নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: পুজোর মুখেও বেহাল হয়ে পড়ে রয়েছে উত্তরপাড়া পুর এলাকার সমস্ত রাস্তা। রাস্তার প্রায় হাড়মজ্জা বেরিয়ে পড়েছে। তার উপরে বৃষ্টিতে হাঁটাচলা দায়। সবমিলিয়ে শহরের বুকে পথচলা কার্যত হয়ে উঠেছে অসম্ভব। চারচাকা হোক বা দু’চাকা, জীবন হাতে নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে মানুষকে। তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। অভিযোগ, বেহাল পরিস্থিতি দেখেও পুরসভা কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। কিছুদিন আগে পুরসভা ও স্থানীয় বিধায়ক ১০ অক্টোবরের মধ্যে সব রাস্তা ঝাঁ-চকচকে করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। বাস্তবে তা রূপায়ণ না হওয়ায় নাগরিকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ক্ষোভ।
অন্যদিকে বেহাল রাস্তা ঘিরে রাজনীতি উঠেছে চূড়ান্ত পর্যায়ে। সিপিএম একাধিকবার স্বেচ্ছাসেবা দিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার অংশবিশেষে জোড়াতাপ্পি দিয়েছে। সরকারের নিষ্ক্রিয়তাকে প্রকাশ্যে আনার এই কর্মসূচি সাড়া ফেলেছে নাগরিক মহলে। কিন্তু অভিযোগ, তারপরও প্রশাসনিক তরফে কোনো হেলদোল দেখা যায়নি। রাস্তা আদৌ পুজোর আগে সারানো হবে কি না তা নিয়ে ২০ দিন আগে নতুন করে ধন্দ তৈরি হয়েছে। রাস্তা সারানো নিয়ে পুরসভার কোনো বক্তব্য মেলেনি। কিন্তু পুরসভার তত্ত্বাবধায়ক ও উত্তরপাড়ার বিজেপি বিধায়ক দীপাঞ্জন চক্রবর্তী বলেছেন, ‘রাস্তা সারাইয়ের টাকা বরাদ্দ থেকে পরিকল্পনা সবই তৈরি হয়ে গিয়েছে। কিন্তু লাগাতার বৃষ্টির কারণে আমরা মেরামতের কাজে নামতে পারছি না। আবহাওয়ার যেরকম পরিস্থিতি তাতে এখন রাস্তা সারালে সমস্ত টাকা জলে যাবে। জনগণের ট্যাক্সের টাকা আমরা ধ্বংস করতে পারি না’। তবে কি পুজোর আগে আদৌ রাস্তা সারাই হবে? বিধায়ক বলেন, ‘আবহাওয়া ভালো না হলে রাস্তার কাজে হাত দেওয়া হবে না। পুজো নিয়ে আমাদের সকলের আবেগ আছে। আমরা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছি।’ সিপিএমের জেলা সম্পাদক দেবব্রত ঘোষ বলেন, ‘রাস্তা সারাইয়ের কাজে আরও আগে হাত দেওয়ার প্রয়োজন ছিল। সেই সময় নিজেদের দখলদারি মজবুত করতে গিয়ে নাগরিক সমস্যার দিকে বিজেপি এবং প্রশাসন নজর দেয়নি। স্থানীয় সিপিএম নেতৃত্ব রাস্তা সারাই নিয়ে বারবার দাবি তুললেও তাতে কর্ণপাত করা হয়নি। তারই ফল ভুগতে হচ্ছে নাগরিকদের।’ স্থানীয় বাসিন্দা সৌরভ দাস বলেন, ‘উত্তরপাড়া শহরে কোনও রাস্তা আস্ত নেই। তা নিয়ে পুর প্রশাসনের কোনো উদ্যোগ নেই। রাস্তা সংস্কারের একটাই পদ্ধতি হয় এমন তো নয়। আসলে নাগরিকদের প্রতি দায়িত্বের অভাবটা বড়ো কারণ।’
শুধু নাগরিক বা রাজনৈতিক মহল নয়, রাস্তার বেহাল দশা নিয়ে পুজো উদ্যোক্তা থেকে ব্যবসায়ী, সবমহলেই ক্ষোভের আবহ তৈরি হয়েছে। শারদোৎসবের আর হাতেগোনা দিন পড়ে আছে। তার আগে পথের অসুর নিয়ে প্রতিদিন উত্তরপাড়ার জনজীবনের সুর কাটছে।