সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: জঙ্গিপুর মহকুমায় বিদুৎ বিভ্রাট অব্যাহত। ঘনঘন লোডশেডিংয়ে জেরবার মানুষ। মহকুমায় দু’টি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থাকা সত্ত্বেও কেন কমছে না বিদ্যুৎ বিভ্রাট, প্রশ্ন মানুষের। বিদ্যুৎ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বিদ্যুতের ঘাটতি নেই। বিদ্যুৎ অফিসকে না জানিয়ে এসি, কুলার ও ফ্রিজ চালানোতেই সমস্যা দেখা দিচ্ছে। লোড নিতে না পেরে একের পর এক ট্রান্সফর্মার বসে যাচ্ছে। গত এক মাসে প্রায় ১০০টি ট্রান্সফর্মার বদল করা হয়েছে। বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী আখরুজ্জামান বলেন, বিদ্যুৎতের ঘাটতি নেই। মানুষের অসচেতনতার কারণেই বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটছে। মানুষকে আরও সচেতন হতে হবে। ফরাক্কা এনটিপিসি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মানবসম্পদ উন্নয়নের জেনারেল ম্যানেজার অলোককুমার রণবীর বলেন, পরিকাঠামো গড়ে বিদ্যুতের উৎপাদন করা এনটিপিসির কাজ। উৎপাদিত বিদ্যুৎ রাজ্য সরকারকে সরবরাহ করা হয়। এনটিপিসি বিদ্যুৎ পরিষেবা দিতে পারে না।
এদিকে জঙ্গিপুর মহকুমার প্রতিটি ব্লকেই বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। দিনে ও রাতে সময়ে অসময়ে বিদ্যুৎ চলে যায়। একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর তার দেখা মেলে না বলে এলাকাবাসীর দাবি। ফরাক্কার আঁধোয়া এলাকায় গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জেরবার সাধারণ মানুষ। পাশাপাশি, সূতি সামশেরগঞ্জ, রঘুনাথগঞ্জ সহ জঙ্গিপুরেও বিদ্যুৎ বিভ্রাট অব্যাহত। বিদ্যুৎ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, মানুষ ঘরে এসি ও কুলার ইনস্টল করলেও তা বিদ্যুৎ দপ্তরকে জানাচ্ছে না। বিদ্যুৎ অফিসকে না জানিয়ে এসি ইনস্টল করলে হতে পারে মোটা জরিমানা ও। যদিও ৯৯ শতাংশ গ্রাহক অফিসের অনুমতি নেয় না বলে বিদ্যুৎ দপ্তরের দাবি। লোড নিতে না পারায় ট্রান্সফর্মার পুড়ে অকেজো হয়ে পড়ছে। গত ২৩ দিনে ৯০টি ট্রান্সফর্মার বদলেছে জঙ্গিপুর বিদ্যুৎ সাপ্লাই অফিস।
জঙ্গিপুর বিদ্যুৎ সাপ্লাই অফিসের এক আধিকারিক বলেন, এসির অনুমতি না নেওয়ায় কোন এলাকায় কত বিদ্যুৎ প্রয়োজন তা জানা সম্ভব হয় না। ফলে বিদ্যুৎতের ঘাটতি হয়। এদিকে অত্যধিক লোডের কারণেই ট্রান্সফর্মার পুড়ে যায়। ট্রান্সফর্মার বদল করতেও সময় লাগে। সাধারণ মানুষ এসব বুঝতে চায় না। তিনি আরও বলেন, কোনও এলাকায় ট্রান্সফর্মারের দরকার থাকলে এলাকাবাসী তা বসাতে দেয় না। বিদ্যুৎ কর্মীদের সঙ্গে ঝামেলা করে।