Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পরাধীনতা থেকে নারীশক্তির বর্ণময় কোলাজ ভাবনায় মিলছে উত্তরপাড়া-শ্রীরামপুর

উত্তরপাড়া থেকে শ্রীরামপুর। পুজো মরশুমে শহরের স্বাভাবিক বিন্যাসে লেগেছে উতল হাওয়া।

পরাধীনতা থেকে নারীশক্তির বর্ণময় কোলাজ ভাবনায় মিলছে উত্তরপাড়া-শ্রীরামপুর
  • ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

অভিজিত্ চৌধুরী, চুঁচুড়া: উত্তরপাড়া থেকে শ্রীরামপুর। পুজো মরশুমে শহরের স্বাভাবিক বিন্যাসে লেগেছে উতল হাওয়া। বাহারি থিমের মণ্ডপসজ্জা আর আলোকসজ্জায় ইতিমধ্যেই চিরচেনা শহরের মানচিত্রে বদলের টান। বিচিত্র সব প্রতিমা আর থিমের নানা সংবেদে জেলার বাতাসে লেগেছে কল্পনার তীব্র ঘূর্ণি। ইতিমধ্যে শপিংয়ের ফাঁকে অসমাপ্ত মণ্ডপেই ভিড় জমাচ্ছে উৎসাহীরা। ঘরে ঘরে শুরু হয়েছে পুজোয় ঘোরার নিজস্ব মানচিত্র নির্মাণ। এই আবহে গঙ্গার পাড়ে থিম পুজোগুলিতে এখন চলছে শেষবেলার রূপটান। 

Advertisement

হুগলির যাবতীয় জনপদের মধ্যে উত্তরপাড়ার একটি নিজস্বতা আছে। সাবেক রাজার ভূমে থিমপুজোর সংখ্যা বেশি নয়। কিন্তু যে ক’টি থিমপুজো হয়, সেখানেও ধরা পড়ে সেই সাবেক রাজকীয় মেজাজ। তেমনই একটি পুজো গ্রিনগার্ডেন সর্বজনীন। তাদের এবারের থিম ‘শক্তি’। শাস্ত্রগতভাবেই দুর্গা শক্তিস্বরূপা। সেই দেবীর আবাহনে নাগরিক সমাজের ‘শক্তিপুঞ্জ’ অর্থাৎ নারীশক্তির জয়জয়কার করতে চেয়েছেন উদ্যোক্তারা। মণ্ডপসজ্জাতে নারীর আত্মশক্তির উদ্বোধন ও তার বাহ্যিক রূপের মোহনবিন্যাস দেখা যাবে। পুলিশ থেকে চিকিৎসক, আইনজীবী থেকে মহাকাশচারী— নারী রান্নাঘর আর আঁতুড়ঘরের বলয় থেকে বেরিয়েছে বহুকাল। সেই রূপান্তরকেই সম্মানিত করা হয়েছে মণ্ডপসজ্জায়। প্রতিমায়ও থাকছে নারীশক্তির আধুনিক উদযাপনের ধারাভাষ্য। দেবীদের হাত ধরে এসেছে শিশু গণেশ, শিশু কার্তিক। বাঙালির ঘরের উমারই সাজ দেবীর। অসুর এখানে সামাজিক অপরাধে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত। অসুরকে বেড়ি পরিয়ে টেনে নিয়ে যেতে দেখা যাবে দেবীকে। পুজো উদ্যোক্তা দীপ্তদীপ ঘোষ বলেন, ‘আমরা কিছু স্লোগান সহ প্ল্যাকার্ড ব্যবহার করব। আলোকসজ্জাও থিমের সঙ্গে মানানসই করা হচ্ছে।’ 
উত্তরপাড়া ছাড়লেই শ্রীরামপুর। সেখানে স্বাধীনতা সংগ্রামে নারীর ভূমিকার ইতিকথা সাজিয়ে বসেছে আপনজন সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটি। আছেন নেতাজি সুভাষও। পুজো উদ্যোক্তা তথা শ্রীরামপুর পুরসভার কাউন্সিলার উত্তম রায় বলেন, ‘স্বাধীনতা এসেছে কিন্তু সুভাষ ফেরেনি—এই বিষয়টিই আমরা মূল প্রতিপাদ্য করেছি। সঙ্গে থাকছে নারী স্বাধীনতা সংগ্রামী ও বাঙালি শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য।’ জানা গিয়েছে, সমস্ত মণ্ডপসজ্জাই হচ্ছে হাতে আঁকা ছবি দিয়ে। নেতাজি, ক্ষুদিরাম, নেতাজির ঝাঁসি ব্রিগেড, মহিলা স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অকথিত কাহিনি ধরা থাকছে রঙ-তুলিতে। আলোকসজ্জাও থাকছে থিমের অনুসরণে। প্রতিমাতে থাকছে চমক। মাটির প্রতিমা, কিন্তু দেবী মহিষাসুরকে বধ করছেন না। বস্তুত মহিষাসুরই নেই। তার বদলে আছে সাবেক ইংরেজ রাজশক্তির এক প্রতিভূ। গোরা সাহেব দেবীর পদতলে বসে ক্ষমা প্রার্থনা করছেন। দেবীর হাতেও অস্ত্র নেই। তিনি সেই সব নারী বিপ্লবীর প্রতিভূ, যাঁরা দেশের জন্য নিজেদের বিলিয়ে দিয়েছিলেন। প্রতি পলকে বদলে যাচ্ছে শহরের আদল। মসৃণ, অমসৃণ পিচরাস্তা ঢাকা পড়েছে বাহারি কাপড়ে। দফায় দফায় সেই আচ্ছাদন হাতছানি দিয়ে ডাকছে। কোমর কষছে নাগরিক মহল্লা। শহরের এই ভোলবদল ঘিরে একসুরে বাঁধা পড়ছে নবীন-প্রবীণের আবেগ। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ