অকল্যান্ড: আর কত অবিচার হবে বৈভব সূর্যবংশীর প্রতি? গৌতম গম্ভীর জমানায় ক্রমাগত বঞ্চনার শিকার এই বিস্ময় প্রতিভা। যার সর্বশেষ নমুনা শুক্রবার ইডেন পার্কে প্রথম এগারো থেকে বাদ। সেটাও মঙ্গলবার ওয়েলিংটনে ১৯ বলে ৪৫ রানের ধামাকাদার ইনিংসের পর!
একা রামে রক্ষা নেই, তায় সুগ্রীব দোসর— প্রাচীন অরণ্যপ্রবাদ যেন ক্যাপ্টেন শ্রেয়স আয়ারের সঙ্গে গম্ভীরের জুটিতে প্রতিফলিত। ১৫ বছর বয়সির আত্মবিশ্বাস ভেঙে দেওয়ার ঘৃণ্য চক্রান্তেই যেন মগ্ন দু’জনে। দিনের পর দিন ডাগ আউটে বসিয়ে রেখেও মনোবল ভাঙা যায়নি। তাই হয়তো ঝোড়ো ইনিংসের এমন পুরস্কার! যার কোনো ব্যাখ্যা হয় না। ক্রিকেটীয় যুক্তিতে যা একেবারেই আত্মঘাতী। আর তার প্রমাণও মিলল ইডেন পার্কে। চতুর্থ টি-২০ ম্যাচে শুধু বৈভব না খেলাতেই মুখ থুবড়ে পড়ল টিম ইন্ডিয়া। ৮৭ রানের লজ্জাজনক পরাজয়ের পর কি গম্ভীর-শ্রেয়সের বোধোদয় হবে?
সোশ্যাল মিডিয়া তো বটেই, বৈভবের বাদ পড়া নিয়ে উত্তাল প্রাক্তনীরাও। মহম্মদ কাইফ যেমন রীতিমতো গর্জে উঠেছেন। তিনি বলেছেন, ‘ওরা আবার বাদ দিল বৈভবকে। শেষ টি-২০ ম্যাচে ও অসাধারণ ব্যাট করেছে। অথচ পরের ম্যাচেই দলে জায়গা হল না ওর। এটা তো একটা ছেলের আত্মবিশ্বাস নিয়ে ছিনিমিনি খেলা! এতে মোটিভেশন হারাবে বৈভব। টান পড়বে নিজের দক্ষতার প্রতি আস্থাতেও।’ এখানেই থামেননি কাইফ। তাঁর সংযোজন, ‘বলা হচ্ছে, সঞ্জু স্যামসন আমাদের ম্যাচ উইনার। কিন্তু টি-২০ বিশ্বকাপের পর থেকে ওর পারফরম্যান্স একেবারেই সাদামাটা। বিদেশের কন্ডিশনে ঈশান কিষানকেও গড়পড়তা দেখাচ্ছে। প্রতিকূল পরিবেশে ওর গড় ২০’রও কম। আমার মনে হয়, সঞ্জু বা ঈশানের মধ্যে কোনো একজনের জায়গায় বৈভবকে খেলানো উচিত। ওর মতো প্রতিভাকে বসিয়ে রাখাটা একেবারেই মানা যায় না।’
একই সুরে গলা মিলিয়েছেন আকাশ চোপড়া। তাঁর মতে, ‘বৈভবকে কীভাবে ব্যবহার করা উচিত, আমরা সেটা জানিই না। আগের ম্যাচে দুরন্ত ইনিংসের পরও বাদ দেওয়া হল ওকে! টিম ম্যানেজমেন্টকে দিশাহারা লাগছে। ব্যাটারদের ক্ষেত্রে রোটেশন নীতি নেই। তবু কেন বাদ বৈভব? উত্তর নেই। তাহলে কি কোনো ক্রিকেটার চোট পেলে তবেই খেলবে ও? সেটাও পরিষ্কার নয়। তবে এটা স্পষ্ট যে, বৈভব অন্যায়ের শিকার।’



