Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

উত্তরবঙ্গ থেকে আলু যাচ্ছে বাংলাদেশে খুচরো বাজারে দাম চড়ছে, কালবাজারির শঙ্কা

উত্তরবঙ্গ থেকে আলু যাচ্ছে বাংলাদেশে খুচরো বাজারে দাম চড়ছে, কালবাজারির শঙ্কা
  • ৮ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি ও সংবাদদাতা, মেখলিগঞ্জ: ফের উত্তরবঙ্গ থেকে আলু রপ্তানি হচ্ছে বাংলাদেশে। গত কয়েকদিনে কোচবিহারের চ্যাংরাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে রপ্তানি করা হয়েছে ৩ লক্ষ ৭৫ হাজার কেজি আলু। অন্যদিকে, নতুন আলু ওঠার মুখে হিমঘর খালি করার নির্দেশ দিয়েছে কৃষি বিপণন দপ্তর। ৩০ নভেম্বরের মধ্যে হিমঘরের মজুত সমস্ত আলু বের করতে হবে। সমগ্র পরিস্থিতিতে শিলিগুড়ি সহ উত্তরবঙ্গের খুচরো বাজারে ফের তরতর করে বাড়ছে আলুর দাম। এনিয়ে কালোবাজারির আশঙ্কা করছে বিভিন্ন মহল। এব্যাপারে খোঁজখবর শুরু করেছে প্রশাসন।
Advertisement
বাংলাদেশে আলুর চাহিদা ব্যাপক। চ্যাংরাবান্ধা, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে সেদেশে আলু রপ্তানি করছেন ব্যবসায়ীরা। সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরে আলু বোঝাই লরি বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে। তিন-চার দিনের মধ্যে চ্যাংরাবান্ধা দিয়েই পাঠানো হয়েছে ৩ লক্ষ ৭৫ হাজার কেজি আলু। যারমধ্যে বুধবারই বাংলাদেশে সাতটি ট্রাকে পাড়ি দিয়েছে ১ লক্ষ ৭৫ হাজার কেজি।
চ্যাংরাবান্ধা এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক উত্তম সরকার বলেন, বর্তমানে পাথর ও ডলোমাইটের পাশাপাশি আলুও বাংলাদেশে রপ্তানি হচ্ছে। উত্তরবঙ্গ আলু ব্যবসায়ী সমিতির কার্যকরী সম্পাদক বাবলু চৌধুরী বলেন, উত্তরবঙ্গের আলু ভিনদেশ ও ভিনরাজ্যে যায়। এতে অন্যায়ের কিছু নেই। বরং আলু ব্যবসায় লক্ষ্মীলাভ হচ্ছে।
এদিকে, নতুন আলু সবে জমি থেকে উঠতে শুরু করেছে। ডিসেম্বরের মধ্যে অধিকাংশ জমির আলু উঠবে। এঅবস্থায় ৩০ নভেম্বরের মধ্যে হিমঘর খালি করার নির্দেশ দিয়েছে কৃষি বিপণন দপ্তর। এতে ব্যবসায়ীদের একাংশের মধ্যে হিমঘর থেকে আলু বের করার হিড়িক পড়েছে। এঅবস্থায় বৃহস্পতিবার কোচবিহারের জামালদহ, চ্যাংরাবান্ধা সহ বিভিন্ন খুচরো বাজারে আলুর দাম ছিল ৩০ টাকা কেজির উপরে। শিলিগুড়িতেও এদিন আলুর দাম ছিল ৩৫-৩৬ টাকা কেজি। কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ারেও অবস্থাও ছিল একই। স্থানীয়রা বলেন, কয়েকদিন আগে আলু রপ্তানি নিয়ে রাজ্য সরকার নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। সেই সময় খুচরো বাজারে আলুর দাম নিয়ন্ত্রণে ছিল। ফের আলুর দাম বাড়ছে।
এদিকে, শিলিগুড়িতে হিমঘরে উপযুক্ত পরিমাণ আলু মজুত রয়েছে বলে খবর। প্রশাসন সূত্রের খবর, এখানে হিমঘরের দু’টি চেম্বারে ১১ হাজার ৮৩৬.৬৫ মেট্রিকটন আলু মজুত করা সম্ভব। এবার সেখানে মজুত করা হয়েছিল ৭৮৩২.২৫ মেট্রিকটন। এদিন পর্যন্ত সেখান থেকে বেরিয়েছে ৬৪৪৩.১০ মেট্রিকটন। অর্থাৎ এখনও মজুত আলুর পরিমাণ ১৩৮৯.১৫ মেট্রিকটন। এই পরিসংখ্যান দিয়ে প্রশাসনেকর আধিকারিকরা বলেন, শিলিগুড়িতে আলুর দাম বৃদ্ধির কোনও সম্ভাবনা নেই। কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে অসাধু ব্যবসায়ীরা আলু নিয়ে কালোবাজারি কায়েম করার চেষ্টা করছে বলে সন্দেহ। শিলিগুড়ির কৃষি বিপণন আধিকারিক তথা টাস্কফোর্সের সদস্য অনুপম মিত্র বলেন, রপ্তানির জেরে আলুর দাম বৃদ্ধির কথা নয়। তা হলেও এব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেব।
সম্পর্কিত সংবাদ