। গ্রামীণ অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্রও ছিল। সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র থেকে পোশাক বা গৃহপালিত পশুপাখিও বিক্রি হতো হাটে। সেই হাট এখন অতীত। হারিয়ে যাওয়া হাটবাজারের খোঁজই দেবে আমাদের পুজো। প্রতিমা নির্মাণ করছেন শিল্পী অভিষেক ভট্টাচার্য। মূর্তি গ্রামীণ মানুষের আদলে। তরুণ শিল্পী ঋজু করের হাত ধরে সেজে উঠছে মণ্ডপ। তাঁর কথায়, ‘গত ছ’মাস ধরে বিভিন্ন জায়গা ঘুরে সংগৃহীত ছবি ও তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি হচ্ছে প্যান্ডেল। ভিতরে ঢুকলে দেখা যাবে একটা গোল মতো ঘেরা জায়গা। ফলের বাক্স, মাছ ধরার ঘুনি দিয়ে সাজানো সেই জায়গার উপরের অংশটি কাচের। গ্লাস পেন্টিংয়ের মাধ্যমে হাটের বিভিন্ন দৃশ্য আঁকা হয়েছে। একটু এগলেই বাঁদিকে চোখে পড়বে একজন কুমোর। তাঁর দু’পাশের তাকে রাখা মাটির হাড়ি-কলসি-সরা। ডানপাশে মাছ ধরার জাল বোনার ছবি। তার চারপাশে ছড়িয়ে রয়েছে আরও জাল। প্যান্ডেলে বাজারহাটের চলতি গ্রাম্য কথাবার্তা আসবে কানে। প্যান্ডেলের অধিকাংশ ছবি ডিজিটাল। সবমিলিয়ে আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তি এসে মিশে গিয়েছে বাঁশ, চট, লোহা দিয়ে গড়ে তোলা একটি গ্রামের হাটে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ