নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: বছর শেষেও হতাশা পিছু ছাড়ল না বিজেপিকে। সক্রিয় সদস্য খুঁজে পেতে হিমশিম দশা গেরুয়া শিবিরের। ২৯ ডিসেম্বর রাতের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আসানসোল সাংগঠনিক জেলায় বিজেপি সক্রিয় সদস্য সংখ্যা মাত্র ৬৯২! তাতেই হতাশা বাড়ছে গেরুয়া শিবিরের অন্দরে। প্রথমে দলের সক্রিয় সদস্য হওয়ার মাপকাঠি ছিল, যিনি একশোর বেশি সাধারণ সদস্য করাতে পারবেন তিনি সক্রিয় সদস্যর মর্যাদা পাবেন। পরে টার্গেট কমিয়ে করা হয় ৫০। এখন ২০ জন সাধারণ মানুষকে সদস্য করাতে পারলেই তিনিই বিজেপি সক্রিয় কার্যকর্তা। সেই লক্ষ্যও ছুঁতে পারছে না সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘বাঘ’ বলে খ্যাত বহু নেতা।
Advertisement
আবাঙালি অধ্যুষিত এলাকাতেও বিজেপির সদস্য হতে অনীহা দিন দিন বেড়েছে। তাতেই সিঁদুরে মেঘ দেখছেন বহু তাবড় নেতাই। কিন্তু কেন এমন দশা? রাজনৈতিক মহলের পর্যবেক্ষেণ, ১০ বছর কেন্দ্রে ক্ষমতায় থাকার পরও রেল, ইসিএলের মতো কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থার শ্রমিক সংগঠনে দাগ কাটতে পারেনি বিজেপি। সম্প্রতি পূর্ব রেল ও সিএলডব্লু নির্বাচনে হালে পানি পায়নি পদ্ম বাহিনী। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এসএস আলুওয়ালিয়ার মতো বর্ষীয়ান নেতাকে গো-হারা হেরে শিল্পাঞ্চল ছাড়তে হয়েছে। এগুলিই সদস্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে মূল অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরই পাশাপাশি আরও একটি মতও উঠে আসছে রাজনৈতিক শিবির থেকে। তা হল, আসানসোল সাংগঠনিক জেলায় বিজেপির দু’জন বিধায়ক রয়েছেন। আসানসোল পুরসভারও প্রধান বিরোধী দলও বিজেপি। তা সত্ত্বেও মানুষের সমস্যা নিয়ে ঝাঁঝালো আন্দোলন দেখা যায়নি।
দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক শ্রীদীপ চক্রবর্তী অবশ্য বলেন, ‘মানুষের সমর্থন বিজেপির সঙ্গেই রয়েছে। এখনও সদস্য সংগ্রহ অভিযান চলছে।’ সেই অভিযানকে ‘চূড়ান্ত ফ্লপ’ বলে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল। দলের রাজ্য সম্পাদক ভি শিবদাসন দাসু বলেন, ‘বিজেপি সহ কোনও বিরোধীদেরই অস্তিত্ব শিল্পাঞ্চলে নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের ছোঁয়া প্রতিটি বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছে। বিরোধীরা মানুষের পাশে থাকেন না। ওঁদের দলের সদস্য হবেন কেন? তাই বিজেপির অভিযান চূড়ান্ত ফ্লপ।’
বিজেপিতে শিল্পাঞ্চলবাসীর মোহভঙ্গ নিয়ে তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা দিয়েছে কংগ্রেস। দলের জেলা সভাপতি দেবেশ চক্রবর্তী বলেন, ‘বাংলার কৃষ্টি-সংস্কৃতির সঙ্গে বিজেপি একাত্ম হতে পারেনি। শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য, রামকৃষ্ণ, বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ, কাজী নজরুলের ভাব-দর্শনের সঙ্গে নিজেদের মেলাতে পারেনি। আগামীদিনেও পারবে কিনা সন্দেহ। তার উপর প্রতিপদে ওদের দিল্লির নেতৃত্ব বাংলা-বিরোধী, বাংলাকে বঞ্চনা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তা ছাড়া জাতীয় স্তরে সর্ববৃহৎ দল হয়েও গঠনমূলক আন্দোলন করতে চরম ব্যর্থ।’
বাংলায় বিজেপির উত্থান ভূমি বলে পরিচিত শিল্পাঞ্চল। ২০১৪ ও ২০১৯ দু’টি লোকসভা নির্বাচনেই আসানসোল লোকসভা আসনে জয়লাভ করে তারা। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও আসানসোল সাংগঠনিক জেলার সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে দু’টি তাদের ঝুলিতে আসে। তারপর থেকেই ক্রমশ দুর্বল হয়েছে বিজেপি। দলের এমপি শত্রুঘ্ন সিনহা তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করে লোকসভা উপনির্বাচনে প্রার্থী হন। রেকর্ড ভোটে জয়লাভও করেন। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও তিনি জয়ী হন। বর্ধমান-দুর্গাপুর কেন্দ্র থেকেও হারতে হয়েছে বিজেপির দোর্দন্ডপ্রতাপ নেতা দিলীপ ঘোষকে। গোটা বাংলাতেও আশানুরূপ ফল হয়নি। এইসব বিষয়গুলি বিজেপির সদস্য সংগ্রহ অভিযানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বাংলা থেকে এক কোটি সদস্য করার ডাক দিয়েছিল বিজেপির চানক্য অমিত শাহ। সেখানে দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদিকা অগ্নিমিত্রা পলের বিধানসভা এলাকা বিজেপি এখনও পর্যন্ত সক্রিয় সদস্য সংখ্যা মাত্র ১৫৭ জন। বিজেপি বিধায়ক অজয় পোদ্দারের কুলটিতে সক্রিয় সদস্য মাত্র ১২২ জন। জামুড়িয়া ও পাণ্ডবেশ্বরে মাত্র ৪২ জন করে সক্রিয় সদস্যর মর্যাদা পেয়েছেন। বারাবনিতে ৭১ জন। রানিগঞ্জে ৮৩ জন। আসানসোল উত্তরে এখনও পর্যন্ত ১৭৫ জন সক্রিয় সদস্য হওয়ার মাপকাঠি পার করতে পেরেছেন।
দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক শ্রীদীপ চক্রবর্তী অবশ্য বলেন, ‘মানুষের সমর্থন বিজেপির সঙ্গেই রয়েছে। এখনও সদস্য সংগ্রহ অভিযান চলছে।’ সেই অভিযানকে ‘চূড়ান্ত ফ্লপ’ বলে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল। দলের রাজ্য সম্পাদক ভি শিবদাসন দাসু বলেন, ‘বিজেপি সহ কোনও বিরোধীদেরই অস্তিত্ব শিল্পাঞ্চলে নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের ছোঁয়া প্রতিটি বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছে। বিরোধীরা মানুষের পাশে থাকেন না। ওঁদের দলের সদস্য হবেন কেন? তাই বিজেপির অভিযান চূড়ান্ত ফ্লপ।’
বিজেপিতে শিল্পাঞ্চলবাসীর মোহভঙ্গ নিয়ে তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা দিয়েছে কংগ্রেস। দলের জেলা সভাপতি দেবেশ চক্রবর্তী বলেন, ‘বাংলার কৃষ্টি-সংস্কৃতির সঙ্গে বিজেপি একাত্ম হতে পারেনি। শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য, রামকৃষ্ণ, বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ, কাজী নজরুলের ভাব-দর্শনের সঙ্গে নিজেদের মেলাতে পারেনি। আগামীদিনেও পারবে কিনা সন্দেহ। তার উপর প্রতিপদে ওদের দিল্লির নেতৃত্ব বাংলা-বিরোধী, বাংলাকে বঞ্চনা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তা ছাড়া জাতীয় স্তরে সর্ববৃহৎ দল হয়েও গঠনমূলক আন্দোলন করতে চরম ব্যর্থ।’
বাংলায় বিজেপির উত্থান ভূমি বলে পরিচিত শিল্পাঞ্চল। ২০১৪ ও ২০১৯ দু’টি লোকসভা নির্বাচনেই আসানসোল লোকসভা আসনে জয়লাভ করে তারা। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও আসানসোল সাংগঠনিক জেলার সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে দু’টি তাদের ঝুলিতে আসে। তারপর থেকেই ক্রমশ দুর্বল হয়েছে বিজেপি। দলের এমপি শত্রুঘ্ন সিনহা তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করে লোকসভা উপনির্বাচনে প্রার্থী হন। রেকর্ড ভোটে জয়লাভও করেন। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও তিনি জয়ী হন। বর্ধমান-দুর্গাপুর কেন্দ্র থেকেও হারতে হয়েছে বিজেপির দোর্দন্ডপ্রতাপ নেতা দিলীপ ঘোষকে। গোটা বাংলাতেও আশানুরূপ ফল হয়নি। এইসব বিষয়গুলি বিজেপির সদস্য সংগ্রহ অভিযানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বাংলা থেকে এক কোটি সদস্য করার ডাক দিয়েছিল বিজেপির চানক্য অমিত শাহ। সেখানে দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদিকা অগ্নিমিত্রা পলের বিধানসভা এলাকা বিজেপি এখনও পর্যন্ত সক্রিয় সদস্য সংখ্যা মাত্র ১৫৭ জন। বিজেপি বিধায়ক অজয় পোদ্দারের কুলটিতে সক্রিয় সদস্য মাত্র ১২২ জন। জামুড়িয়া ও পাণ্ডবেশ্বরে মাত্র ৪২ জন করে সক্রিয় সদস্যর মর্যাদা পেয়েছেন। বারাবনিতে ৭১ জন। রানিগঞ্জে ৮৩ জন। আসানসোল উত্তরে এখনও পর্যন্ত ১৭৫ জন সক্রিয় সদস্য হওয়ার মাপকাঠি পার করতে পেরেছেন।



